E-Paper

মোবাইল, সাউন্ড বক্সে স্কুল-মাদ্রাসার প্রার্থনায় ‘বন্দে মাতরম’

‘বন্দে মাতরম’ গানটি পুরো গাইতে সময় লাগে ৩ মিনিট ১০ সেকেন্ড। জনগণমন গাওয়ার সময়সীমা ৫২ সেকেন্ড। অর্থাৎ, এই দু’টি গান গাইতে মোট সময় লাগবে ৪ মিনিট ২ সেকেন্ড। এ ছাড়াও অনেক স্কুলে রয়েছে প্রার্থনা সঙ্গীত বা শপথবাক্য।

আর্যভট্ট খান

শেষ আপডেট: ০১ জুন ২০২৬ ০৮:৪৯

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

প্রার্থনা সঙ্গীতে ‘বন্দে মাতরম’ মোবাইলে বাজিয়ে পড়ুয়াদের গলা মেলাতে বলবে কোনও স্কুল। কোনও স্কুলের আবার দাবি, গরমের ছুটিতে ‘বন্দে মাতরম’ গানটি তুলে নিয়েছেন শিক্ষকেরা। তাঁদের সঙ্গেই গলা মিলিয়ে প্রার্থনা সঙ্গীতে ওই গান গাইবে পড়ুয়ারা। গরমের ছুটি কাটিয়ে আজ, সোমবার স্কুল খুলছে। শিক্ষকদের একাংশ বন্দে মাতরমের প্রথম দু’টি স্তবক গাওয়ার আর্জি জানালেও শিক্ষা দফতরের নির্দেশ, পুরো গানটিই স্কুলে গাইতে হবে। ফলে প্রথম দিন কী ভাবে সেই গান প্রার্থনা সঙ্গীত হিসাবে স্কুলে গাওয়া হবে, তা নিয়ে চিন্তিত প্রধান শিক্ষকদের একাংশ।

শিয়ালদহের টাকি বয়েজের প্রধান শিক্ষক স্বাগত বসাক বলেন, ‘‘গরমের ছুটিতে পড়ুয়াদের ওয়টস্যাপ গ্রুপে গানটি পাঠানো হয়েছে। সামার ক্যাম্পেও গানটা অনুশীলন করানো হয়েছে। তবে এখনও অনেকের পুরোটা মুখস্থ হয়নি, তাই এখনই হয়তো সবাই পুরোটা গাইতে পারছে না। শিক্ষকেরাও গানটা অনুশীলন করে রেখেছেন।’’

‘বন্দে মাতরম’ গানটি পুরো গাইতে সময় লাগে ৩ মিনিট ১০ সেকেন্ড। জনগণমন গাওয়ার সময়সীমা ৫২ সেকেন্ড। অর্থাৎ, এই দু’টি গান গাইতে মোট সময় লাগবে ৪ মিনিট ২ সেকেন্ড। এ ছাড়াও অনেক স্কুলে রয়েছে প্রার্থনা সঙ্গীত বা শপথবাক্য। ফলে তিনটি বা দুটো গান ও একটি প্রার্থনা সঙ্গীত— সব মিলিয়ে ১০ মিনিটে শেষ হবে কিনা, সেই প্রশ্ন উঠেছে। সন্তোষপুর ঋষি অরবিন্দ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সর্বাণী সেন যেমন জানান, তাঁদের স্কুলে জাতীয় সঙ্গীত ছাড়াও শপথবাক্য পাঠ করানো হয়। সর্বাণী বলেন, ‘‘এখন প্রথমে বন্দে মাতরম, তার পরে শপথবাক্য ও তার পরে জনগণমন হবে। তিনটিই আশা করি দশ মিনিটে শেষ হবে। স্কুলে ১০টা ৪০ থেকে প্রার্থনা শুরু হলেও মেয়েরা প্রার্থনার জন্য লাইন দেয় ১০টা ৩৫ মিনিট থেকে। ফলে ঠিক ১০টা ৪০ মিনিটে বন্দে মাতরম শুরু হলে সময়ের মধ্যেই সবটা সম্পন্ন হয়ে যাবে।’’ তবে সর্বাণীর মতে, প্রথম দিকে বন্দে মাতরম গাইতে ছাত্রীদের সাহায্য করার কাজটা করবেন শিক্ষকেরা।

বাঙুর নারায়ণ দাস বাঙুর মেমোরিয়াল মাল্টিপারপাজ় স্কুলের প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় বড়ুয়া আবার বলছেন, ‘‘সাউন্ড বক্সে গানের সঙ্গে পড়ুয়ারা গলা মেলাবে। গরমের ছুটিতে ওয়টস্যাপে গানটা পড়ুয়াদের পাঠানো হয়েছে। সকলের মুখস্থ হয়ে গেলে পরে বক্সে গান বাজানো বন্ধ করে দেওয়া হবে।’’ যাদবপুর বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক পার্থপ্রতিম বৈদ্য আবার জানাচ্ছেন, কয়েক জন শিক্ষক ইতিমধ্যেই গানটি রপ্ত করেছেন। তাই তাঁদের সঙ্গেই গলা মেলাবে পড়ুয়ারা। গরমের ছুটিতে গানটি পড়ুয়াদের অনুশীলন করতেও বলা হয়েছে।

রাজ্যের সমস্ত মাদ্রাসাতেও ‘বন্দে মাতরম’-এর সব ক’টি স্তবক গাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজ, সোমবার থেকে খুলছে মাদ্রাসাও। তবে সেখানে পুরো গানটি গাওয়া নিয়ে বিতর্ক হয়েছে। মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকদের একাংশের মতে, ওই গানের প্রথম দুই পংক্তি নিয়ে অসুবিধা না থাকলেও পরের পংক্তিগুলিতে ধর্মীয় বিষয় রয়েছে।প্রশ্ন উঠেছে, ধর্মীয় ভাবাবেগের কথা মাথায় রাখলে মাদ্রাসায় ‘বন্দে মাতরম’ পুরো গাওয়ার নির্দেশ কতটা যুক্তিযুক্ত? এর মাধ্যমে কি ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে না? যদিও মাদ্রাসাগুলির প্রধান শিক্ষকেরা জানান, সরকারি নির্দেশ মতোই চলবেন তাঁরা।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

School students Madrasa Vande Mataram

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy