Advertisement
E-Paper

১৬ বছর বয়স থেকে একই রকম জলখাবার! ৫টা ডিমের সঙ্গে আর কী খেয়ে ফিট ক্রিকেটার প্রতিকা রাওয়াল

বিশ্বকাপ দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন। নিয়মিত শারীরচর্চার সঙ্গে খাওয়াদাওয়াও নিয়ম মেনে করেন ভারতীয় ক্রিকেটার প্রতিকা রাওয়াল। ১৬ বছর বয়স থেকে তাঁর জলখাবারের রুটিন বদলায়নি। কী খেলে এত ফিট তিনি?

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০২ জুন ২০২৬ ১১:৫৯
Why the Indian Cricketer Has Followed the Same Breakfast Routine Since Age 16

১০ বছর ধরে একই রকম প্রাতরাশ করছেন, এর রহস্য কী? ফাইল চিত্র।

একটু বেশি বয়সেই ভারতীয় দলে সুযোগ পেয়েছিলেন। স্মৃতি মন্ধানার সঙ্গে ওপেনিং জুটিতে একাধিক রেকর্ড তাঁর। বিশ্বকাপে শতরানের রেকর্ডও রয়েছে। ভারতীয় ক্রিকেটার প্রতিকা রাওয়ালের ফিটনেস নিয়ে রীতিমতো আলোচনা হয়। নিয়মিত শারীরচর্চার সঙ্গে খাওয়াদাওয়াও নিয়ম মেনে করেন তিনি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে প্রতিকা জানিয়েছেন, একই রকম খাবার খেতে তিনি অভ্যস্ত। সেই ১৬ বছর বয়স থেকে তাঁর জলখাবারের রুটিন বদলায়নি। প্রতি দিন সকালে একই রকম খাবার খান। সকাল সকাল ৫টি ডিম তাঁর বরাদ্দ। সঙ্গে থাকে আরও কিছু। কেন একই রকম খাবার টানা ১০ বছর ধরে খেয়ে যাচ্ছেন প্রতিকা?

প্রতিকার ফিটনেস প্রশিক্ষক ও পুষ্টিবিদ গরিয়া গোয়েল তাঁর জলখাবারের রুটিন ঠিক করে দিয়েছেন। তিনি জানান, প্রতিকাকে মাঠে নেমে খেলতে হয়। তাই তাঁর পেশি যেমন মজবুত থাকা জরুরি, তেমনই হাড়ের জোরও থাকতে হবে। সেই সঙ্গে দেখতে হবে যাতে পুষ্টির ঘাটতি না হয়। সে কারণে জলখাবারে এমন কিছু রাখতে হয় যা সারা দিন তাঁকে শক্তির জোগান দিয়ে যাবে। প্রোটিনের জন্য প্রতিকা খান ৫টি ডিম, তার মধ্যে ২টি সেদ্ধ ও তিনটি মশলা দেওয়া অমলেট। সঙ্গে থাকে অ্যাভোকাডো ও খেজুরের স্মুদি। প্রোবায়োটিকের জন্য খেতে হয় দই। সঙ্গে সকালে খালি পেটে কম্বুচার পানীয়। সকাল সকাল রুটি, পরোটা বা পাউরুটি একেবারেই বাদ। প্রতিকা নিজেও জানিয়েছেন, জলখাবারে পাউরুটি তাঁর একেবারেই পছন্দ নয়। বরং মায়ের হাতের মশলা দেওয়া অমলেট এবং খেজুরের স্মুদি খেয়েই তিনি সবসময়ে ফিট ও তরতাজা থাকেন।

প্রতিকার মতো জলখাবার কি সকলে খেতে পারেন?

প্রতিকা যে ধরনের জলখাবার খাচ্ছেন তা প্রোটিন নির্ভর। ডিম প্রোটিনের ভাল উৎস। প্রতিকা শুধু ডিম সেদ্ধ খান না, সঙ্গে মশলা ও সব্জি দেওয়া অমলেটও খান। সেখান থেকে প্রোটিনের পাশাপাশি ফাইবারও ঢোকে তাঁর শরীরে। ডিমে থাকা কোলিন ও ভিটামিন বি ১২ মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ শক্তিও বাড়িয়ে তোলে। অ্যাভোকাডো ও খেজুরের স্মুদি স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের জোগান দেয়। খেজুরের প্রাকৃতিক শর্করা গ্লাইকোজেনের মাত্রা বাড়াতে সহায়ক হয়, যা দীর্ঘ ক্ষণ অনুশীলন করার শক্তি জোগায়। দীর্ঘ পরিশ্রমেও শরীর ক্লান্ত হবে না।

পরিপাকতন্ত্রকে ঠিক রাখতে ও হজমশক্তি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে টক দই ও কম্বুচা। দুই খাবারই প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ। কোম্বুচা ফার্মেন্টেশন বা গাঁজন প্রক্রিয়ায় তৈরি এক বিশেষ ধরনের পানীয়। এতে উপকারী ব্যাক্টেরিয়া থাকে, যা অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য ভাল।

প্রতিকা খেলায়োড়। তাই তাঁর শারীরিক গঠন ও পেশার জন্য এমন জলখাবার উপযুক্ত। তবে তা সকলের জন্য উপযোগী না-ও হতে পারে। যাঁরা দীর্ঘ সময়ে বসে কাজ করেন বা কায়িক পরিশ্রম কম হয়, তাঁরা একবারে ৫টি ডিম ও সঙ্গে দই খেয়ে ফেললে হিতে বিপরীতই হতে পারে। শরীরের চাহিদা বুঝেই তা খেতে হবে। মাত্রাতিরিক্ত প্রোটিন খেলে রক্তে নাইট্রোজেনের পরিমাণ বেড়ে যায়। কিডনির উপর চাপ পড়ে। তা ছাড়া হজমের সমস্যা দেখা দিতে থাকে। শরীরে ফাইবারের পরিমাণ কমে গিয়ে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই কার জন্য কোন খাবার উপযুক্ত তা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়েই খেতে হবে।

Pratika Rawal Healthy Diet healthy food
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy