E-Paper

বীরভূমের চাকরিহারা শিক্ষকের অপমৃত‍্যু

চাকরিহারা যোগ্য শিক্ষকেরা জানাচ্ছেন, এখনও পর্যন্ত একাদশ-দ্বাদশের মেধাতালিকা প্রকাশ হওয়ার পরে দু’দফায় কাউন্সেলিং হয়ে কিছু প্রার্থী সুপারিশপত্র পেয়েছেন। আবার যাঁরা সুপারিশপত্র পেয়েছেন, তাঁদের মধ্যে কিছু প্রার্থীর সুপারিশপত্র পাওয়ার ৯০ দিন পেরিয়ে গিয়েছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০১ জুন ২০২৬ ০৮:৪০

—প্রতীকী চিত্র।

হাতে মাত্র আর তিনটে মাস। ৩১ অগস্ট যোগ্য চাকরিহারা শিক্ষকদের মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। তারপর কী হবে? তাঁরা কি ফের চাকরিহারা হতে চলেছেন? স্কুল শিক্ষকদের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তার আবহে বীরভূমের লাভপুরের কাছে রামনগর হাই স্কুলের চাকরিহারা শিক্ষক সৌমেন বন্দ্যোপাধ্যায়ের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা সামনে এল। পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ায় নিজের বাড়িতে শনিবার দুপুরে তিনি গলায় গামছায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন। কোনও ‘সুইসাইড নোট’ মেলেনি। রয়েছেন স্ত্রী, আট মাসের ছেলে। চাকরি নিয়ে সৌমেন খুবই দুশ্চিন্তা করতেন বলে তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের খবর। এক চাকরিহারা যোগ্য শিক্ষক রূপা কর্মকার জানান, সৌমেন ২০১৬ সালের যোগ্য চাকরিহারা শিক্ষক। একাদশ-দ্বাদশের শিক্ষক সৌমেন ফের তাঁদের সঙ্গে ২০২৫ সালে এসএসসি দেন এবং পাশ করেন। তিনি ইন্টারভিউতেও উত্তীর্ণ হন। মেধা তালিকায় তাঁর নাম উঠেছে। কিন্তু এখনও কাউন্সেলিং হয়নি। ফলে এখনও সুপারিশপত্র পাননি তিনি।

প্রশ্ন উঠছে, সৌমেনের যেখানে মেধাতালিকায় নাম উঠেছে সেখানে চাকরি তো তিনি পেতেনই, তা হলে কেন এত হতাশা জমেছিল তাঁর? রূপা বলেন, “মেধা তালিকায় নাম উঠলেই তো হল না। প্রশ্ন হল, নিয়োগ কবে হবে? আমিও লিখিত পরীক্ষায় পাশ করে ইন্টারভিউতে উতরেছি, তো মেধাতালিকায় নাম উঠেছে। কিন্তু চরম অনিশ্চয়তায় ভুগছি। এ দিকে সু্প্রিম কোর্ট বলছে, ৩১ অগস্টের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে হবে। না হলে তো আমরা ফের চাকরিহারা হয়ে যাব।”

চাকরিহারা যোগ্য শিক্ষকেরা জানাচ্ছেন, এখনও পর্যন্ত একাদশ-দ্বাদশের মেধাতালিকা প্রকাশ হওয়ার পরে দু’দফায় কাউন্সেলিং হয়ে কিছু প্রার্থী সুপারিশপত্র পেয়েছেন। আবার যাঁরা সুপারিশপত্র পেয়েছেন, তাঁদের মধ্যে কিছু প্রার্থীর সুপারিশপত্র পাওয়ার ৯০ দিন পেরিয়ে গিয়েছে। ৯০ দিন পেরিয়ে গেলে সেই সুপারিশপত্রের বৈধতা থাকে না বলে চাকরিহারা শিক্ষকদের দাবি।

ওই চাকরিহারা শিক্ষকেরা আরও জানাচ্ছেন, একাদশ-দ্বাদশের তবু মেধা তালিকা বেরিয়েছে, নবম-দশমের প্রার্থীদের শুধু লিখিত পরীক্ষার ফল বেরিয়ে ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যাচাই পর্ব চলছে। এক চাকরিপ্রার্থী সঙ্গীতা সাহা বলেন, “নবম-দশমের ভেরিফিকেশন শেষে মেধাতালিকা প্রকাশ, তারপর তাঁদের কাউন্সেলিং করে সুপারিশপত্র দেওয়া, পুরোটা কি সম্ভব ৩১ অগস্টের মধ্যে?”

সঙ্গীতা বলেন, “যোগ্যদের চাকরি ফিরে পাওয়ার জন্য যতটা উদ্যোগী হতে হত, আগের সরকার ততটা হয়নি। এখন নতুন সরকার কী করবে আমরা জানি না। গত সরকারকে আর্জি জানিয়েছিলাম আমাদের জন্য সুপ্রিম কোর্টে কিউরেটিভ পিটিশন করতে। তারা করেনি। এই সরকারের কাছেও আর্জি, সুপ্রিম কোর্টে কিউরেটিভ পিটিশন করুক।”

এখনও পর্যন্ত ছ’ জন শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী আন্দোলন চলাকালীন মারা গিয়েছেন বলে জানিয়েছেন চাকরিহারা এক যোগ্য শিক্ষক মেহেবুব মণ্ডল। তিনি বলেন, “এর মধ্যে পাঁচ জন অবসাদে ও দুশ্চিন্তায় হৃদ্‌রোগে মারা গিয়েছেন। এ বার আত্মঘাতী হওয়ার ঘটনাও ঘটল। শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে আমাদের চাকরি ফেরানো নিয়ে কোনও বিবৃতি দেননি। আশা করি, তিনি দ্রুত সমস্যার সমাধান করবেন।”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

SSC police investigation

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy