ক্যামেরার সামনে যে ভাবে দাঁড়াতেন, যে ভাবে অভিনয় করতেন, তাতে বুঝে ওঠার জো ছিল না। কিন্তু সুন্দরী, লাস্যময়ী অভিনেত্রী অ্যানি হ্যাথাওয়ে ১০ বছর প্রায় দৃষ্টিহীন হয়েই পর্দা কাঁপিয়েছেন। আর এ কথা প্রকাশ্যে এসেছে সদ্যই। সম্প্রতি ‘দ্য ডেভিল ওয়্যার্স প্রাডা ২’-এর নায়িকা জানালেন, অনেক কম বয়স থেকেই চোখের গুরুতর রোগে আক্রান্ত ছিলেন তিনি। প্রায় এক দশক ধরে সেই রোগের সঙ্গে যুঝতে হয়েছে ৪৩-এর অ্যানিকে।
‘আর্লি-অনসেট ক্যাটার্যাক্ট’ অর্থাৎ, কম বয়সে ছানির সমস্যায় ভুগেছেন অভিনেত্রী। তাঁর কথায় জানা যায়, কম বয়সে ছানি পড়ার কারণে দীর্ঘ দিন ধরে তাঁর বাঁ চোখের দৃষ্টি ক্ষতিগ্রস্ত ছিল। সেই সময়ে তিনি কার্যত ‘অর্ধেক অন্ধ’ ছিলেন বলেই দাবি অ্যানির। পরে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সেই সমস্যার সমাধান হয়। ফিরে পান স্পষ্ট দৃষ্টি।
ছানি আসলে কী রোগ?
ছানি সাধারণত ‘বুড়ো’ বয়সের অসুখ বলে পরিচিত। কিন্তু এই রোগ বাসা বাঁধতে পারে অল্প বয়সেও। একেই বলা হয় ‘আর্লি-অনসেট ক্যাটার্যাক্ট’, যাতে আক্রান্ত ছিলেন অ্যানি। তার নেপথ্যে নানা কারণ থাকতে পারে। ছানি এমন এক অবস্থা, যেখানে চোখের স্বচ্ছ লেন্স ধীরে ধীরে ঘোলা হয়ে যেতে থাকে। এর ফলে আলো ঠিক মতো চোখের ভিতরে প্রবেশ করতে পারে না এবং দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যায়।
কম বয়সে চোখে ছানি পড়লে কী ভাবে বুঝবেন? ছবি: সংগৃহীত
কম বয়সে কেন হয়?
চিকিৎসকদের মতে, জিনগত কারণ, চোখে আঘাত, ডায়াবিটিস, দীর্ঘ দিন স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ ব্যবহার, কিছু বিপাকজনিত সমস্যা বা জন্মগত কারণেও কম বয়সে ছানি পড়তে পারে। যদিও সব ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না।
আরও পড়ুন:
কী কী উপসর্গ দেখা দিতে পারে?
· ধীরে ধীরে দৃষ্টি ঝাপসা হতে পারে।
· রং ফিকে বা হলদেটে দেখাতে পারে
· রাতে গাড়ি চালাতে অসুবিধা হতে পারে
· আলোর ঝলকানিতে চোখে অস্বস্তি হতে পারে
· এক চোখে দু’টি ছবি দেখা যেতে পারে
· পড়াশোনার জন্য বেশি আলোর প্রয়োজন হতে পারে
· একটি চোখে বেশি ঝাপসা দেখার সমস্যাও হতে পারে