সকাল কেমন ভাবে শুরু হচ্ছে, তার উপর নির্ভর করে দিনটি। আর সেই কারণেই প্রাতরাশে পুষ্টির ভারসাম্য গুরুত্বপূর্ণ, বলছেন চিকিৎসকে থেকে পুষ্টিবিদেরা। রাতে ঘুমোনোর পর সকালে উঠে খাওয়ার মধ্যে লম্বা সময়ের বিরতি থাকে। আর সেই কারণে সকালের খাবার গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, দিনভর কাজের জন্য প্রয়োজনীয় রসদের জোগান আসে সেখান থেকেই।
সকালের খাওয়া গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু দিনের শুরুতে যাঁদের খিদেই পায় না, তাঁরা কী করবেন? ঘুম থেকে ওঠার কিছু ক্ষণের মধ্যে কারও চনমনে খিদে হয়। কেউ আবার প্রাতরাশ এড়িয়ে যান, পেট ভার লাগে বলেই। খিদে না পেলে কি প্রাতরাশ বাদ দেওয়া উচিত?
আরও পড়ুন:
নয়ডা নিবাসী পেটের রোগের চিকিৎসক বিনীত গুপ্তের কথায়, খিদে না থাকলে জোর করে খাওয়া কাজের কথা নয়। আবার দিনের পর দিন প্রাতরাশ বাদ দিলেও মুশকিল। কারণ, দেখা যায়, পরে যখন খিদে হয়, তখন অস্বাস্থ্যকর খাবার বা বেশি খেয়ে ফেলেন লোকে। তার ফলেও বদহজম হতে পারে।তবে দেখতে হবে, খিদে না হওয়ার কারণ কী।
সকালে খিদে পায় না কাদের এবং কেন?
· রাতে বেশি খাওয়া হলে
· খুব বেশি রাতে খেলে হজমের সমস্যা হতে পারে
· হজমক্ষমতা দুর্বল হলে
· নিয়মিত পেট পরিষ্কার না হলে
· অম্বল বা শারীরিক সমস্যা থাকলে
· ঘুম কম হলে
· ঘ্রেলিন নামক হজমকারী হরমোন কাজ না করলে
প্রাতরাশ কি প্রয়োজনে বাদ দেওয়া ভাল?
সকালে উঠে পেট ভার থাকলে জোর করে খাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। কিন্তু রোজ এমনটা হলে, কী সমস্যা হবে? চিকিৎসকের কথায়, এক-আধদিন খেতে ইচ্ছা করছে না বলে না খেলে চলে। কিন্তু নিয়ম করে সকালের খাবার বাদ দেওয়া স্বাস্থ্যকর নয়। তা ছাড়া দেখা যায়, প্রাতরাশ বাদ দিলেও খানিকটা পরে যখন খিদে পায়, অনেকে বাড়তি খাবার খেয়ে নেন। অস্বাস্থ্যকর খাবারও খেয়ে ফেলেন। যা থেকে অম্বল, বদহজমের সমস্যা হতে পারে। পুষ্টির ঘাটতিও হতে পারে।
প্রথমেই কেন পেটভার, কেন খিদে হচ্ছে না, বোঝা প্রয়োজন। দরকারে রাতের খাবারের সময় এগিয়ে আনতে হবে, হালকা খেতে হবে। তবে নিয়ম করে প্রাতরাশ বাদ দেওয়ার পক্ষপাতী নন চিকিৎসক।