Advertisement
E-Paper

বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে যায় হাত- পা, গরমেও শীতের অনুভূতি হয়! ভোগেন অনেকেই, কেন হয় এমন?

হাত ও পায়ের পাতা, আঙুল কনকনে ঠান্ডা হয়ে যায়। মাঝেমধ্যে তা অবশও হয়। অনেকেই ভোগেন এমন সমস্যায়। একে কোনও নির্দিষ্ট রোগ বলা যায় না। আসলে রোগের পূর্বলক্ষণ। শরীরে কোন কোন সমস্যা দেখা দিলে এমন হতে পারে, তা জেনে নিয়ে সতর্ক হতে হবে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০২ জুন ২০২৬ ১২:৫১
Why Some People Feel Chilly Even in Summer and the Warning Signs You Shouldn\\\'t Ignore

যখন-তখন ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে হাত-পা, কখন সতর্ক হবেন? ফাইল চিত্র।

হাত এবং পা মাঝেমধ্যেই কনকনে ঠান্ডা হয়ে যাওয়া বেশ পরিচিত একটি সমস্যা। অনেকেরই হয়। অফিসে বসে কাজ করছেন, দেখলেন হাতের পাতা কনকনে ঠান্ডা হয়ে গিয়েছে। অবশ হয়ে আসছে আঙুল। আবার প্রচণ্ড গরমে যখন ঘাম হচ্ছে, তখনও হয়তো আপনার হাত-পায়ে শীতল অনুভূতি হচ্ছে। মেরুদণ্ড বেয়ে হিমেল স্রোত নামছে। কেন এমন হয়?

পারিপার্শ্বিক তাপমাত্রা কম থাকলে শরীর তার গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলিকে যেমন, হৃৎপিণ্ড বা ফুসফুসকে গরম রাখার জন্য হাত-পায়ের রক্তনালি সঙ্কুচিত করে দেয়। ফলে হাত-পা ঠান্ডা হয়, যা স্বাভাবিক। কিন্তু যদি স্বাভাবিক তাপমাত্রায় বা গরমের সময়েও হাত-পা বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে যায়, তবে তা স্বাভাবিক নয় বলেই ধরে নিতে হবে। সে ক্ষেত্রে কখন সতর্ক হতে হবে, তা জেনে রাখা জরুরি।

বরফের মতো ঠান্ডা হচ্ছে হাত-পা, কখন সতর্ক হবেন?

রক্তনালিতে ব্লকেজ

শরীরে রক্ত সঞ্চালনে যদি সমস্যা হয়, তা হলে এমন হতে পারে। খেয়াল করে দেখবেন, যখন-তখন যদি হাত-পা বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে যায়, বিশেষ করে ঘুমের সময়ে যদি বেশি হয়, তা হলে বুঝতে হবে হাত বা পায়ের রক্তনালিগুলিতে কোনও ব্লকেজ হচ্ছে। রক্ত সঞ্চালনের সমস্যার জন্যই এমন হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।

রেনড'স ফেনোমেনন

এটি একটি বিশেষ শারীরিক অবস্থা। নামটি প্রায় অচেনা। তবে লক্ষণ অনেকেরই দেখা দেয়। সামান্য ঠান্ডা লাগলে বা অত্যধিক মানসিক চাপ হলে হাত ও পায়ের আঙুলের রক্তনালিগুলি হঠাৎ তীব্র ভাবে সঙ্কুচিত হয়ে যায়। এর ফলে হাত ও পায়ের আঙুল কনকনে ঠান্ডা হতে থাকে। অনেক সময়ে আঙুলের রং বদলে ফ্যাকাশে বা নীলচেও হয়ে যায়। এমন হলে সতর্ক হতে হবে।

হাইপোথাইরয়েডিজ়ম

গলায় শ্বাসনালির সামনের দিকে থাকে থাইরয়েড গ্রন্থি। এই গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন শরীরের বিভিন্ন কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। যেমন, বিপাকক্রিয়া, শিশুদের স্বাভাবিক বেড়ে ওঠা, বুদ্ধির বিকাশ, বয়ঃসন্ধির লক্ষণ, মহিলাদের ক্ষেত্রে ঋতুচক্র, সন্তানধারণ, শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ—এগুলি নির্ভর করে থাইরয়েড গ্রন্থির থেকে নিঃসৃত হরমোনের উপরে। যদি হরমোন নিঃসরণের হার কমে যায়, তা হলে শরীর পর্যাপ্ত তাপ উৎপন্ন করতে পারে না। সে ক্ষেত্রেও ঠান্ডার অনুভূতি বেশি হয়। সব সময়েই মনে হবে শীত করছে।

পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি

মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ড থেকে বার্তা ও সংবেদন শরীরের নানা অংশে পৌঁছে দেয় বিভিন্ন স্নায়ু। এই স্নায়ুপথে সমস্যা তৈরি হলেই এই রোগ দেখা দেয়। পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথির স্নায়বিক সমস্যা। তার নানা ধরন হয়। রোগটি হলে শরীরের বিভিন্ন স্নায়ু কার্যক্ষমতা কমতে থাকে। রোগটি এমনই যে গোড়ায় রোগী নিজেও বুঝতে পারেন না তাঁর আদৌ কোনও অসুবিধা হচ্ছে। স্নায়ুর নিয়ন্ত্রণ কমে আসায় হাত-পা কাঁপে। ঠান্ডা ও অসাড় হয়ে যেতে থাকে। অনেক সময়েই হাতে ও পায়ে সাড় থাকে না। তাই এমন হলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

Hypothyroidism Nerve trouble Anemia
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy