বাম আমলের ভাবনা। বেশ কয়েক বার ভেসে উঠেছে। তবে কার্যকর হয়নি। ‘ময়ূরঝর্না প্রকল্প’ নিয়ে আর আগ্রহী নয় বন দফতর। তার জায়গায় যে এলাকায় হাতি থাকতে পছন্দ করে সেখানে গড়ে তোলা হচ্ছে তাদের বিকল্প আবাসস্থল।
সূত্রের খবর, বন্যপ্রাণ সুরক্ষা আইনের ১৯৭২ সালের নিয়ম অনুসারে ২০০২ সালের ২৪ অক্টোবর ‘ময়ূরঝর্না এলিফ্যান্ট রিজার্ভ’ নিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছিল। যদিও পরিকাঠামো গড়ে ওঠেনি। ২০১৬ সালে মার্চ মাসে ময়ূরঝর্না প্রকল্পের জন্য নতুন ওয়াইল্ড লাইফ ডিভিশন (সাউথ) গঠনের জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল রাজ্য সরকার। তবে আর কিছু হয়নি। এ দিকে জঙ্গলমহলে হাতি-মানুষের সমস্যা দিন দিন বেড়েই গিয়েছে।
২০২২ সালে তৎকালীন ঝাড়গ্রামের সাংসদের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় বনমন্ত্রীর কাছে এই নিয়ে দাবি সনদ পাঠিয়েছিল জঙ্গলমহল স্বরাজ মোর্চা। ২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন সাংসদ এই নিয়ে সংসদে প্রশ্নও তুলেছিলেন। তার পরই কেন্দ্রের ‘প্রজেক্ট এলিফ্যান্ট’ থেকে এই নিয়ে রাজ্যের বন দফতরের বন্যপ্রাণ শাখার মতামত জানতে চাওয়া হয়। উত্তরে চিঠি দিয়ে ঝাড়গ্রাম জেলায় ‘ময়ূরঝর্ণা এলিফ্যান্ট রিজার্ভের’ কথাই জানানো হয়েছিল। সেটি চালু রয়েছে বলেও জানানো হয়েছিল। জঙ্গলমহল স্বরাজ মোর্চার কেন্দ্রীয় সভাপতি অশোক মাহাতো বলেন, ‘‘বন দফতর থেকে কেন্দ্রকে জানিয়েছিল ময়ূরঝর্ণা এলিফ্যান্ট রিজার্ভ প্রজেক্ট রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে সেখানে হাতি থাকে না। যার ফলে তার কোনও বাস্তবায়ন নেই।’’
বন আধিকারিকেরা মানছেন, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলার যে অংশ জুড়ে ময়ূরঝর্না প্রকল্প গড়ে ওঠার কথা ছিল সেখানে হাতি এখন সেভাবে থাকে না। সেই সূত্রেই এই প্রকল্প নিয়ে আর ভাবতে চাইছে না তারা। মুখ্য বনপাল (পশ্চিম চক্র) সিঙ্গারাম কুলান্ডাইভেল বলেন, ‘‘ময়ূরঝর্না প্রকল্প এলাকায় হাতির দল থাকতে চায় না। তাই ময়ূরঝর্নায় টাকা খরচ করে কোনও লাভ হবে না।’’ বন দফতর সূত্রে খবর, গিধনি রেঞ্জ- সহ বেশ কিছু এলাকায় এখন হাতিদের জন্য ছোট ছোট আবাসস্থল গড়ে তোলা হচ্ছে। জামবনি ব্লকের গিধনি হয়ে ঝাড়খণ্ড যায় হাতি। আবার ঝাড়খণ্ড থেকে ওই পথেই ঝাড়গ্রাম ফিরে আসে। গিধনি রেঞ্জে ১৬টি পুকুর খনন করা হয়েছে। ১০ হেক্টর এলাকা জুড়ে ঘাস বীজ, ৯০ হেক্টর এলাকায় তাদের পছন্দের ফলের গাছ, ফডার জাতীয় গাছ (ডালপালা, শস্য জাতীয় গাছ), ৯০ হেক্টর এলাকা জুড়ে শালগাছের পুনরুজ্জীবন তথা নতুন শাল গাছ লাগানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। মাটি ও জল সংরক্ষণের জন্য ২৮০ হেক্টর এলাকায় পরিখা করা হয়েছে। মোট ৬০ কিমি এলাকায় বেড়া (ফেন্সিং) করা হবে।
মুখ্য বনপাল বলেন, ‘‘হাতির যাতায়াত যেখানে বেশি, যেখানে হাতি থাকতে চায় দক্ষিণবঙ্গের সেরকম পাঁচটি হাতির থাকার জায়গা গড়ে তোলা হচ্ছে। ২০০২ সালে ময়ূরঝর্না প্রকল্পের ঘোষণা করা হয়েছিল কাগজে-কলমে। কিন্তু প্রস্তাবিত সেই প্রকল্প এলাকায় হাতিকে জোর করে পাঠাতে চাইলে হবে না। হাতি যেখানে থাকবে সেই জায়গা সঠিক ভাবে তৈরির করার দিকে জোর দেওয়া হচ্ছে।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)