পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ এখনই না থামলে ধাক্কা খেতে পারে বিমা শিল্প। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, এতে এক দিকে গ্রাহক কমবে। অন্য দিকে, বিমার ক্ষতিপূরণ বাবদ খরচ বাড়বে সংস্থাগুলির। সবচেয়ে বেশি সমস্যা হবে সাধারণ বিমায়।
এলআইসি-র এমডি-সিইও আর দোরাইস্বামী বলেন, “কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে চলেছি আমরা। শক্ত বুনিয়াদের উপর দাঁড়িয়ে থাকা ভারতের অর্থনীতি এখনও যুদ্ধের উত্তাপ সে ভাবে দেশের নাগরিকদের উপর পড়তে দেয়নি। কিন্তু যুদ্ধ আরও বেশি দিন চললে তার আঁচ এড়ানো কঠিন হবে।” তাঁর দাবি, সে ক্ষেত্রে আরও অনেক ক্ষেত্রের মতো বিমা শিল্পও রেহাই পাবে না। অর্থনীতির ক্ষতি হলে নাগরিকদের আর্থিক অবস্থার অবনতি হবে। জিনিসপত্রের দাম আগুন হতে পারে। দৈনন্দিন খরচ সামলাতে গিয়ে বিমার খরচ ছাঁটবেন বহু মানুষ।
উপদেষ্টা প্রাইসওয়াটার হাউস কুপার্সের পার্টনার এবং লিডার (বিমা) অমিত রায় বলেন, ‘‘জীবন বিমা সংস্থাগুলি দু’ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এক, যুদ্ধের জেরে মানুষের জীবনযাত্রার খরচ বাড়লে সঞ্চয় এবং লগ্নির পুঁজি কমবে। ফলে বিমা করার ঝোঁক কমতে পারে। দ্বিতীয়ত, তেলের দামের কারণে যাতায়াতের খরচ ক্রমশ বাড়লে এজেন্টদের পক্ষেঘুরে-ঘুরে প্রকল্প বিক্রি কঠিন হবে। এতেও গ্রাহক এবং প্রিমিয়াম বাবদ আয়ে ধাক্কা লাগতে পারে। বাণিজ্যিক বিমার রিইনশিয়োরেন্স বা পুনরায় বিমা করার প্রিমিয়াম বাড়াতে পারে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি। এর ফলে সমস্যায় পড়বে বিভিন্ন মূল বিমা সংস্থা।’’
সাধারণ বিমা সংস্থা এইচডিএফসি আরগোর এমডি-সিইও পার্থনীল ঘোষের আশঙ্কা, “সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে পারে সাধারণ বিমা সংস্থা। ব্যবসার উপর চাপ পড়বে। যেমন, সারের দাম বাড়ায় কৃষি ক্ষেত্রে সমস্যা বাড়বে। তার বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে কৃষি বিমায়। আবার তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে মূল্যবৃদ্ধির হার মাথা তুললে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচ বাড়বে। ফলে স্বাস্থ্য, গাড়ি, বাড়ি ইত্যাদির বিমা ব্যবসা কমার আশঙ্কা।’’ পার্থনীলের মতে, মূল্যবৃদ্ধির হার মাথা তুললে চিকিৎসার খরচ, গাড়ির যন্ত্রপাতি ইত্যাদির দামও বাড়বে। সে ক্ষেত্রে বেড়ে যাবে বিমার ক্ষতিপূরণ দাবির অঙ্কও। অথচ কমবে বিমা করার ঝোঁক। সব মিলিয়ে বিমা শিল্প এখন জোড়া সঙ্কটের মুখে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)