অযোধ্যার রামমন্দির। —ফাইল চিত্র।
রামমন্দিরের প্রণামী চুরিতে যাঁরা অভিযুক্ত, তাঁদের হয়ে আদালতে সওয়াল করবেন না কোনও আইনজীবী! এমনই নির্দেশ দিল অযোধ্যার বার অ্যাসোসিয়েশন। কোনও আইনজীবী অভিযুক্তদের হয়ে সওয়াল করলে তাঁর কাছ থেকে ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা আদায় করা হবে বলেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সোমবার আইনজীবীদের সংগঠন, অযোধ্যা বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যেরা বৈঠকে বসেছিলেন। সেই বৈঠকেই স্থির হয় প্রণামীকাণ্ডে অভিযুক্তদের হয়ে সওয়াল করবেন না সংগঠনের কোনও সদস্য। এর পাশাপাশি দীর্ঘ দিন রামমন্দিরের প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত থাকা তিন জনকে তিন দিনের মধ্যে অযোধ্যা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে আইনজীবীদের এই সংগঠন। তাঁরা হলেন ‘শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্রে ট্রাস্ট’-এর সদ্য প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই, ট্রাস্টের অন্যতম সদস্য অনিল মিশ্র এবং গোপাল রাও।
এই তিন জনের নামও প্রণামী-বিতর্কে জুড়ে গিয়েছে। এই আবহে চম্পত-সহ তিন জন ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অযোধ্যা না-ছাড়়লে গোটা শহর অবরুদ্ধ করে দেওয়ার ডাক দিয়েছে অযোধ্যা বার অ্যাসোসিয়েশন। বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কালিকাপ্রসাদ মিশ্র বলেন, “এই মামলায় অভিযুক্তদের হয়ে আমাদের কোনও আইনজীবী সওয়াল করবেন না। যদি কেউ তা করেন, তবে তাঁর কাছ থেকে ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা আদায় করা হবে।” ইতিমধ্যেই অযোধ্যা বার অ্যাসোসিয়েশন চম্পত-সহ ওই তিন জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। প্রণামীকাণ্ডে সিবিআই তদন্তের আর্জিও জানিয়েছে তারা।
রামমন্দিরে জমা পড়া প্রণামী নিয়ে অনিয়মের অভিযোগের তদন্তে দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) মঙ্গলবার এই সংক্রান্ত প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দিয়েছিল। তার পরে ‘সিট’-এর সুপারিশ মেনে বৃহস্পতিবার ‘শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট’-এর তরফে পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিক ভাবে আট জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন অন্যতম ট্রাস্টি কৃষ্ণ মোহন। তার ভিত্তিতে এফআইআর দায়ের করে রাতেই আট অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁদের কয়েক জনের ঠিকানা থেকে ‘হিসাব-বহির্ভূত’ ৮০ লক্ষ টাকা উদ্ধার করা হয়। ঘটনাচক্রে, ধৃতদের একাংশের সঙ্গে চম্পত, অনিল, দু’জনেরই ‘যোগাযোগ’ সম্পর্কিত তথ্য মিলেছে।
এই আট অভিযুক্ত হলেন— অবিনাশ শুক্ল, অনুকল্প মিশ্র, লবকুশ মিশ্র, মণীশকুমার যাদব, করুণেশ পাণ্ডে, রামশঙ্কর মিশ্র, সুভাষ শ্রীবাস্তব, রামশঙ্কর ওরফে টিনু যাদব। ২৯ জুন পর্যন্ত তাঁদের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়েছিল অযোধ্যার আদালত। রবিবার অভিযুক্তদের বাড়িতে তল্লাশি চালায় পুলিশ। পুলিশের সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় ম্যাজিস্ট্রেটও।