Advertisement
E-Paper

চিনা ব্ল্যাকমেলিং এড়াতে মস্কোর সঙ্গে চুক্তি! ‘বন্ধু’ পুতিনের হাত ধরে আরও এক কঠিন ক্ষেত্রে স্বনির্ভর হবে ভারত?

চিনা নির্ভরশীলতা কমাতে এ বার রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি করতে চলেছে ভারত। সূত্রের খবর, সম্ভাব্য সমঝোতার খসড়া ইতিমধ্যেই মস্কোয় পাঠিয়েছে নয়াদিল্লি।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৪ মে ২০২৬ ০৭:৫৮
India Russia is going to sign critical minerals pact covering exploration, processing and technological collaboration
০১ / ২২

পঞ্চম প্রজন্মের ‘স্টেলথ’ প্রযুক্তির লড়াকু জেট, আকাশ প্রতিরক্ষা (এয়ার ডিফেন্স) ব্যবস্থা বা কোনও ক্ষেপণাস্ত্র আমদানি নয়। রাশিয়ার সঙ্গে এ বার বিরল খনিজ চুক্তির পথে এগোচ্ছে ভারত। কৌশলগত এই সমঝোতায় সিলমোহর পড়লে যৌথ ভাবে সংশ্লিষ্ট ধাতুগুলির খোঁজ চালাবে নয়াদিল্লি ও মস্কো। পাশাপাশি, সেগুলির প্রক্রিয়াকরণের প্রযুক্তিগত পারস্পরিক সহযোগিতায় প্রাথমিক ভাবে দু’পক্ষ রাজি হয়েছে বলে সূত্র মারফত মিলেছে খবর।

India Russia is going to sign critical minerals pact covering exploration, processing and technological collaboration
০২ / ২২

সংবাদসংস্থা ‘রয়টার্স’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়ার সঙ্গে বিরল খনিজের চুক্তি সেরে ফেলতে ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেছে নয়াদিল্লি। সূত্রের খবর, যেখানে সর্বাধিক গুরুত্ব পেয়েছে লিথিয়াম। তা ছাড়া বিশেষ এই ক্ষেত্রটিতে বেসরকারি লগ্নি টানার পরিকল্পনাও রয়েছে দুই ‘বন্ধু’ রাষ্ট্রের। যদিও সরকারি ভাবে এই নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটে রয়েছে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারের খনি মন্ত্রক।

India Russia is going to sign critical minerals pact covering exploration, processing and technological collaboration
০৩ / ২২

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কেন্দ্রের এক পদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, আগামী দু’মাসের মধ্যেই সম্পন্ন হতে পারে ভারত-রুশ বিরল খনিজ চুক্তি। কারণ, এ ব্যাপারে নয়াদিল্লি ও মস্কোর মধ্যে আলোচনা অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছে। শুধু তা-ই নয়, সম্ভাব্য সমঝোতার একটি খসড়াও পাঠানো হয়েছে ক্রেমলিনে। সেখান থেকে সবুজ সঙ্কেত পেলেই চুক্তির চূড়ান্ত শর্তাবলির কাজ শুরু করবে খনি মন্ত্রক।

India Russia is going to sign critical minerals pact covering exploration, processing and technological collaboration
০৪ / ২২

বিরল খনিজের সম্ভাব্য চুক্তিটিতে কী কী থাকতে চলেছে, তা জানতে সম্প্রতি কেন্দ্রের খনি মন্ত্রকে একটি ইমেল পাঠায় ‘রয়টার্স’। সংবাদসংস্থাটির দাবি, এর কোনও উত্তর দেয়নি মোদী প্রশাসন। একই ভাবে রাশিয়ার শিল্প-বাণিজ্য মন্ত্রক এবং উপ-প্রধানমন্ত্রী ডেনিস মানতুরভের দফতরেও মেল পাঠিয়েছিল তারা। সেখান থেকেও সম্ভাব্য সমঝোতার ব্যাপারে কোনও জবাব পায়নি ‘রয়টার্স’।

India Russia is going to sign critical minerals pact covering exploration, processing and technological collaboration
০৫ / ২২

বর্তমানে বিরল খনিজের উপর গণপ্রজাতন্ত্রী চিনের (পিপল্‌স রিপাবলিক অফ চায়না) নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে বললে অত্যুক্তি হবে না। ফলে বেজিঙের উপর দিন দিন নয়াদিল্লির বাড়ছে নির্ভরশীলতা। গত কয়েক বছর ধরে সেটা কমানোর মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে মোদী প্রশাসন। সেই লক্ষ্যে আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া এবং জাপানের সঙ্গে চুক্তি করেছে কেন্দ্র। কথা চলছে পেরু এবং চিলির সঙ্গে। এই পরিস্থিতিতে রাশিয়ার সঙ্গে এ ব্যাপারে সমঝোতা ভারতের পক্ষে ‘খেলা ঘোরাতে’ পারে বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকদের একাংশ।

India Russia is going to sign critical minerals pact covering exploration, processing and technological collaboration
০৬ / ২২

সূত্রের খবর, মস্কোর সঙ্গে হতে চলা চুক্তিতে সই করার আগে তথ্য সংগ্রহের জন্য ভারতীয় প্রতিনিধিদের রুশসফরে যাওয়ার কথা রয়েছে। এখনও পর্যন্ত বিরল খনিজের ব্যাপারে নয়াদিল্লি যে দুর্দান্ত সাফল্য পেয়েছে, এমনটা নয়। ২০২৪ সালে লিথিয়াম অনুসন্ধান এবং খননের জন্য আর্জেন্টিনার সঙ্গে একটি চুক্তি করে কেন্দ্র। তাতে পাঁচটি ব্লক অন্তর্ভুক্ত হতে চলেছে বলে জানা গিয়েছে।

India Russia is going to sign critical minerals pact covering exploration, processing and technological collaboration
০৭ / ২২

চলতি বছরের (২০২৬ সাল) গোড়ায় রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে মালির লিথিয়াম প্রকল্প থেকে সরে আসে নয়াদিল্লি। খনি মন্ত্রকের একটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে ‘রয়টার্স’ জানিয়েছে, পশ্চিম আফ্রিকার দেশটির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি হলেই ফের সেখানে বিরল খনিজের অনুসন্ধান এবং উত্তোলনে যুক্ত হওয়ার ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করবে মোদী সরকার। এ ব্যাপারে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীনে রুশ পারমাণবিক সংস্থা রোসাটমের সাহায্য নিতে পারে নয়াদিল্লি।

India Russia is going to sign critical minerals pact covering exploration, processing and technological collaboration
০৮ / ২২

এ বছরের জানুয়ারিতে শুল্ক সংঘাতের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি করা ‘প্যাক্স সিলিকা’ নামের জোটে ভারতকে শামিল করে আমেরিকা। এর ঘোষণা করেন নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত স্বয়ং মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর। এই জোটে ঢুকে পড়া ভারতের জন্য ‘গেম চেঞ্জার’ হতে চলেছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকদের একাংশ। কারণ, যে গতিতে কৃত্রিম মেধা বা এআই (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) প্রযুক্তিতে চিন দাপট দেখাচ্ছে, তাতে আগামী দিনে বিপদ বাড়তে পারে নয়াদিল্লির।

India Russia is going to sign critical minerals pact covering exploration, processing and technological collaboration
০৯ / ২২

তা ছাড়া বিরল খনিজের ব্যাপারে বেজিঙের ‘ব্ল্যাকমেলের’ মুখে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। ওই ধরনের পরিস্থিতিতে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারের জন্য ‘প্যাক্স সিলিকা’ই ত্রাতা হয়ে উঠবে বলে মনে করা হচ্ছে। উদাহরণ হিসাবে সেমিকন্ডাক্টর বা চিপের কথা বলা যেতে পারে। কৃত্রিম মেধা, বৈদ্যুতিন গাড়ি, মোবাইল ফোন থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরঞ্জাম নির্মাণে এটি অন্যতম অপরিহার্য উপাদান হিসাবে স্বীকৃত। এই চিপ তৈরি করতে আবার চাই বিরল খনিজ, যার নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ভাবে আছে চিনের হাতে।

India Russia is going to sign critical minerals pact covering exploration, processing and technological collaboration
১০ / ২২

বর্তমানে বছরে ২ লক্ষ ৭০ হাজার টন বিরল খনিজ উৎপাদন করছে বেজিং। ফলে বৈদ্যুতিন সরঞ্জামের নির্মাণ প্রক্রিয়া সচল রাখতে ড্রাগনভূমি থেকেই তা বিপুল পরিমাণে আমদানি করতে হচ্ছে নয়াদিল্লিকে। ভারতের কোথাও বিরল খনিজের ভান্ডার নেই, এ কথা ভাবলে ভুল হবে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ দেশের মাটির গভীরে লুকিয়ে আছে প্রায় ৮৫.২ লক্ষ টন বিরল ধাতু। কিন্তু, প্রযুক্তিগত সমস্যার জেরে বছরে মাত্র ২,৯০০ টন উত্তোলন করতে পারছে কেন্দ্র। ফলে চিন থেকে সংশ্লিষ্ট খনিজগুলির আমদানি বাড়াতে একরকম বাধ্য সরকার।

India Russia is going to sign critical minerals pact covering exploration, processing and technological collaboration
১১ / ২২

২০২৪-’২৫ আর্থিক বছরে ৫৪ থেকে ৫৭ হাজার টন বিরল খনিজ আমদানি করে ভারত। এর ৯৩ শতাংশই চিন থেকে কিনেছে নয়াদিল্লি। ২০২৫ সালে হঠাৎ করেই সংশ্লিষ্ট ধাতুগুলির এ দেশে রফতানির উপর ছ’মাসের নিষেধাজ্ঞা জারি করে বেজিং। এতে মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ভারতের বৈদ্যুতিন গাড়ি বা ইভি (ইলেকট্রিক ভেহিকল) শিল্প। বিরল ধাতুর তৈরি চুম্বকের অভাবে সেগুলির উৎপাদন কমাতে বাধ্য হয় একাধিক শিল্পসংস্থা। ওই সময় চেষ্টা করেও কোনও বিকল্প উৎসের খোঁজ পায়নি নয়াদিল্লি।

India Russia is going to sign critical minerals pact covering exploration, processing and technological collaboration
১২ / ২২

২০২৫ সালে অগস্ট-সেপ্টেম্বরে ‘সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা’ বা এসসিওর (সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজ়েশন) বৈঠকে যোগ দিতে চিনসফর করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেখানে ড্রাগনভূমির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিঙের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয় তাঁর। এর পর ফের নয়াদিল্লিকে বিরল খনিজ রফতানি চালু করে বেজিং। তবে সংশ্লিষ্ট ধাতুগুলি বিক্রির সময় চাপিয়ে দেয় কড়া শর্ত। সেখানে বলা হয়েছে, কোনও অবস্থাতেই তাদের থেকে কেনা বিরল খনিজ অত্যাধুনিক হাতিয়ার তৈরিতে ব্যবহার করতে পারবে না নয়াদিল্লি।

India Russia is going to sign critical minerals pact covering exploration, processing and technological collaboration
১৩ / ২২

বিরল খনিজের ব্যাপারে ‘চিনা শৃঙ্খল’ কেটে ফেলতে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ‘ন্যাশনাল ক্রিটিক্যাল মিনারেল মিশন’-এ অনুমোদন দেয় কেন্দ্রের মোদী মন্ত্রিসভা। এই প্রকল্পের মাধ্যমে আগামী সাত বছর ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিরল খনিজের খোঁজ চালাবে একাধিক সংস্থা। পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট ধাতুগুলির পরিশোধন ও বিপুল পরিমাণে উত্তোলনের দিকেও নজর রাখতে চাইছে সরকার। সব কিছু ঠিক থাকলে ২০৩০-’৩১ সালের মধ্যে এ ব্যাপারে বেজিঙের উপর নির্ভরশীলতা অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা যাবে বলে আশাবাদী কেন্দ্র।

India Russia is going to sign critical minerals pact covering exploration, processing and technological collaboration
১৪ / ২২

বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, ‘প্যাক্স সিলিকা’য় যোগ দিলে বিরল খনিজ আমদানির জন্য অস্ট্রেলিয়ার মতো নিরাপদ সরবরাহকারীর দিকে ঝোঁকার সুযোগ পাবে নয়াদিল্লি। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট ধাতুগুলির উত্তোলন ও পরিশোধনের জন্য প্রযুক্তি হস্তান্তর করতে পারে জাপান ও নেদারল্যান্ডস। তা ছাড়া বিপুল বিদেশি বিনিয়োগ আসার সম্ভাবনাও রয়েছে। সে ক্ষেত্রে ভারতের পক্ষে মোনাজ়াইট এবং থোরিয়ামের মতো বিরল ধাতুগুলির নিষ্কাশন ও প্রক্রিয়াকরণ যে অনেক সহজ হবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

India Russia is going to sign critical minerals pact covering exploration, processing and technological collaboration
১৫ / ২২

গত বছরের ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে কৌশলগত অংশীদারদের নিয়ে ‘প্যাক্স সিলিকা’ গঠনের কথা ঘোষণা করে আমেরিকা। তখন অবশ্য ‘বন্ধু’ রাষ্ট্রগুলির তালিকা থেকে ভারতের নাম বাদ দিয়েছিল ওয়াশিংটন। নতুন এই জোটটির সাহায্যে মূলত সিলিকন উপত্যকার সরবরাহ শৃঙ্খলকে সমৃদ্ধশালী, নিরাপদ এবং উদ্ভাবনী শক্তিসম্পন্ন হিসাবে গড়ে তুলতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে থাকছে বিরল খনিজ, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ এবং কৃত্রিম মেধা বা এআই (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) পরিকাঠামো।

India Russia is going to sign critical minerals pact covering exploration, processing and technological collaboration
১৬ / ২২

‘প্যাক্স সিলিকা’ ঘোষণার পর একটি বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র সরকার জানায়, এর মাধ্যমে একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করবে আমেরিকা। শুধু তা-ই নয়, কৃত্রিম মেধাভিত্তিক যুগে ওয়াশিংটনের অংশীদারেরা প্রবেশের সুযোগ পেতে চলেছে বলেও সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীতে জায়গা পেয়েছে জাপান, রিপাবলিক অফ কোরিয়া (দক্ষিণ কোরিয়া), সিঙ্গাপুর, নেদারল্যান্ডস, ব্রিটেন, ইজ়রায়েল, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং অস্ট্রেলিয়া।

India Russia is going to sign critical minerals pact covering exploration, processing and technological collaboration
১৭ / ২২

এদের বাদ দিলে রিপাবলিক অফ চায়না বা তাইওয়ান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশ এবং কানাডাকে নিয়ে ‘প্যাক্স সিলিকা’ গঠন করেছে আমেরিকা। এতে যোগ দিতে ‘অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা’ বা ওইসিডির (অর্গানাইজ়েশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) ৩৮টি সদস্য রাষ্ট্রকেই আমন্ত্রণ জানায় ওয়াশিংটন। সংশ্লিষ্ট সংগঠনটির সদস্যপদ রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, কানাডা এবং ইইউ-এর। কৌশলগত অংশীদারদের মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে একমাত্র ভারতকেই ব্রাত্য রেখেছিল মার্কিন সরকার।

India Russia is going to sign critical minerals pact covering exploration, processing and technological collaboration
১৮ / ২২

আগামী দিনে ‘প্যাক্স সিলিকা’র লক্ষ্য কী হতে চলেছে, তা স্পষ্ট করে দিয়েছে আমেরিকা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন জানিয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি হোক বা বিরল খনিজ, অনেক ক্ষেত্রে অন্য রাষ্ট্রের উপর যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অংশীদারদের প্রবল ভাবে নির্ভরশীলতা বেড়েই চলেছে। এর মাধ্যমে সেটা কমিয়ে আনার চেষ্টা করবে ওয়াশিংটন। তা ছাড়া এই গোষ্ঠীর দেশগুলি সম্মিলিত ভাবে রূপান্তরমূলক প্রযুক্তির বিকাশ এবং ব্যবহারের দিকে নজর দেবে।

India Russia is going to sign critical minerals pact covering exploration, processing and technological collaboration
১৯ / ২২

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের একাংশ, ‘প্যাক্স সিলিকা’কে মার্কিন নেতৃত্বাধীন ইউরোপীয় সামরিক জোট ‘উত্তর আটলান্টিক চুক্তি সংস্থা’ বা নেটোর (নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজ়েশন) সঙ্গে তুলনা করেছেন। সরকারি বিবৃতিতে আমেরিকা বলেছে, এই গোষ্ঠী কাউকে বিচ্ছিন্ন বা একঘরে করার জন্য তৈরি হচ্ছে না। কৃত্রিম মেধার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটন অংশীদারদের প্রতিযোগিতামূলক সমৃদ্ধি চায়। ভারতকে পাশে না পেলে সেটা যে কোনও ভাবেই সম্ভব নয়, তা বুঝতে সময় লাগেনি যুক্তরাষ্ট্রের।

India Russia is going to sign critical minerals pact covering exploration, processing and technological collaboration
২০ / ২২

‘প্যাক্স সিলিকা’র বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই গণমাধ্যমে মুখ খুলেছেন মার্কিন প্রশাসনের অর্থনীতি বিষয়ক দফতরের আন্ডার সেক্রেটার জ়্যাকব হেলবার্গ। তাঁর কথায়, ‘‘বিংশ শতাব্দী ছিল তেল ও ইস্পাতের। ২১ শতকে সেই জায়গা ধীরে ধীরে নিচ্ছে কম্পিউটার ও কৃত্রিম মেধা বা এআই। সেই জন্যই সেমিকন্ডাক্টর ও বিরল ধাতুর এত গুরুত্ব। সেই সরবরাহ শৃঙ্খল ঠিক রাখতে ‘প্যাক্স সিলিকা’র মতো জোট উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করবে। এতে নয়াদিল্লির অন্তর্ভুক্তি ভারত-মার্কিন অংশীদারির ঐতিহাসিক মাইলফলক হতে যাচ্ছে।’’

India Russia is going to sign critical minerals pact covering exploration, processing and technological collaboration
২১ / ২২

এ বছরের (২০২৬ সাল) ফেব্রুয়ারিতে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত এআই সম্মেলনে আনুষ্ঠানিক ভাবে ‘প্যাক্স সিলিকা’য় সই করে ভারত। তার তিন মাসের মধ্যেই বিরল খনিজের ব্যাপারে মস্কোর দিকে নয়াদিল্লির ঝুঁকে পড়ার নেপথ্যে রয়েছে একাধিক কারণ। প্রথমত, ট্রাম্প জমানায় ওয়াশিংটনের সঙ্গে কেন্দ্রের সম্পর্কে মাঝেমধ্যেই থাকছে ওঠাপড়া। মার্কিন প্রেসিডেন্টের ‘পাকিস্তান প্রেম’ বা চিনকে সঙ্গে নিয়ে ‘জি-২’ তৈরি করার স্বপ্ন মোদী সরকারের জন্য স্বস্তিজনক নয়।

India Russia is going to sign critical minerals pact covering exploration, processing and technological collaboration
২২ / ২২

উল্টো দিকে ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে রাশিয়ার উপর ১৬,০০০ বেশি নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে রেখেছে আমেরিকা-সহ পশ্চিমি বিশ্ব। এতে মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মস্কোর অর্থনীতি। ফলে ২০২২ সাল থেকে চিনের উপর নির্ভরশীলতা বেড়েছে ক্রেমলিনের। সেটা আগামী দিনে যে বিপদ ডেকে আনতে পারে, তা ভালই জানেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। আর তাই বিরল খনিজের জন্য নির্ভরযোগ্য ‘বন্ধু’ ভারতের সঙ্গে হাত মেলাতে চাইছেন তিনি।

ছবি: সংগৃহীত, প্রতীকী ও এআই সহায়তায় প্রণীত।

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও গ্যালারি

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy