যুদ্ধ ঘোষণা করে দিয়েছে গুগ্ল। এ যুদ্ধ মশায়-মশায়। রক্তখেকো স্ত্রীদের সঙ্গে যুদ্ধে নামতে চলেছে পুরুষ বাহিনী। ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়া বা চিকুনগুনিয়ার স্ত্রী মশাদের নির্বিষ করতে নীলকণ্ঠের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে চলেছে ঝাঁকে ঝাঁকে পুং মশারা। প্রায় ৩ কোটি ২০ লক্ষ মশকসেনা নামাতে চলেছে গুগ্ল।
আসলে স্ত্রী মশাই যত নষ্টের গোড়া। তারা কামড়ায়, রক্ত চোষে এবং রোগও ছড়ায়। ডিম পাড়ার তাড়নাতেই তাদের রক্ত খাওয়ার এমন অমোঘ নেশা হয়। তা থেকেই যত রোগের বাড়বাাড়ন্ত। পুরুষেরা সেখানে নিরীহ ও নিরামিষাশী। তারা রক্ত খায় না। গাছের রস খেয়ে বাঁচে। এ হেন নির্বিবাদী পুরুষ মশাদের শরীরে ব্যাক্টেরিয়া ঢুকিয়ে তাদের অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত করে স্ত্রীদের দমন করার উপযোগী করে তুলেছেন গবেষকেরা। এমন পুরুষরা গোপনেই শরীরে ব্যাক্টেরিয়া বয়ে নিয়ে উড়বে। তারা স্ত্রীদের আকৃষ্ট করবে। আর মিলিত হলেই বিপদ। পুরুষের শরীরের ব্যাক্টেরিয়া স্ত্রীদের শরীরে ঢুকে গিয়ে তাদের ডিম পাড়ার ক্ষমতাই নষ্ট করে দেবে।
আরও পড়ুন:
মশা দিয়ে মশা বধ
ক্যালিফোর্নিয়া ও ফ্লোরিডায় আপাতত ৩ কোটি ২০ লক্ষ পুরুষ মশা ছাড়তে চলেছে গুগলের লাইফ সায়েন্স বিভাগ। বিগত কয়েক বছর ধরে গবেষণাগারে এমন মশক বহিনী তৈরি করা হয়েছে, যারা শরীরে এক বিশেষ ব্যাক্টেরিয়া নিয়ে উড়ে বেড়াবে। এ ব্যাক্টেরিয়ার নাম ‘ওলবাকিয়া পিপিয়েন্টিস’। এরা কোনও নতুন ব্যাক্টেরিয়া নয়। বহু আগে থেকেই ছিল। তবে এদের গুণের কথা তেমন ভাবে জানা ছিল না। এরা যখন কোনও পতঙ্গের শরীরে আশ্রয় করে থাকে, তখন তাদের সংক্রমণ ঘটানোর ক্ষমতা বিলুপ্ত হয়। পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে, মশার শরীরে যদি ওলবাকিয়া কোনও ভাবে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়, তা হলে সে মশা কামড়ালেও রোগ হবে না। স্ত্রী মশারাই যেহেতু রোগ ছড়ায়, তাই শরীরে এই ব্যাক্টেরিয়া ঢুকিয়ে দেওয়াই মূল লক্ষ্য ছিল। কিন্তু সে কাজ বড় কঠিন। এডিস ইজিপ্টাই বা অ্যানোফিলিসের মতো মশাদের নাগাল পাওয়া খুবই কঠিন। সে কারণে বিজ্ঞানীরা কৌশলে পুরুষ মশাদেরই হাতিয়ার করেছেন। এই পুরুষদের প্রেমে আকৃষ্ট হয়ে মিলন করলেই স্ত্রীদের শরীরে সেঁধিয়ে যাবে ওলবাকিয়া। তার পরেই স্ত্রীদের শরীরে বাসা বেঁধে থাকা ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়ার জীবাণুদের নষ্ট করবে। শুধু তা-ই নয়, কিছু ক্ষেত্রে স্ত্রীদের ডিম পাড়ার ক্ষমতাও নষ্ট হয়ে যাবে। যদিও বা কোনও স্ত্রী মশা ডিম পাড়ে তা হলে পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যেও ছড়িয়ে যাবে ব্যাক্টেরিয়া। সে মশা পূর্ণাঙ্গ হওয়ার পরেও রোগ ছড়ানোর ক্ষমতা হারিয়ে ফেলবে।
ওলবাকিয়া ব্যক্টেরিয়া।
গবেষকেরা দেখেছেন, বেশ কয়েক বছর ধরে কোনও এলাকায় এ ভাবে যদি ব্যাক্টেরিয়াবাহী মশা ছড়িয়ে দেওয়া হয়, তা হলে প্রজন্মের পর প্রজন্ম মশারা রোগ ছড়ানোর ক্ষমতা হারিয়ে ফেলবে। এতে মশককুল টিকে থাকলেও, ডেঙ্গি-ম্যালেরিয়ার মতো রোগের উৎপাতও ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যাবে।
ইউরোপ বা আমেরিকা শুধু নয়, এশীয় দেশগুলিতেও ব্যাক্টেরিবাহী মশা ছড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ভারতেও প্রাথমিক স্তরে এমন মশা নিয়ে কাজ শুরু করেছিল পুদুচেরীর ভেক্টর কন্ট্রোল রিসার্চ সেন্টার। মুম্বই ও দিল্লিতে এমন মশা ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চের (আইসিএমআর)।