দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি নতুন ‘আকাশ থেকে ভূমি’ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষায় সাফল্য পেল ভারতের ‘প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা’ (ডিআরডিও)। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার ওড়িশার চাঁদিপুর উপকূলে ভারতীয় বায়ুসেনার বিমান থেকে শব্দের চেয়ে দ্বিগুণ গতিবেগ সম্পন্ন (সামরিক পরিভাষায় যাকে ‘ম্যাক থ্রি’ বলা হয়) ‘রুদ্রম-২’ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা হয়েছে।
ডিআরডিও সূত্রের খবর, ‘রুদ্রম’ সিরিজ়ের ক্ষেপণাস্ত্র শত্রুপক্ষের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম) এড়িয়ে রাডার, ট্র্যাকিং এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ধ্বংস করতে সক্ষম। ভারতীয় বায়ুসেনার সুখোই-৩০ যুদ্ধবিমান থেকে নিক্ষেপ করা যেতে পারে এই ক্ষেপণাস্ত্র। ২০২০ সালে প্রথম বার সুখোই যুদ্ধবিমান থেকেই সফল পরীক্ষা হয়েছিল এই সিরিজ়ের প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র ‘রুদ্রম-১’-এর। মার্কিন ‘এজিএম-৮৮ই’ ‘অ্যান্টি রেডিয়েশন গাইডেড মিসাইল’-এর সমতুল্য রুদ্রমে রয়েছে বিশেষ প্রযুক্তি সম্পন্ন ‘আইএনএস-জিপিএস নেভিগেশন’ এবং ‘হোমিং হেড’। যা বিকিরণ বা বিচ্ছুরণের (তাপ, তেজস্ক্রিয়তা বা রশ্মি) উৎসগুলি সহজেই চিহ্নিত করতে পারে।
আরও পড়ুন:
রুদ্রম-২ ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্পে ডিআরডিও-র ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ল্যাবরেটরি, হাই এনার্জি ম্যাটেরিয়ালস রিসার্চ ল্যাবরেটরি, আর্মামেন্ট রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এস্টাবলিশমেন্ট এবং আইটিআর-এর মতো অন্যান্য সহযোগী গবেষণাগারও অংশগ্রহণ করেছে। ‘ডেভেলপমেন্ট কাম প্রোডাকশন পার্টনারস’ হিসাবে, হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (হ্যাল), রিজিওনাল সেন্টার ফর মিলিটারি এয়ারওয়ার্থিনেস, মিসাইল সিস্টেম কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স এজেন্সি এবং আরও বহু শিল্প প্রতিষ্ঠান এই লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে বলে ডিআরডিও জানিয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ ‘রুদ্রম-২’ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষার জন্য বিজ্ঞানীদের অভিনন্দন জানিয়ে সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, ‘‘পরীক্ষাগুলি দেশীয় প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান উৎকর্ষের প্রদর্শন। উন্নত সমরাস্ত্র নির্মাণে আত্মনির্ভরতা অর্জনে যা উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে।’’