পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডের তদন্তে এ বার উঠে এল পাকিস্তানের করাচির এক ব্যাঙ্কের নাম। হত্যাকাণ্ডের পর জঙ্গিনিধন অভিযান ‘অপারেশন মহাদেব’-এর সময়ে দু’টি মোবাইল উদ্ধার হয়েছিল। তার মধ্যে একটি মোবাইল কেনা হয়েছিল করাচির ওই ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিয়ে। ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, অতীতেও জঙ্গিহানার তদন্তে ওই ব্যাঙ্কের নাম উঠে এসেছিল।
পাকিস্তানি জঙ্গিগোষ্ঠী লশকর-এ-ত্যায়বাকে অর্থমজুত করতে সাহায্য করার অভিযোগ উঠেছিল করাচির ওই ব্যাঙ্কের বিরুদ্ধে। দাবি করা হয় করাচির ওই ব্যাঙ্কে অতীতে অ্যাকাউন্ট ছিল লশকরের। উল্লেখ্য, গত বছর পহেলগাঁওয়ে হামলাতেও উঠে আসে লশকরের নাম। তাদের ছায়া সংগঠন ‘দ্য রেজ়িস্ট্যান্স ফোর্স’ (টিআরএফ) হামলা চালিয়েছিল পহেলগাঁওয়ে। এ ছাড়া আল কায়েদা ‘ঘনিষ্ঠ’ কুয়েতি সংগঠন লাজনত-আল-দাওয়ার সঙ্গেও এই ব্যাঙ্কের যোগ ছিল— এমন তত্ত্বও অতীতের তদন্তে উঠে এসেছে।
পহেলগাঁও হামলায় জড়িত জঙ্গিদের কাছ থেকে যে দু’টি মোবাইল উদ্ধার হয়েছে, উভয়েই কেনা হয়েছিল পাকিস্তানে। তদন্তে উঠে এসেছে, মোবাইলগুলি ২০২১ সালে এবং ২০২৩ সালে পাকিস্তানে আমদানি করা হয়েছিল। কিন্তু গত বছরের এপ্রিলে পহেলগাঁওয়ে হামলার প্রস্তুতির আগে পর্যন্ত সেগুলি অব্যবহৃত অবস্থায় ছিল।
আরও পড়ুন:
একটি মোবাইল আমদানি করেছিল টেক সিরাট প্রাইভেট লিমিটেড নামে এক পাকিস্তানি সংস্থা। করাচির ক্লিফটন রোডে ওই সংস্থার দফতর। মোবাইল প্রস্তুতকারী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের ১ জানুয়ারি মোবাইলটি ডেলিভারি করা হয়েছিল পাকিস্তানে। ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রস’ জানাচ্ছে, ওই ডেলিভারিটি হয়েছিল ‘ফয়সল ব্যাঙ্ক’-এর নামে। ডেলিভারির ঠিকানা ছিল করাচির ফয়সল হাউসে। এটি পাকিস্তানের অন্যতম বড় ইসলামিক ব্যাঙ্ক ‘ফয়সল ব্যাঙ্ক লিমিটেড’-এর সদর দফতর। যা থেকে তদন্তকারীদের অনুমান, ‘টেক সিরাত’ সংস্থাকে মোবাইল আমদানির জন্য অর্থ দিয়েছিল ওই ব্যাঙ্ক।
সাধারণত কোনও বড় আমদানির ক্ষেত্রে ব্যাঙ্কগুলি এই ধরনের ‘লেটার অফ ক্রেডিট’ দিয়ে থাকে ব্যবসায়িক সংস্থাকে। এটি একটি সাধারণ প্রক্রিয়া। পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ওই ব্যাঙ্কের কোনও প্রত্যক্ষ যোগ পাওয়া যায়নি। তবে অতীতেও বিভিন্ন জঙ্গিযোগের তদন্তে এই ব্যাঙ্কের নাম উঠে এসেছে। ‘নিউ ইয়র্ক টাইম্স’-এর ২০০৭ সালের এক রিপোর্ট অনুযায়ী, ৯/১১ হামলা পরবর্তী তদন্তে দেখা গিয়েছিল, লশকরের এবং আল কায়েদা ‘ঘনিষ্ঠ’ লাজনাতের অ্যাকাউন্ট ছিল ফয়সল ব্যাঙ্কে। যদিও কোনও জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ থাকার অভিযোগ সেই সময় অস্বীকার করেছিলেন ব্যাঙ্কের আইনজীবী।