Advertisement
E-Paper

রোগা হতে গিয়ে আচমকাই খাওয়া কমিয়েছেন? কড়া ডায়েটে কোন বিপদ হতে পারে, সঠিক পন্থা কী

দ্রুত মেদ ঝরাতে গিয়ে খাওয়া-দাওয়া কমিয়ে দিয়েছেন? হিতে-বিপরীত হতে পারে, কেন বলছেন চিকিৎসক? মেদ ঝরাতে গেলে কী কী মাথায় রাখা দরকার?

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০২ জুন ২০২৬ ১৫:০০
ওজন কমাতে তাড়াহুড়ো নয়, কেন বলছেন চিকিৎসক থেকে ফিটনেস প্রশিক্ষকেরা।

ওজন কমাতে তাড়াহুড়ো নয়, কেন বলছেন চিকিৎসক থেকে ফিটনেস প্রশিক্ষকেরা। ছবি:সংগৃহীত।

ওজন কমাতে গিয়ে, মনের মতো চেহারা পেতে গিয়ে খাওয়া-দাওয়ায় রাশ টেনেছেন? মেপেজুপে খাওয়া শরীরের জন্য ভাল। তবে মেদ ঝরাতে গিয়ে আচমকা খাওয়া-দাওয়া ভীষণ রকম কমিয়ে দেওয়া বা কড়া ডায়েট বিপজ্জনক হতে পারে।

১৯ বছরের শ্রেয়সী বন্ধুবান্ধবের কটাক্ষের মুখে পড়ে ওজন ঝরাতে চেয়েছিলেন। খাওয়া কমিয়ে দিতেই ঘটে বিপত্তি। একদিন মাথা ঘুরে আচমকা পড়ে যাওয়ার পরে জানা যায়, আচমকা রক্তচাপ কমে গিয়েছে।

দিল্লি নিবাসী চিকিৎসক অঞ্জু ঘেই সতর্ক করছেন তা নিয়েই। দ্রুত রোগা হতে গিয়ে ক্র্যাশ ডায়েট বা আচমকা খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দেওয়ার প্রবণতা শুধু শরীর দুর্বল করে দেয় না, তা পেশিক্ষয়ের কারণও হত পারে। নিয়ম না মানলে বা ক্র্যাশ ডায়েটের ফলে প্রথমেই যা ঘটে, তা হল গ্লাইকোজেন ক্ষয়। পেশি এবং লিভারে জমা গ্লাইকোজেন জল ধরে রাখে। গ্লাইকোজেনের সঙ্গে সঙ্গে শরীরে জমা অতিরিক্ত জল বেরিয়ে যায়। কিন্তু যদি ডায়েটে পুষ্টির ঘাটতি থাকে, তা হলে ফ্যাটের সঙ্গে পেশিও ক্ষইতে পারে।

আচমকা খাওয়ার মাত্রা খুব কমিয়ে দিলে খিদে নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত হরমোনের মাত্রারও হেরফের হতে পারে। ঘ্রেলিন হরমোন খিদে বৃদ্ধি করে। তার মাত্রা বৃদ্ধি পেলে, সব সময়েই খিদে পাবে। আবার লেপটিন হরমোনের জন্য খাওয়ার পর তৃপ্তি আসে। তার মাত্রা কমলে, সেই তৃপ্তির অনুভূতি থাকবে না। ফলে খিদে বেশি পাবে।

পাশাপাশি, ‘স্ট্রেস হরমোন’ বলে পরিচিত কর্টিসল হরমোন ক্ষরণের মাত্রাও বাড়তে পারে। আচমকা কেউ খুব কম খাওয়া শুরু করলে শরীরের কাছে ইঙ্গিত পৌঁছতে পারে— শক্তি সঞ্চয় করে রাখতে হবে, সেই কারণে বিপাকহারও কমে যেতে পারে।

তা ছাড়া দ্রুত ওজন কমলে মনের উপরেও প্রভাব পড়তে পারে। পুষ্টি এবং প্রয়োজনীয় খনিজের অভাব হল ক্লান্তি দোসর হতে পারে।

ওজন কমানোর সঠিক পন্থা

· এক ধাক্কায় অনেকটা ওজন কমানোর লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া ঠিক নয়। ওজন কমানো প্রয়োজন ধীরে।

· ক্র্যাশ ডায়েটে হঠাৎ করেই ক্যালোরির মাত্রা কমিয়ে দেওয়া হয়। তাতে নানা রকম সমস্যা হতে পারে। ডায়েটে প্রোটিনের মাত্রা ঠিক রাখা প্রয়োজন। থাকতে হবে ফাইবার, স্বাস্থ্যকর ফ্যাটও। ওজন কমাতে হলে ব্যালান্স ডায়েট জরুরি।

· শুধু ডায়েটে ভরসা না করে শরীরচর্চাতেও জোর দেওয়া প্রয়োজন।

· পাশাপাশি, পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ থেকে মুক্ত থাকাও জরুরি।

চিকিৎসক মনে করাচ্ছেন, সাময়িক ডায়েট বদলেই সাফল্য ধরা দিতে পারে না। বরং কমতে থাকা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য জীবনযাপনে কিছু ইতিবাচক বদলও জরুরি।

Weight Loss Tips
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy