ন’দিনের পশ্চিমবঙ্গ ‘সফরের’ শেষে গত বছরের প্রথম দিনে ওড়িশায় সিমিলিপাল ব্র্যাঘ্রপ্রকল্পে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তাকে। সেখানেই একসঙ্গে চার শাবকের জন্ম দিয়েছে বাঘিনী জ়িনত। ওড়িশার বনমন্ত্রী গণেশ রাম সিংখুন্টিয়া এ কথা জানিয়ে মঙ্গলবার বলেছেন, ‘‘বাঘিনী এবং তার শাবকেরা সুস্থ রয়েছে।’’
প্রসঙ্গত, বাঘিনী জ়িনতের জন্ম মহারাষ্ট্রের তাডোবা-আন্ধারি ব্যাঘ্রপ্রকল্পে । ২০২৪ সালের নভেম্বরে সেখান থেকেই তাকে পাঠানো হয়েছিল ওড়িশার সিমলিপালে। উদ্দেশ্য ছিল, সেখানকার বাসিন্দা ব্যাঘ্রকুলের জিনবৈচিত্র বৃদ্ধি। কারণ, ক্রমাগত অন্তঃপ্রজননের ফলে জিনবৈচিত্র দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। কিন্তু জ়িনত ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সিমিলিপাল ছেড়ে ঝাড়খণ্ডের কুলিয়া রেঞ্জের রাজাবাসার জঙ্গল পেরিয়ে চিয়াবান্ধি এলাকা হয়ে ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ি থানার কাটচুয়া জঙ্গলে প্রবেশ করেছিল। তার পর দু’দিন ধরে কখনও ময়ূরঝর্নার জঙ্গলে, আবার কখনও কাকড়াঝোড়ের জঙ্গলে নিজের ঠিকানা বদল করেছিল। পরে তেলিঘানার জঙ্গল হয়ে জ়িনত প্রবেশ করেছিল পুরুলিয়া জেলার বান্দোয়ান থানা এলাকার রাইকা পাহাড়ে।
রাইকা পাহাড় ও পার্শ্ববর্তী ভাঁড়ারি পাহাড়ে দিন চারেক কাটিয়ে মানবাজারের ডাঙ্গরডিহির জঙ্গলে হাজির হয়েছিল সে। সেখান থেকে জ়িনত কুমারী নদী পেরিয়ে ঢুকে পড়েছিল বাঁকুড়ার রানিবাঁধ ব্লকের গোঁসাইডিহির জঙ্গলে। শেষপর্যন্ত সেই জঙ্গল থেকেই ধরা হয়েছিল জ়িনতকে। ওড়িশার সিমিলিপাল থেকে আসা বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বনকর্মীরা খাঁচায় বন্দি করে ফেলেছিলেন তাকে। আলিপুর চিড়িয়াখানায় নিয়ে এসে শারীরিক পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণের পরে গ্রিন করিডোর করে সিমিলিপালে তাকে নিয়ে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে শোনা গিয়েছিল, জ়িনতের খোঁজে জঙ্গলমহলে আবির্ভাব ঘটেছিল এক ‘প্রেমিক’ বাঘের। ২০২৪ সালের নভেম্বরে তাকে মহারাষ্ট্রের তাডোবা-আন্ধেরি ব্র্যাঘ্রপ্রকল্প থেকে থেকে সিমিলিপালে আনা হয়েছিল। সেও সাময়িক ভাবে সিমিলিপাল ছেড়়ে পাড়ি দিয়েছিল সিমিলিপাল লাগোয়া কুলডিহা অভয়ারণ্যে।