শরীর কখনওই হঠাৎ ভেঙে পড়ে না। আগে থেকেই নীরবে সঙ্কেত দিতে শুরু করে। মানুষের কাজ কেবল সেই ইঙ্গিতগুলিকে বুঝতে পারা। কিন্তু সেখানেই ব্যর্থতা দেখা যায়। ব্যস্ত জীবনে শরীরের ছোটখাটো পরিবর্তনকে অবহেলা করে চিকিৎসা ও নিরাময়ে দেরি করে ফেলেন অনেকে। আর এ ভাবেই শরীরের প্রদাহ ধীরে ধীরে বড় রোগের কাছাকাছি নিয়ে যায় রোগীদের।
পুষ্টিবিদদের মতে, সাধারণ মনে হলেও একাধিক চেনা উপসর্গ আসলে শরীরের প্রদাহের প্রাথমিক লক্ষণ, যা সময় মতো টের না পেলে বড় সমস্যার দিকে এগোতে পারে। কখনও ত্বকের চরিত্রে বদল, কখনও অকারণ ব্যথা, আবার কখনও ক্লান্তি— সবই যেন ছোট ছোট ঘটনা, কিন্তু বড় রোগের ইঙ্গিত।
ব্য়থাও হতে পারে প্রদাহের লক্ষণ। ছবি: সংগৃহীত
কোন কোন লক্ষণের দিকে নজর দেওয়া দরকার?
১. ত্বকের পরিবর্তন: ত্বক লালচে হয়ে আসা, হঠাৎ করে ব্রণ বেড়ে যাওয়া, ত্বক নিস্তেজ হয়ে যাওয়া বা অস্বাভাবিক শুষ্কতা, সোরিয়াসিস বা এগ্জ়িমা— এ সবই ইঙ্গিত দেয় শরীরের প্রদাহের। প্রদাহ বাড়লে রক্তসঞ্চালন ও হরমোনের ভারসাম্য বদলে যায়, যার প্রভাব সরাসরি ত্বকে পড়ে। তা ছাড়া অন্ত্রের অণুজীবগুলি নিজেদের মধ্যে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। তখন এই প্রদাহ আরও বেড়ে যায়। তাই শুধু প্রসাধনী দিয়ে আড়াল না করে স্বাস্থ্যরক্ষায় মন দিতে হবে।
২. হজমের সমস্যা: হজমের গোলমালও প্রদাহের বড় ইঙ্গিত। পেটফাঁপা, পেটে অস্বস্তি, অম্বল বা হজমে সমস্যা শরীরের ভিতরে প্রদাহ বাড়ার সঙ্গে জড়িত হতে পারে। অন্ত্রের স্বাস্থ্যের উপর পুরো শরীরের সুস্থতা নির্ভর করে, তাই এই ধরনের লক্ষণ কখনওই উপেক্ষা করা উচিত নয়।
প্রদাহ হলে হজমে সমস্যা দেখা দিতে পারে। ছবি: সংগৃহীত
৩. ব্যথাবেদনা: শরীরের বিভিন্ন জায়গায় টান ধরা, পেশিতে ব্যথা বা অস্থিসন্ধিতে অস্বস্তি হওয়ার মতো লক্ষণগুলি অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কায়িক শ্রমের ফল বলে ভুল করা হয়। কিন্তু একটানা বহু দিন ব্যথা থাকলে বা বিশ্রামের পরেও ব্যথা না কমলে, চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। হতেই পারে তা প্রদাহের লক্ষণ।
আরও পড়ুন:
৪. বিভিন্ন রোগ: কোলাইটিস, আর্থ্রাইটিস, প্যানক্রিয়াটাইটিসের মতো রোগ হলে বুঝতে হবে, শরীরে প্রদাহ বেড়ে গিয়েছে। সে সব ক্ষেত্রে ওষুধের পাশাপাশি প্রদাহ কমানোর চেষ্টাও করতে হবে।
৫. মানসিক অবস্থা: ক্লান্তি আর মেজাজের হেরফেরও সমান গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত ঘুমের পরেও যদি সারা দিন ক্লান্ত লাগে, বা হঠাৎ বিরক্তি বোধ হয়, অস্থিরতা বাড়ে, তা হলে সেটিও শরীরের সতর্কবার্তা। প্রদাহ মস্তিষ্কের কাজেও প্রভাব ফেলে, ফলে মানসিক অবস্থাতেও পরিবর্তন আসে।