বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রেম। পরে সহবাস। কিন্তু এখন বিয়ে করতে চান না। এমনই অভিযোগ ওঠে এক আর্থিক সংস্থার শাখা ম্যানেজারের বিরুদ্ধে। সংস্থার ওই মহিলাকর্মীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে পুরুলিয়া মহিলা থানার পুলিশ। মঙ্গলবার পুরুলিয়া আদালতে তাঁকে তোলা হলে, বিচারক তিন দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন।
অভিযুক্ত ব্যক্তি একটি আর্থিক সংস্থার শাখা ম্যানেজার। ওই অফিসেই এক বিধবা মহিলাকর্মীর সঙ্গে দীর্ঘ দিন প্রেম এবং সহবাস করেন বলে অভিযোগ। এমনকি, বিয়ের প্রতিশ্রুতিও দেন অভিযুক্ত ব্যক্তি। পরে বিয়ে করতে অস্বীকার করায় ওই মহিলা তাঁর শাখা ম্যানেজারের বিরুদ্ধে পুরুলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে বাঁকুড়ার ইন্দপুর থানা এলাকার ওই বাসিন্দাকে গ্রেফতার করে পুরুলিয়া মহিলা থানার পুলিশ। মঙ্গলবার তাঁকে পুরুলিয়া আদালতে তোলা হলে বিচারক তিন দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন।
হুড়া থানা এলাকার বাসিন্দা অভিযোগকারিণী ওই তরুণী জানান, কর্মসূত্রে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে অভিযুক্তের সঙ্গে তাঁর আলাপ। তার পরেই ওই ব্যক্তি প্রেম নিবেদন করেন এবং বিধবা ওই মহিলাকর্মীকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেন। অভিযোগ, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি একাধিকবার যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। যার কারণে ওই মহিলা গর্ভবতী হয়ে পড়লে, জোর করে তাঁর গর্ভপাতও করানো হয় বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারী মহিলা। এমনকি, তাঁকে নিয়ে একটি ভাড়া বাড়িতেও মাসখানেক অভিযুক্ত ছিলেন বলে দাবি করেছেন তিনি। পরে অভিযুক্ত ব্যক্তি বিয়ে করতে অস্বীকার করেন এবং তাঁর স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে, বলেও জানান ওই ব্যক্তি। এতে মানসিক ভাবে ভেঙে পড়ে ওই তরুণী কাজ থেকেও ইস্তফা দিয়েছেন বলে জানান। অভিযোগের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। ধৃতের বিরুদ্ধে প্রতারণা করে যৌন সম্পর্ক স্থাপন, প্রতারণা ও গর্ভপাত করানোর ধারা যুক্ত করেছে পুলিশ। তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।