Advertisement
E-Paper

হরমুজ়ের কাছে ভারতীয় ট্যাঙ্কারে হামলা! নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূতকে তলব করে প্রতিবাদ জানাল বিদেশ মন্ত্রক

শনিবার ব্রিটিশ সেনার তরফে প্রথম জানানো হয়েছিল যে, ইরানের ‘রেভলিউশনারি গার্ড’ দু’টি পণ্যবাহী ট্যাঙ্কারে গুলি চালিয়েছে। ঘটনাটি ওমানের উত্তর-পূর্ব উপকূল থেকে ২০ নটিক্যাল মাইল দূরে হয়েছে বলে জানা যায়।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৮ এপ্রিল ২০২৬ ২০:১৬
MEA summons Iranian envoy after Indian-flagged tanker shot at near Strait of Hormuz

হরমুজ় প্রণালী। —প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

হরমুজ় প্রণালী পেরোনোর সময় ভারতের একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারকে নিশানা করে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে ইরানের বিরুদ্ধে। সেই ঘটনায় নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ফাতালিকে তলব করল ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। সংবাদসংস্থা এনআইএ সূত্রে খবর, শনিবার ইরানি রাষ্ট্রদূতের কাছে ভারতীয় জাহাজে হামলার ঘটনার প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

বিদেশ মন্ত্রকের তরফে বিবৃতি দিয়ে ইরানি রাষ্ট্রদূতকে তলবের বিষয়টা জানিয়েছে। বিবৃতি অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যায় ফাতালির সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের সচিব। সেই বৈঠকে ভারতীয় জাহাজে হামলার বিষয় নিয়ে উদ্বেগপ্রকাশ করেন তিনি।

শনিবার ব্রিটিশ সেনার তরফে প্রথম জানানো হয়েছিল যে, ইরানের ‘রেভলিউশনারি গার্ড’ দু’টি পণ্যবাহী ট্যাঙ্কারে গুলি চালিয়েছে। ঘটনাটি ওমানের উত্তর-পূর্ব উপকূল থেকে ২০ নটিক্যাল মাইল দূরে হয়েছে বলে জানা যায়। ‘জগ অর্ণব’ নামের ভারতীয় ট্যাঙ্কারটি ২০ লক্ষ ব্যারেল তেল নিয়ে ইরাক থেকে আসছিল। ওই ট্যাঙ্কারটির পিছনেই ছিল আরও একটি ভারতীয় ট্যাঙ্কার ‘সানমার হেরাল্ড’। সূত্রের খবর, ‘জগ অর্ণব’ লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। যদিও এই ঘটনায় হতাহতের কোনও খবর নেই। শুধু তা-ই নয়, আরও চার ভারতীয় জাহাজ হরমুজ় পেরোতে গেলে ‘বাধা’ পায় বলেও জানা গিয়েছে।

Advertisement

হরমুজ় নিয়ে টানাপড়েন অব্যাহত। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ শুরুর পর পরই ইরান হরমুজ় ‘অবরোধ’ করে। তারা স্পষ্ট জানায়, কোনও জাহাজ ওই জলপথ পার করতে দেবে না। কেউ পার করার চেষ্টা করলে, সেখানে হামলা চালানো হবে। তবে পরে ভারত-সহ বেশ কয়েকটি দেশের ক্ষেত্রে হরমুজ়ে ছাড় দেয় ইরান। তার পর থেকে কয়েকটি ভারতীয় জাহাজ হরমুজ় পেরিয়ে ভারতে এসেছে। তবে ইসলামাবাদে ইরান-আমেরিকার শান্তিবৈঠক ভেস্তে যাওয়ার পর নতুন করে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে হরমুজ়ে।

ইসলামাবাদের বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার পর আমেরিকা ঘোষণা করে, তারাও হরমুজ় ‘অবরোধ’ করবে। ইরান থেকে আগত কোনও জাহাজকে হরমুজ় পার করতে দেওয়া হবে না। সেই টানাপড়েনের মধ্যে শুক্রবার সন্ধ্যায় ইরানের তরফে দাবি করা হয়, তারা হরমুজ়ে অবরোধ তুলে নিচ্ছে। যত দিন ইজ়রায়েন এবং লেবাননের মধ্যে সংঘর্ষবিরতি থাকবে, তত দিন হরমুজ়ে কোনও জাহাজকে আটকাবে না তারা। তবে সেই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতি পুরো পাল্টে যায়। আমেরিকা জানায়, তারা হরমুজ়ে ‘অবরোধ’ তুলতে রাজি নয়। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আবার হরমুজ়ে অবরোধ শুরুর কথা ঘোষণা করেছে মোজ়তবা খামেনেইয়ের দেশ। ইরানের সামরিক কমান্ড শনিবার বিবৃতিতে বলেছে, “যত ক্ষণ না ইরানে আগত সকল জাহাজের চলাচলের স্বাধীনতা আমেরিকা দিচ্ছে, তত ক্ষণ হরমুজ় প্রণালীতে জাহাজ চলাচল কঠোর ভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকবে।’’ সেই আবহে ভারতীয় জাহাজে হামলার খবরে উদ্বেগপ্রকাশ করল নয়াদিল্লি।

সংক্ষেপে
  • ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
  • আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
  • শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
সর্বশেষ
২ ঘণ্টা আগে
US-Iran Conflict
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy