আগামী ৩-৫ জুন ঋণনীতি পর্যালোচনায় বসছে ভারতীয় রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কের ঋণনীতি কমিটি।৫ জুন ঘোষণা করা হবে সুদের হার। তার আগে সুদ বাড়ানো হবে নাকি তা একই থাকবে, এই প্রশ্নে জল্পনা চড়ছে।
সম্প্রতি একাধিক সমীক্ষায় দাবি করা হয়েছিল, দেশে তেল-গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ার ফলে মাথা তুলতে শুরু করেছে মূল্যবৃদ্ধির হার। ফলে জুন এবং অগস্টে রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক সুদের হার মোট ৫০ বেসিস পয়েন্ট বাড়াতে পারে। একাংশের দাবি ছিল, জুনে না হলেও সুদ বাড়তে পারে অগস্টে। আরবিআই গভর্নর সঞ্জয় মলহোত্র অবশ্য বলেছেন, প্রয়োজন অনুসারে সিদ্ধান্ত নেবেন তাঁরা। এ বার ঋণনীতি বৈঠকের মুখে অর্থনীতিবিদদের একাংশ জানালেন, আসন্ন বৈঠকে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সম্ভাবনা বেশি। সে ক্ষেত্রে রেপো রেট (যে সুদে ব্যাঙ্কগুলিকে সুদ দেয় আরবিআই) ৫.২৫ শতাংশেই স্থির থাকতে পারে। শুধু তাই নয়, আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৭ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত এই অবস্থান বজায়থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও দাবি তাঁদের একাংশের।
তবে ক্রমবর্ধমান জ্বালানি মূল্য, সরবরাহ-শৃঙ্খলের সঙ্কট এবং টাকার অবমূল্যায়নের প্রেক্ষিতে বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞের মতে, আরবিআই আসন্ন দ্বিমাসিক ঋণনীতি পর্যালোচনায় মূল্যবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়াতে এবং জিডিপি বৃদ্ধির অনুমান কমাতে পারে। মলহোত্রার নেতৃত্বে ছয় সদস্যের ঋণনীতি কমিটি তিন দিনের আলোচনার সেই সিদ্ধান্ত নেবে। তার পরে ৫ জুন হবেঘোষণা। এপ্রিলেও আরবিআই সুদ অপরিবর্তিত রেখেছিল।
ব্যাঙ্ক অব বরোদার প্রধান অর্থনীতিবিদ মদন সবনভিস বলেন, ‘‘এ বারও সম্ভবত সুদের হার অপরিবর্তিত থাকবে। তবে কিছুটা সতর্ক এবং কঠোর নীতি নিতে পারে শীর্ষ ব্যাঙ্ক। মূল্যবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়ে ৫ শতাংশের দিকে নিতে পারে এবং জিডিপি বৃদ্ধির পূর্বাভাস ৬.৯% থেকে কমিয়ে ৬.৫ শতাংশের কাছাকাছি নামাতে পারে।’’ ক্রিসিল-এর প্রধান অর্থনীতিবিদ দীপ্তি দেশপান্ডেও মনে করছেন আরবিআই রেপো অপরিবর্তিত রেখে নিরপেক্ষ (নিউট্রাল, প্রয়োজন অনুযায়ী সুদ বাড়ানো বা কমানো) নীতিগত অবস্থান অপরিবর্তিত রাখবে। প্রায় একই সুরে মূল্যায়ন সংস্থা ইক্রা-র প্রধান অর্থনীতিবিদ অদিতি নায়ারের যুক্তি, এর কারণ দেশে বর্ষার ঘাটতি এবং এল নিনিয়ো পরিস্থিতি নিয়ে আবহাওয়া দফতরের উদ্বেগজনক বার্তা। এর পাশাপাশি, পশ্চিম এশিয়ায় অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকাও। অন্য দিকে ইকুইরাস ক্যাপিটালের এমডি এবং ফিক্সড ইনকাম বিভাগের প্রধান বিনয় পাই-এর দাবি, ২৫-৫০ বেসিস পয়েন্ট পর্যন্ত সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কা করা হচ্ছে বটে। তবে এখনই অতটা কঠোর অবস্থান না-ও নিতে পারে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)