সুযোগ পেলেই চোরাগোপ্তা হামলা! সাবেক পারস্যের হাতে মার খাওয়ার প্রতিশোধ নিচ্ছে ‘নিরীহ’ আরব রাষ্ট্র
মার্কিন গণমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিশোধ নিতে গোপনে ইরানে প্রত্যাঘাত শানাচ্ছে পারস্য উপসাগরের একটি আরব রাষ্ট্র। ফলে আমেরিকার সঙ্গে সংঘর্ষবিরতির মধ্যেও স্বস্তি পাচ্ছে না তেহরান।
আর চুপ করে বসে থেকে পড়ে পড়ে মার খাওয়া নয়। ইরানে এ বার পাল্টা হামলা শুরু করল সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (ইউএই)। সাবেক পারস্য মুলুকের তেল শোধনাগারকে নিশানা করেছে তারা। সামরিক বিশ্লেষকদের দাবি, পশ্চিম এশিয়ার লড়াইয়ে আবু ধাবি যে ‘মেগা এন্ট্রি’ নেবে, তা ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি তেহরান। এর ফলে উপসাগরীয় এলাকায় বদলাতে পারে যুদ্ধের অভিমুখ। পাশাপাশি, বিশ্ব জুড়ে জ্বালানি সঙ্কট যে ভয়ঙ্কর আকার নিতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।
ইরানের উপর হামলার কথা সরকারি ভাবে স্বীকার করেনি আমিরশাহি। যদিও সম্প্রতি গোটা বিষয়টি প্রকাশ্যে আনে জনপ্রিয় মার্কিন গণমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’। একটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে তারা জানিয়েছে, চলতি বছরের ৮ এপ্রিল পারস্য উপসাগরের লাভান দ্বীপে বোমাবর্ষণ করে আবু ধাবির বিমানবাহিনী। তাদের লক্ষ্যবস্তু ছিল সেখানকার তেল শোধনাগার। আক্রমণের জেরে আগুনের গ্রাসে চলে যায় ওই পরিশোধন কেন্দ্র। ফলে বিপুল লোকসানের মুখে পড়েছে তেহরান।
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, এপ্রিলের গোড়ায় ইরান সংঘর্ষে পাঁচ সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফলে মারমুখী অবস্থান থেকে সরে আসে তেহরান। সামরিক বিশ্লেষকদের অনুমান, তারই সুযোগ নিয়ে লাভানের তেল শোধনাগার উড়িয়ে দেওয়ার ছক কষে আমিরশাহির বিমানবাহিনী। সবার অলক্ষে সেখানে অভিযান চালায় আবু ধাবির লড়াকু জেট। ইউএই-র আক্রমণে কয়েক মাসের জন্য পরিশোধন কেন্দ্রটি অচল হয়ে গিয়েছে বলে সূত্র মারফত মিলেছে খবর।
লাভানের শোধনাগার আক্রান্ত হওয়ার পরই প্রকাশ্যে বিবৃতি দেয় তেহরান। জানায়, শত্রু সেনার হামলায় পরিশোধন কেন্দ্রে আগুন ধরে গিয়েছে। পাশাপাশি, ‘ইটের জবাব পাথরে’ দিতে আমিরশাহি এবং কাতারে ফের ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা চালায় সাবেক পারস্যের শিয়া ফৌজ। তবে লাভানের ঘটনায় কোনও এক আশ্চর্য কারণে তাদের মুখে সরাসরি শোনা যায়নি আবু ধাবির নাম। শুধু তা-ই নয়, ইউএই-র লড়াকু জেট চিহ্নিত করতেও ব্যর্থ হয় তারা।
ইরানের লাভান দ্বীপে আমিরশাহির বিমানবাহিনীর এ-হেন সফল অভিযানের নেপথ্যে একাধিক কারণ চিহ্নিত করেছেন সামরিক বিশ্লেষকদের একাংশ। তাঁদের কথায়, যুদ্ধের গোড়াতেই তেহরানের যাবতীয় আকাশ প্রতিরক্ষা (এয়ার ডিফেন্স) ব্যবস্থা এবং রেডার গুঁড়িয়ে দেয় ইজ়রায়েল এবং আমেরিকার বায়ুসেনা। ফলে পশ্চিমি প্রযুক্তির ‘স্টেলথ’ শ্রেণির আবু ধাবির লড়াকু জেট চিহ্নিত করা সাবেক পারস্যের শিয়া ফৌজের পক্ষে ছিল একরকম অসম্ভব।
আরও পড়ুন:
বিশেষজ্ঞেরা আবার ইরান যুদ্ধে আমিরশাহির জড়িয়ে পড়াকে কাকতালীয় ঘটনা মানতে নারাজ। লড়াইয়ের গোড়ার দিকে ‘নিরপেক্ষ’ অবস্থান বজায় রাখছিল আবু ধাবি। আরব রাষ্ট্রটির ভিতরে রয়েছে মার্কিন সেনাঘাঁটি। প্রত্যাঘাতের সময় ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনে এগুলিকে নিশানা করে তেহরানের আধা সেনা ‘ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোর’ বা আইআরজিসি। এই নিয়ে সুর চড়ালেও সংঘাত এড়িয়ে যাওয়ার দিকেই ঝুঁকেছিল ইউএই।
অচিরেই এই ‘সহনশীলতা’র বড় খেসারত দিতে হয় আমিরশাহিকে। পর্যটনকেন্দ্র থেকে শুরু করে আবু ধাবি ও দুবাইয়ের জনবহুল শহর, জ্বালানি পরিকাঠামো এবং বিমানবন্দরকেও নিশানা করতে শুরু করে আইআরজিসি। ইউএই-র দাবি, তাদের লক্ষ্য করে ২,৮০০-র বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরানি ফৌজ। এই সংখ্যা যুদ্ধের মূল প্রতিপক্ষ ইজ়রায়েলের চেয়ে অনেক কম। এর জেরেই ক্ষোভে ফুঁসতে থাকে আরব রাষ্ট্রটির রাজতান্ত্রিক সরকার ও সেনা।
‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পশ্চিম এশিয়ার লড়াইয়ে আবু ধাবির লোকসানের পরিমাণ সর্বাধিক বললে অত্যুক্তি হবে না। ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলায় মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে আমিরশাহির অন্যতম ঝাঁ-চকচকে শহর দুবাইয়ের ফেয়ারমন্ট দ্য পাম হোটেলের। এ ছাড়া আরব রাষ্ট্রটির ফুজ়াইরাহ তেল রফতানি টার্মিনাল পুরোপুরি ধ্বংস করেছে তেহরান। সেখান থেকে দিনে ১০ লক্ষ ব্যারেল খনিজ তেল রফতানি করত ইউএই।
গত এপ্রিলে আমিরশাহিতে অবস্থিত মার্কিন টেক জায়ান্ট অ্যামাজ়নের তৈরি দু’টি তথ্যভান্ডারে (ডেটা সেন্টার) আছড়ে পড়ে ইরানি ড্রোন। ফলে ব্যাঙ্কিং সংক্রান্ত ক্লাউড এবং অন্যান্য কম্পিউটার পরিষেবা বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় আবু ধাবি। পরে সেগুলি চালু হলেও একটি তথ্যভান্ডারকে আগের জায়গায় ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারেনি ইউএই। পাশাপাশি, দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তত দু’বার আক্রমণ চালায় আইআরজিসি। ফলে তড়িঘড়ি সেটা বন্ধ করতে বাধ্য হয় ওই উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্র।
আরও পড়ুন:
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের দাবি, একের পর এক এই ঘটনা ঘটতে থাকায় ইরানকে ‘বেপরোয়া শক্তি’ হিসাবে উল্লেখ করে আমিরশাহির বিদেশ মন্ত্রক। অবিলম্বে হামলা বন্ধ না হলে প্রত্যাঘাতের হুমকিও দেয় আবু ধাবি। যদিও তাতে কর্ণপাত করেনি তেহরান। ফলে ‘অবাধ্য’ আইআরজিসিকে শিক্ষা দেওয়ার সুযোগ খুঁজতে থাকে ইউএই। ট্রাম্পের সংঘর্ষবিরতির ঘোষণায় সেটা হাতে চলে আসায় সাবেক পারস্যের দ্বীপে মোক্ষম আঘাত হানতে দেরি করেনি তারা।
খনিজ তেল নির্ভর আমিরশাহির অর্থনীতির বড় অংশ জুড়ে আছে পর্যটন। তা ছাড়া দীর্ঘ দিন যাবৎ আবু ধাবি, শারজা বা দুবাইয়ের মতো এলাকাগুলি আরব দুনিয়ার সুন্দর সাজানো-গোছানো নিরাপদ শহরের তকমা পাওয়ায়, সেখানে ভিড় জমাচ্ছিলেন দুনিয়ার ধনকুবেরদের একাংশ। কিন্তু হঠাৎ করে সেখানে ইরানি আক্রমণ শুরু হওয়ায় ইউএই ছাড়তে তাঁদের মধ্যে পড়ে যায় হুড়োহুড়ি। একে আর্থিক দিক থেকে উপসাগরীয় রাষ্ট্রটির বড় ধাক্কা বলা যেতে পারে।
ইরান যুদ্ধে আবু ধাবির জড়িয়ে পড়া নিয়ে গণমাধ্যমে মুখ খুলেছেন লন্ডনের ‘রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউট ফর ডিফেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ়’-এর সিনিয়র ফেলো এইচএ হেলিয়ার। তাঁর কথায়, ‘‘আমিরশাহির কর্তা-ব্যক্তিরা বার বার বলছিলেন, তাঁরা যুদ্ধ চান না। কিন্তু পরিস্থিতি যে দিকে যাচ্ছিল, তাতে আবু ধাবির পক্ষে চুপ করে বসে থাকা সম্ভব ছিল না। বরং উপসাগরীয় রাষ্ট্রটির সংঘর্ষে ঝাঁপিয়ে পড়াকে সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে হয়েছে।’’
পশ্চিমি গণমাধ্যমের একাংশের দাবি, গত মার্চ থেকেই ধীরে ধীরে ইরান যুদ্ধে জড়াতে শুরু করে আমিরশাহি। ওই সময় সাবেক পারস্যের আকাশে চক্কর কাটা একটি যুদ্ধবিমান ও ড্রোনের ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসতেই দানা বাঁধে সন্দেহ। কারণ, সেগুলি ইজ়রায়েল বা আমেরিকার ছিল না। ভিডিয়ো দেখে বিশ্লেষকদের একাংশ তাকে ফরাসি জেট ‘মিরাজ-২০০০’ এবং চিনা পাইলটবিহীন যান ‘উইং লুং’ বলে চিহ্নিত করেন। বর্তমানে এই দু’টিই আছে আবু ধাবির বিমানবাহিনীর বহরে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক ফেডারেল রিজ়ার্ভের কর্তা-ব্যক্তিদের সঙ্গে দেখা করেন আমিরশাহির কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের প্রধান খালেদ মহম্মদ বালামা। ওই বৈঠকে যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি বাবদ ওয়াশিংটনের কাছে কয়েক কোটি ডলার চেয়ে বসেন তিনি। সংশ্লিষ্ট অর্থ তেল এবং গ্যাস পরিকাঠামোর মেরামতিতে খরচের আশ্বাস দিয়েছে আবু ধাবি। সূত্রের খবর, ‘কারেন্সি সোয়াপ’ ইস্যুতেও আলোচনা করেছে দু’পক্ষ।
এখন প্রশ্ন হল, কী এই ‘কারেন্সি সোয়াপ’? আর্থিক লোকসান এড়াতে কেন একে ঢাল করতে চাইছে আমিরশাহি? আর্থিক বিশ্লেষকদের কথায়, বিশেষ পরিস্থিতিতে একটি মুদ্রায় ঋণ নিয়ে অন্য মুদ্রায় তার সুদ পরিশোধ করে থাকে কোনও রাষ্ট্র। একেই বলা হয় ‘কারেন্সি সোয়াপ’। নিজের দেশের মুদ্রার মূল্য ঠিক রাখতে সাধারণত এই সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। আর তাই যুদ্ধের মধ্যে এই ব্যবস্থায় আমেরিকার সাহায্যে নিজেদের অর্থনীতি এবং পরিকাঠামো ঠিক করতে চাইছে আবু ধাবি।
বিশ্লেষকদের কথায়, খালেদ মহম্মদ বালামার দাবি মেনে নিলে অবিলম্বে কয়েক কোটি ডলারের ঋণ আবু ধাবির হাতে তুলে দেবে মার্কিন ফেডারেল রিজ়ার্ভ। এর সুদ নিজেদের মুদ্রা দিরহাম বা অন্য কোনও তৃতীয় মুদ্রায় পরিশোধের সুযোগ পাবে আমিরশাহি। এতে ডলারের পাশাপাশি হু-হু করে বাড়বে দিরহামের চাহিদা। বর্তমানে ডলারের নিরিখে ৩.৬৭ দিরহামে ঘোরাফেরা করছে আমিরশাহির মুদ্রা। এই সূচকের পতন কোনও ভাবেই চাইছে না পশ্চিম এশিয়ার ওই আরব মুলুক।
তবে বালামার সফরের সময়েই পশ্চিম এশিয়ার আরব রাষ্ট্রগুলিকে ইরানের বিরুদ্ধে জোট বাঁধার আহ্বান জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। আবু ধাবির সামরিক অভিযানের নেপথ্যে ওয়াশিংটনের এই চাপকেই উড়িয়ে দিচ্ছেন না কেউই। বর্তমান পরিস্থিতিতে পরিকাঠামো ঠিক করতে আমেরিকার থেকে কোটি কোটি ডলার পেতে একরকম মরিয়া হয়ে উঠেছে আমিরশাহি। লাভানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সুনজরে চলে আসার সুযোগ যে ইউএই-র থাকছে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই।
এপ্রিলের শেষে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মোকাবিলায় তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা (এয়ার ডিফেন্স) ব্যবস্থা ‘আয়রন ডোম’ আমিরশাহিতে পাঠায় ইজ়রায়েল। ওই মাসেই আরব রাষ্ট্রটিতে মোতায়েন থাকা মার্কিন এয়ার ডিফেন্স ‘থাড’ (টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স) এবং তার রেডার উড়িয়ে দেয় আইআরজিসি। ‘আয়রন ডোম’-এর পাশাপাশি ইহুদিদের একটি সেনাদলও আবু ধাবিতে রয়েছে বলে খবর পাওয়া গিয়েছে।
ইরানের লাভান দ্বীপে আমিরশাহির হামলা নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটে রয়েছে মার্কিন প্রশাসন। সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে ‘কিছু জানা নেই’ বলে দায়সারা গোছের বিবৃতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ দফতরের (ডিপার্টমেন্ট অফ ওয়ার) সদর কার্যালয় পেন্টাগন। এর জেরে ওয়াশিংটনের প্রচ্ছন্ন মদত আবু ধাবি পাচ্ছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
সংবাদসংস্থা ‘রয়টার্স’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমিরশাহির পাশাপাশি ইরানে গোপনে হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব। বেশ কয়েকটি জায়গায় বোমাবর্ষণ করেছে রিয়াধের বিমানবাহিনী। এতে তেহরানের কোন কোন এলাকার ক্ষতি হয়েছে, তা অবশ্য স্পষ্ট নয়।
এ বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইজ়রায়েল যৌথ ভাবে ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করলে পশ্চিম এশিয়ায় বেধে যায় যুদ্ধ। লড়াইয়ের প্রথম দিনেই জোড়া ‘সুপার পাওয়ার’-এর হামলায় মৃত্যু হয় তেহরানের শিয়া ধর্মগুরু তথা সর্বোচ্চ নেতা (সুপ্রিম লিডার) আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই-সহ একগুচ্ছ কমান্ডারের। এর পরই পাল্টা আঘাত হানতে পার্শ্ববর্তী আরব রাষ্ট্রগুলিকে বেছে নেয় আইআরজিসি, যার মধ্যে অন্যতম হল আমিরশাহি।
এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে খনিজ তেল রফতানিকারী দেশগুলির সংগঠন ‘ওপেক’ (অর্গানাইজ়েশন অফ পেট্রোলিয়াম এক্সপোর্টিং কান্ট্রিজ়) ত্যাগের ঘোষণা করে আবু ধাবি। ফলে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি সঙ্কট মেটাতে আমিরশাহির সঙ্গে আলাদা করে চুক্তির পথ ভারতের জন্য সুগম হয়। কিন্তু, ইউএই পুরোদস্তুর ইরানের সঙ্গে লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়লে সেটা আদৌ সম্ভব হবে কি না, তার উত্তর দেবে সময়।