E-Paper

পিস্তলে তারা চিহ্ন, চিনা যোগে সন্দেহ পুলিশের

গত ১৭ মে কালিয়াচক থানার পুলিশ মোজমপুর পঞ্চায়েতের দক্ষিণ লক্ষ্মীপুর গ্রামের একটি বাড়িতে হানা দিয়ে তিন কেজি ৭৭ গ্রাম ব্রাউন সুগার তৈরির কাঁচামাল, ৩২৭ গ্রাম ব্রাউন সুগার উদ্ধার করার পাশাপাশি, দু’টি সেভেন এমএম পিস্তল, দু’টি ম্যাগাজ়িন এবং চার রাউন্ড কার্তুজের হদিস পায়।

জয়ন্ত সেন

শেষ আপডেট: ২৯ মে ২০২৬ ১০:০৪

—প্রতীকী চিত্র।

মালদহে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্রের কারবারে কি চিনের যোগ রয়েছে? সম্প্রতি জেলার কালিয়াচকের মোজমপুর থেকে উদ্ধার হওয়া দু’টি সেভেন এমএম (মিলিমিটার) পিস্তলের হাতলে (গ্রিপ) চিনে তৈরি এবং ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রের আদলে ‘স্টার লোগো’ (তারা চিহ্ন) খোদাই থাকায় এমন প্রশ্ন উঠেছে। তদন্তকারীদের একাংশের দাবি, হাতলে এমন তারা চিহ্ন সাধারণত চিনে তৈরি ‘টাইপ-৫১’, ‘টাইপ-৫৪’ পিস্তলে দেখা যায়।

আবার অন্য অংশ বলছেন, বিহারের মুঙ্গেরে তৈরি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের বেশি দাম পেতে চিনা পিস্তলের নকল করে ওই তারা খোদাই করা হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষ। তবে চিন থেকে রাজ্যে কোনও ভাবে আগ্নেয়াস্ত্র ঢুকছে কি না, তা গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন বলে মনে করছে পুলিশ মহল।

গত ১৭ মে কালিয়াচক থানার পুলিশ মোজমপুর পঞ্চায়েতের দক্ষিণ লক্ষ্মীপুর গ্রামের একটি বাড়িতে হানা দিয়ে তিন কেজি ৭৭ গ্রাম ব্রাউন সুগার তৈরির কাঁচামাল, ৩২৭ গ্রাম ব্রাউন সুগার উদ্ধার করার পাশাপাশি, দু’টি সেভেন এমএম পিস্তল, দু’টি ম্যাগাজ়িন এবং চার রাউন্ড কার্তুজের হদিস পায়। বাড়ির মালিক শাহাদাত শেখ ও তার সঙ্গী ইব্রাহিম শেখকে গ্রেফতার করা হয়। উদ্ধার হওয়া ওই দু’টি পিস্তলেই ছিল তারা চিহ্ন। তা নিয়ে শোরগোল পড়ে পুলিশ মহলে। পুলিশের একটি সূত্র জানাচ্ছে, যেখানে মুঙ্গেরে তৈরি সেভেন এমএম পিস্তল কালোবাজারে ৩০-৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়, সেখানে তারা চিহ্ন থাকলে অস্ত্র ব্যবসায়ীরা সে পিস্তলের জন্য কম করে ৫০ হাজার টাকা চায়। তার কারণ মুঙ্গেরে তৈরি সাধারণ পিস্তলের চেয়ে তার কার্যকারিতা বেশি। পাল্লা তুলনায় বেশি এবং নির্ভুল ভাবে লক্ষ্যে আঘাত করার ক্ষমতাও বেশি।

রাজ্য পুলিশের এক কর্তা জানিয়েছেন, চিন থেকে নেপাল হয়ে উত্তরবঙ্গ তথা মালদহে তারা চিহ্ন দেওয়া পিস্তল নিয়ে আসা কঠিন, তবে অসম্ভব কিছু নয়। বিহার হয়েও তা ঢুকতে পারে। তবে তিনিও মনে করিয়ে দিয়েছেন, বেশি মুনাফার আশায় মুঙ্গেরে তৈরি করার সময়ে দেশি পিস্তলেও চিনা আদলে তারা খোদাই করে থাকতে পারে বেআইনি অস্ত্র ব্যবসায়ীরা। মালদহের পুলিশ সুপার অনুপম সিংহ বলেন, ‘‘আমরা সব রকম সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছি।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

pistol police investigation

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy