E-Paper

বেআইনি শৌচাগার ভাঙল পুরসভা, ক্ষোভ অশোকের

মন্ত্রীকে শান্ত করার চেষ্টা করেন পুরপ্রধান। তিনি জানান, গত শনিবার পুরবোর্ডের বৈঠকে যে পাঁচটি বেআনি নির্মাণ ভাঙার সিদ্ধান্ত হয়, তার মধ্যে ওই শৌচাগারটিও ছিল।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০১ জুন ২০২৬ ০৯:৪৩
ভেঙে ফেলা হচ্ছে রাস্তার পাশে থাকা শৌচালয়।

ভেঙে ফেলা হচ্ছে রাস্তার পাশে থাকা শৌচালয়। ছবি: নির্মাল্য প্রামাণিক।

রাজ্যে সরকার বদলের পরে নানা জায়গায় বেআইনি নির্মাণ ভাঙতে উদ্যোগী হয়েছে প্রশাসন। রবিবার সকালে বিচালিহাটায় বুলডোজ়ার দিয়ে তেমনই একটি পুরনো গণ শৌচাগার এবং সংলগ্ন ভ্যাট ভেঙে দেয় তৃণমূল পরিচালিত পুরসভা। কিন্তু এ ক্ষেত্রে ঘটনাস্থলে এসে নিজের ক্ষোভ এবং আপত্তি জানান বনগাঁ উত্তর কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক তথা খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া। প্রকাশ্যে পুরপ্রধান দিলীপ মজুমদারকে ধমকও দেন। ফলে, এ নিয়ে শহরে শোরগোল পড়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মন্ত্রী আঙুল উঁচিয়ে পুরপ্রধানকে বলেন, ‘‘এতদিন ভাঙনি কেন তুমি? দালালি কম করবে। বনগাঁয় বিজেপির বা তৃণমূলের কোনও গুন্ডা থাকবে না। এতে আমার ঘাড়ে দোষ চাপছে। বনগাঁর ব্যবসায়ীরা কেন আমাকে বলছেন, বিজেপি আসার পরে এ সব হচ্ছে?’’

মন্ত্রীকে শান্ত করার চেষ্টা করেন পুরপ্রধান। তিনি জানান, গত শনিবার পুরবোর্ডের বৈঠকে যে পাঁচটি বেআনি নির্মাণ ভাঙার সিদ্ধান্ত হয়, তার মধ্যে ওই শৌচাগারটিও ছিল। কিন্তু সেই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হননি মন্ত্রী। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কেন মহকুমাশাসককে জানানো হয়নি এবং কেন এতদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি? পুরপ্রধান আর উত্তর দেননি।

পরে পুরপ্রধান বলেন, ‘‘ওই জায়গায় নিয়মিত পুজো, কীর্তন-সহ নানা অনুষ্ঠান হয়। মানুষের অভিযোগ ছিল দুর্গন্ধ নিয়ে। সে কারণেই শৌচাগার ভাঙার সিদ্ধান্ত হয়। এখন মন্ত্রী যা বলছেন, তা-ই করা হবে।’’ পরে মন্ত্রী বলেন, “আমি ছোটবেলা থেকে ওই শৌচাগার দেখে আসছি। কেন বিজেপির উপরে এর দায় আসবে? এখানকার তিনটি ব্যবসায়ী সংগঠন বসে সিদ্ধান্ত নেবে, কোথায় শৌচাগার হবে। তাঁরা যদি বলেন, তা হলে এখানেই হবে। কোনও কিছু ভাঙার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে মহকুমাশাসক বা আমাকে কেন জানানো হবে না? ব্যবসায়ীদের সুবিধা-অসুবিধার বিষয়টি আগে দেখতে হবে।’’

পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, গত শনিবারের পুরবোর্ডের ওই বৈঠকে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপি পুরপ্রতিনিধি (কাউন্সিলর) তথা হাবড়ার দলীয় বিধায়ক দেবদাস মণ্ডলও ছিলেন। তাঁর দাবির ভিত্তিতেই মূলত ওই শৌচাগার ভাঙার সিদ্ধান্ত হয়। ফলে, একটি নির্মাণ ভাঙা নিয়ে এক বিজেপি বিধায়কের সম্মতি এবং অন্যজনের আপত্তিতে দু’জনের মতানৈক্য প্রকট হচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে।

দলীয় বিধায়কের সঙ্গে কোনও মতানৈক্যের কথা মানেননি মন্ত্রী। দেবদাস বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী বেআইনি নির্মাণ ভাঙার নির্দেশ দিয়েছেন। সেই নীতির ভিত্তিতেই পুরবোর্ডের বৈঠকের সিদ্ধান্ত মতো পদক্ষেপ করা হয়েছে।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Illegal Construction

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy