ধূমপান করার পরেই কি অম্বল হয়? ধূমপায়ীরা অবশ্য সে কথা মানবেন না। তবে সিগারেট বা বিড়ি টানার পরে অনেকেই বলেন যে গলা-বুক জ্বালা করছে। কিছুজনের তো অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যাও হয়। আসলে নিকোটিন পরিপাকতন্ত্রে এমন কিছু ক্ষতিকর পরিবর্তন ঘটায় যা সরাসরি অ্যাসিড রিফ্লাক্সের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অম্বলের সমস্যাও বাড়ে। হজমশক্তি একেবারে তছনছ হয়ে যায়।
ধূমপান মানে যে কেবল ফুসফুসের ক্ষতি তা কিন্তু নয়। তামাক যেমন হার্ট বা ফুসফুসের ক্ষতি করে, তেমনই পরিপাকতন্ত্রের উপরেও প্রভাব ফেলে। আমেরিকার জন্স হপকিন্স মেডিসিনের গবেষকেরা জানাচ্ছেন, ধূমপানের সঙ্গে হজমপ্রক্রিয়ার সরাসরি সম্পর্ক আছে। সে সম্পর্ক মোটেই মধুর নয়।
খাদ্যনালি এবং পাকস্থলীর সংযোগস্থলে একটি বৃত্তাকার পেশি বা কপাটিকা থাকে, যাকে বলা হয় ‘লোয়ার ইসোফেগাল স্ফিংটার’। এর কাজ হল পাকস্থলী থেকে অ্যাসিড খাদ্যনালিতে আসতে বাধা দেওয়া। সিগারেটের নিকোটিন এই পেশিকে দুর্বল করে দেয়। তার সঙ্কোচন ও প্রসারণের ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। ফলে কপাটিকাটি ঠিকমতো বন্ধ হয় না এবং পাকস্থলী থেকে অ্যাসিড সহজেই খাদ্যনালিতে উঠে এসে গলা-বুক জ্বালার কারণ হয়ে ওঠে।
আরও পড়ুন:
এখানেই শেষ নয়। দিনে যত বেশি সিগারেট টানবেন, তত বেশি তামাক শরীরে ঢুকবে। এই তামাক পাকস্থলীর ভিতরের মারাত্মক প্রদাহ তৈরি করে। সিগারেটে থাকা ফর্মালডিহাইড ও হাইড্রেজেন সায়ানাইড পাকস্থলীর কোষগুলিকে এমন ভাবে উদ্দীপিত করে তোলে যাতে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড তৈরি হয় যা অম্বলের কারণ হয়ে ওঠে। সিগারেটের ধোঁয়ায় থাকে আর্সেনিক যা পাকস্থলীতে রক্ত সঞ্চালনের মাত্রা কমিয়ে দেয়, ফলে হজমপ্রক্রিয়া ধীর গতিতে হয়।
ধূমপানের কারণে লালার পিএইচের ভারসাম্যও নষ্ট হয়। লালা হল প্রাকৃতিক ভাবে ক্ষারীয় যা খাদ্যনালিতে উঠে আসা অ্যাসিডকে নিষ্ক্রিয় বা প্রশমিত করতে সাহায্য করে। ধূমপান করলে মুখে লালা তৈরি হওয়ার পরিমাণ কমে যায় এবং লালার কার্যকারিতা নষ্ট হয়। ফলে অ্যাসিড সহজে উপশম হয় না।
গবেষকেরা বলেন, ধূমপান যাঁরা করেন, তাঁরা যদি নিয়ম করে ভিটামিন সি খান, তা হলে অম্বলের সমস্যা কমতে পারে। পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে, ফুসফুস বা পাকস্থলীর কোষে সিগারেটের ধোঁয়ার প্রভাব কমাতে পারে ভিটামিন সি। তা ছাড়া সকালে খালি পেটে চা বা কফির সঙ্গে সিগারেট খাওয়ার অভ্যাস বুক জ্বালার সবচেয়ে বড় কারণ হয়ে উঠতে পারে। তাই সে অভ্যাস ছাড়তে পারলেই ভাল।