E-Paper

চাকরিদাতা তৈরিই নতুন শিক্ষানীতির মূল উদ্দেশ্য

নতুন শিক্ষানীতিতে সাধারণ ডিগ্রি কোর্সের পরিবর্তে কর্মমুখী শিক্ষায় প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। জ্ঞানের চর্চার পরিবর্তে দক্ষতা অর্জনের উপরে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

রূপন সরকার

শেষ আপডেট: ০১ জুন ২০২৬ ০৯:৪৯
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হওয়ার পরেই অভিভাবকদের ফোন আসে। ভবিষ্যতে সন্তানদের কোন বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করাবেন। আসলে বর্তমানে ছাত্র-যুবসমাজ এক যুগসন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। নতুন শিক্ষানীতি ঘোষিত হওয়ার পরে গতানুগতিক ধারার পড়াশোনার সময় যেতে বসেছে। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ছেলেমেয়ের পড়াশোনা সংক্রান্ত বিষয় নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দেখাই ভালো।

নতুন শিক্ষানীতিতে সাধারণ ডিগ্রি কোর্সের পরিবর্তে কর্মমুখী শিক্ষায় প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। জ্ঞানের চর্চার পরিবর্তে দক্ষতা অর্জনের উপরে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। চাকরিপ্রার্থী নয়, চাকরিদাতা তৈরি করাই হল নতুন শিক্ষানীতির মূল উদ্দেশ্য। অর্থাৎ, উদ্যোগপতি হও। ছোট-বড় ব্যবসা করে কর্মসংস্থানের পরিবেশ তৈরি করো। নিজে রোজগার করে অন্যকেও রোজগারের পথ দেখাও। সে জন্য বিভিন্ন সংস্থা থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়া যেতে পারে। সংস্থা নথিভুক্তকরণ পদ্ধতি ও ছোটখাটো ঋণ নেওয়ার নিয়ম জেনে নেওয়া যেতে পারে। অথবা এমন বিষয় বেছে নেওয়া যায়, উচ্চ মাধ্যমিক পাশের পরে যা নিয়ে পড়লে শিক্ষা শেষে নিজের রোজগারের পথ নিজেই খুঁজে নিতে পারা যায়।

সে জন্যই এই সময়ে ওকালতি পড়ার প্রবণতা বা নার্সিং প্রশিক্ষণের চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। পড়াশোনার বিষয় হিসেবে সাংবাদিকতা বা পর্যটন ব্যবসা সংক্রান্ত বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া যেতে পারে। স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন প্রশাসনিক পাঠ্যক্রমকে অগ্রাধিকারের জায়গায় রাখা যেতে পারে।

বর্তমান আবহে গতানুগতিক বিষয় নিয়ে সাধারণ ডিগ্রি লাভ করে অনন্তকাল বসে না থেকে সময় থাকতে সঠিক পরিকল্পনামাফিক রোজগারের পথে হাঁটাই শ্রেয়। বর্তমানে তথ্যবিজ্ঞান তথা ‘ডেটা সাইন্স অ্যান্ড অ্যানালিটিকস্’ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উঠে আসছে। ‘আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ আগামী দিনে রোজগারের দিশা দেখাবে। সাইবার ক্রাইম মোকাবিলায় দক্ষতা অর্জন কর্মমুখী জীবন গড়তে কার্যকর হবে। বর্তমান সমাজমাধ্যমের যুগে ‘কন্টেন্ট ক্রিয়েশন’ও রোজগারের উৎস হতে পারে।

এ ক্ষেত্রে প্রথম বাধা হচ্ছে ব্রিটিশ আমল থেকে তৈরি হওয়া বাঙালি মানসিকতা। সুজলা-সুফল-শস্যশ্যামলা বাংলায় কখনও খাদ্যান্নের অভাব হয়নি। ব্রিটিশ শাসনের আগে পর্যন্ত বাংলার জীবনযাত্রা মোটের উপরে স্বচ্ছল ছিল এ কথা বলা যায়। তবুও ব্যবসা-বাণিজ্যে বাঙালি চিরকাল সমৃদ্ধ ছিল। ব্রিটিশরা এসে বাঙালি মেধা কাজে লাগিয়ে সস্তায় করণিক তৈরি করতে গিয়ে বাঙালিকে বিকলাঙ্গ করে দেওয়া হল। বাঙালি নিজের সমৃদ্ধ অতীত ভুলে করণিকের জাতিতে পরিণত হল। সেখান থেকে আজও তারা বেরোতে পারছে না।

লেখক কলেজ শিক্ষক, জলপাইগুড়ি

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

New Education Policy Jalpaiguri

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy