Advertisement
E-Paper

কৃষিজীবী উদ্বাস্তু পরিবারের সন্তান থেকে রাজ্যের মন্ত্রী, লড়াই করেই দিবাকর ঘরামির উত্থান

বাঁকুড়ার সোনামুখী ব্লকের দামোদর নদ লাগোয়া প্রত্যন্ত গ্রাম কুরুমপুরে জন্ম দিবাকরের। তাঁর পূর্বপুরুষ ছিলেন বর্তমান বাংলাদেশের বরিশালের বাসিন্দা।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০২ জুন ২০২৬ ০৩:০০
দিবাকর ঘরামি।

দিবাকর ঘরামি। ফাইল চিত্র।

গত ৯ মে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে শপথ নিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি মন্ত্রিসভা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পাশাপাশি শপথ নিয়েছিলেন পাঁচ মন্ত্রী— দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, নিশীথ প্রামাণিক, অশোক কীর্তনিয়া এবং ক্ষুদিরাম টুডু। সোমবার মন্ত্রিসভার প্রথম সম্প্রসারণে অন্তর্ভুক্ত হলেন আরও ৩৫ জন। তাঁদের মধ্যে একজন হলেন সোনামুখি থেকে টানা দু’বারের জয়ী বিধায়ক দিবাকর ঘরামি। একজন সাধারণ কৃষক পরিবারের সন্তান থেকে রাজ্যের মন্ত্রীসভায় স্থান পাওয়ার লড়াইটা ছিল খুব কঠিন।

বাঁকুড়ার সোনামুখী ব্লকের দামোদর নদ লাগোয়া প্রত্যন্ত গ্রাম কুরুমপুরে জন্ম দিবাকরের। তাঁর পূর্বপুরুষ ছিলেন বর্তমান বাংলাদেশের বরিশালের বাসিন্দা।

১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হওয়ার পর দিবাকরের পিতামহ তাঁদের পরিবারকে নিয়ে এই দেশে চলে আসেন। ঠাঁই হয় সোনামুখী ব্লকের দামোদর নদের পাড়ের এই প্রত্যন্ত গ্রামে। আপাদমস্তক কৃষিজীবী উদ্বাস্তু পরিবারের সন্তান হওয়ায় ছোট থেকেই দিবাকরের প্রধান লড়াইটি ছিল দারিদ্রের সঙ্গে। কৃষিকাজের ফাঁকে ধীরে ধীরে এলাকায় বিজেপির সাংগঠন তৈরির কাজে নিযুক্ত হন তিনি। ২০২১ সালে বিজেপি তাঁকে সোনামুখী বিধানসভায় প্রার্থী করলে বিধায়ক হন দিবাকর। ২০২৬ সালেও তা পরিবর্তন হয়নি। তৃণমূলের প্রার্থী শ্যামল সাঁতরাকে প্রায় ১১ হাজার ভোটে হারিয়ে আবার বিধায়ক হন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেওয়ার পর দিবাকর বলেন, “একজন সাধারণ কৃষিজীবী পরিবারের সন্তান হিসাবে ফসলের ক্ষেত থেকে সরাসরি রাজ্যের মন্ত্রীসভায় স্থান পাওয়া এই লড়াইটা সহজ ছিল না। কিন্তু আমার পরিবারের লোকজন, সোনামুখীর আপামর মানুষ এবং আমার দলের সর্বস্তরের নেতৃত্বের সহযোগিতায় সেই লড়াই অনেক সহজ হয়ে যায়। এখন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী আমাকে যে দায়িত্ব দেবেন তা নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করব। একইসঙ্গে পিছিয়ে পড়া সোনামুখীর সামগ্রিক উন্নয়নই আমার প্রাথমিক লক্ষ্য।”

ঘরের ছেলে প্রতিমন্ত্রী হওয়ায় খুশি পরিবারের সকলে। দিবাকরের বাবা নারায়ণ ঘরামি বলেন, “ছেলে মাত্র ১৪ বছর বয়স থেকে বিজেপির সঙ্গে যুক্ত। একসময় আমাদের এলাকায় বিজেপির চিহ্নমাত্র ছিল না। আমার ছেলে আর তার এক বন্ধু মিলে গ্রামে গ্রামে ঘুরে বিজেপির সংগঠন গড়ে তুলেছে। ছেলে শপথ নিয়ে বাড়ি ফিরে এলে দামোদর নদের ভাঙন রোধ ও এলাকার রাস্তাঘাটের উন্নয়ন করার কথা বলব।”

bankura
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy