শরীরে কোথাও সংক্রমণ হলে প্রদাহ একটি স্বাভাবিক প্রতিরক্ষামূলক প্রক্রিয়া। কিন্তু সমস্যা হয় যখন, এই প্রদাহ দীর্ঘ সময় ধরে শরীরের ভিতরে নীরবে চলতে থাকে। দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহের সঙ্গে হৃদ্রোগ, ডায়াবিটিস, স্থূলত্ব, বাতের সমস্যা থেকে শুরু করে আরও নানা শারীরিক জটিলতার সম্পর্ক রয়েছে বলে মনে করেন চিকিৎসকেরা।
প্রদাহ সব সময় চোখে দেখা যায় না। অনেক সময়ে শরীরের ভিতরে দীর্ঘ দিন ধরে তা চলতে থাকে। তাই শুধু অসুস্থ হলে নয়, সুস্থ থাকাকালীনও জীবনযাপনের দিকে নজর দেওয়া জরুরি। তবে প্রদাহ কমানোর জন্য সব সময় ওষুধের উপর নির্ভর করতে হবে, এমন নয়। আমেরিকার মেরিল্যান্ডের চিকিৎসক কুণাল সুদ সম্প্রতি এমন পাঁচটি দৈনন্দিন অভ্যাসের কথা বলেছেন, যা স্বাভাবিক উপায়ে শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করতে পারে।
১. ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার: প্রিজ়ারভেটিভহীন এবং প্রক্রিয়াজাত নয়, এমন গোটা খাবার খেতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে দানাশস্য, ডাল, সব্জি ও ফল। এগুলি শরীরে প্রদাহের সমস্যা কমাতে পারে। সি-রিয়্যাক্টিভ প্রোটিন এবং ইন্টারলিউকিন-৬-এর মতো প্রদাহজনক মার্কারের মাত্রা কমানোর জন্যও এগুলি কার্যকরী। যখন অন্ত্রের উপকারী ব্যাক্টেরিয়াগুলি ফাইবারকে মজিয়ে দেয়, তখন তারা বিউটিরেটের মতো শর্ট-চেন ফ্যাটি অ্যাসিড তৈরি করে। ফলে সামগ্রিক ভাবে অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভাল হয়।
আরও পড়ুন:
২. রোজ হাঁটা: প্রতি দিন নিয়মিত হাঁটা শরীরের জন্য সবচেয়ে কার্যকর এবং সহজ শারীরচর্চাগুলির মধ্যে একটি। চিকিৎসকের মতে, নিয়মিত হাঁটলে রক্তসঞ্চালন ভাল থাকে, বিপাকক্রিয়া সক্রিয় হয় এবং শরীরে প্রদাহজনিত কিছু উপাদানের মাত্রা কমতে পারে। অনেকেই মনে করেন, প্রদাহ থাকলে বিশ্রামই একমাত্র উপায়। কিন্তু আদপে শারীরিক ভাবে সক্রিয় থাকলে প্রদাহ কমতে পারে। হাঁটার ফলে ইনসুলিন সেনসিটিভিটি এবং হার্টের স্বাস্থ্য ভাল থাকে।
৩. পর্যাপ্ত ঘুমোনো: শরীর যখন বিশ্রামে থাকে, তখনই কোষের মেরামতির কাজ চলে। তাই পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম খুবই দরকার। রাত জেগে কাজ করা বা অনিয়মিত ঘুম এখন অনেকের জীবনযাপনের অংশ হয়ে উঠেছে। কিন্তু পর্যাপ্ত ও ভাল ঘুম না হলে শরীরে প্রদাহের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। ঘুমের সময়েই শরীর নিজেকে মেরামত করার গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলি করে। তাই প্রতি দিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো এবং ৭-৮ ঘণ্টা বিশ্রাম নেওয়া জরুরি।
৪. ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবার: হার্ট এবং মস্তিষ্কের জন্য ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার খুবই উপকারী। ইপিএ বা আইকোসাপেন্টাইনোইক অ্যাসিড এবং ডিএইচএ বা ডোকোসাহেক্সাইনোইক অ্যাসিডের মতো ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। এগুলি চর্বিযুক্ত মাছে থাকে।
৫. মানসিক চাপ কমানো: শুধু শরীর নয়, মনও প্রদাহের সঙ্গে জড়িত। দীর্ঘ দিনের মানসিক চাপ শরীরে বিভিন্ন হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে, যার ফলে প্রদাহের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। ধ্যান, যোগাসন, শখের কাজ, বই পড়া বা প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানো— যে কোনও স্বাস্থ্যকর উপায়ে মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা করা দরকার।