ইনসুলিন প্যাচ এসে গিয়েছে কবেই। হাতে, পেটে বা ঊরুতে পরে নিলে সুগারের ওঠানামা হবে না, দাবি এমনই। নিকোটিন প্যাচও তো অজানা নয়। এখন আবার এসে গেল ‘ল্যাকটোজ় ইনটলারেন্স প্যাচ’। দুধ খেলে যাঁদের গ্যাস-অম্বল হয় বা দুগ্ধজাত খাবারে ভরপুর অ্যালার্জি, তাঁদের জন্যই এই প্যাচ। শরীরের সঙ্গে সেঁটে নিলেই অ্যালার্জি উধাও হবে বলেই দাবি।
প্যাচটি ত্বকের যে কোনও জায়গায় লাগিয়ে নিলে ওষুধ বা ট্যাবলেট না খেয়েই দুধে অ্যালার্জি নির্মূল হবে। তখন নিশ্চিন্তে পছন্দের মালাই বা রাবড়ি খাওয়া যাবে। দুধের প্রাকৃতিক শর্করা বা 'ল্যাকটোজ়' হজম করার প্রয়োজনীয় উৎসেচক যাঁদের শরীরে নেই, তাঁদের জন্য এই প্যাচ কার্যকরী হতে পারে বলেই দাবি করা হয়েছে। এটি ছোট জলরোধী আঠালো স্টিকারের মতো যা হাতে বা পেটে সেঁটে নেওয়া যায়। প্রস্তুতকারকদের দাবি, এই প্যাচটি ত্বক ভেদ করে সরাসরি শরীরে এমন কিছু উপাদান বা উৎসেচক পৌঁছে দেয় যা ল্যাকটোজ় বিপাকে সাহায্য করে। তখন দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার খেলেও অম্বল হবে না।
ল্যাকটোজ় প্যাচ কি নিরাপদ?
চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, ল্যাকটোজ় প্যাচ নিয়ে মাতামাতি বেশি হচ্ছে। তবে এটি যে ভাবে কাজ করার দাবি করেছে তা সকলের ক্ষেত্রে কার্যকরী না-ও হতে পারে। কারণ এটির কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি সে ভাবে নেই। সাধারণত ল্যাকটোজ় ট্যাবলেট খেতে হয়। সেটি রক্তে মিশে পরিপাকতন্ত্রে গিয়ে কাজ করে। কিন্তু প্যাচগুলি ত্বকের উপরে লাগানো থাকে। ত্বক ভেদ করে উৎসেচক রক্তে মিশে আদৌ তা পরিপাকতন্ত্র অবধি পৌঁছোবে কি না, সে নিয়ে সংশয় রয়েছে অনেক চিকিৎসকেরই। ফলে এটি পাকস্থলীতে থাকা ল্যাকটোজ় হজম করাতে কতটা সক্ষম, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন রয়েছে।
আরও পড়ুন:
তবে অন্য মতও রয়েছে। অনেকেই বলছেন, যাঁরা বেশি ওষুধ খেতে পছন্দ করেন না, তাঁরা এই প্যাচ লাগিয়ে রাখলে কিছুটা স্বস্তি বোধ করতে পারেন। ডায়েটে খুব বেশি বদল আনতে না চাইলেও এটি ব্যবহার করে দেখা যেতে পারে। তবে ত্বক খুব স্পর্শকাতর হলে প্যাচ ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
এ দেশে ল্যাকটোজ় প্যাচ কিছু অনলাইন সাইটে পাওয়া যেতে পারে। এক একটি প্যাকের খরচ হতে পারে ৩,৫০০ থেকে ৫,০০০ টাকা। তবে কোন ব্র্যান্ডের প্যাচ কিনছেন, তার উপরে দাম নির্ভর করবে।