(বাঁ দিকে) ভূপেন বরার যোগদানের অনুষ্ঠানে ছিলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা (ডান দিকে)। ছবি: সংগৃহীত।
মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দিলেন অসম কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি ভূপেন বরা। কংগ্রেস ছাড়ার পর তিনি যে বিজেপিতে যাচ্ছেন, তা ঘোষণাই করে দিয়েছিলেন হিমন্ত। শুধু ভূপেন একা নন, রবিবার এক ডজনের বেশি কংগ্রেস নেতা বিজেপিতে যোগ দেন।
সামনেই অসমে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে সে রাজ্যের প্রদেশ কংগ্রেসে ডামাডোলের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আচমকা দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত জানান অসমের প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। ইস্তফাপত্র পাঠিয়েও দেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গের কাছে। যদিও তৎক্ষণাৎ সেই ইস্তফাপত্র গ্রহণ করেনি কংগ্রেসের হাই কমান্ড। কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা চলে যান ভূপেনের বাড়িতে। কংগ্রেস না-ছাড়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়। এমনকি, অসমে কংগ্রেসের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা জিতেন্দ্র সিংহ দাবি করেন, ভূপেন পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।
যদিও ভূপেন ইস্তফা প্রত্যাহারের বিষয়টি নিয়ে কিছু জানাননি। তিনি দাবি করেন, দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার জন্য তিনি কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্বের কাছ থেকে সময় চেয়েছেন। এ নিয়ে টানাপড়েনের মধ্যে ভূপেনের বাড়ি চলে যান হিমন্ত। সাক্ষাতের পরে হিমন্ত জানান, অসম বিজেপির সভাপতি দিলীপ সাইকিয়া কথা বলবেন ভূপেনের সঙ্গে। কবে বিজেপিতে যোগ দেবেন, তা চূড়ান্ত হবে সেই বৈঠকে।
তবে তার পরেও কংগ্রেস নেতৃত্ব আশা ছাড়েননি। যদিও সেই আশায় জল ঢেলে রবিবার বিজেপিতে যোগ দেন ভূপেন। বিজেপিতে যোগ দিয়ে তিনি জানান, দলবদল করার ভাবনা থেকে কংগ্রেস ছাড়েননি। তাঁর কথায়, ‘‘বিজেপিতে যোগ দেব, এটা ভেবে আমি পদত্যাগ করিনি। আমি পদত্যাগ করেছিলাম এই ভেবে যে ভুলগুলি নিয়ে কংগ্রেসের আত্মসমালোচনা হবে। সংশোধনের প্রতিশ্রুতি আশা করেছিলাম।’’ তবে সেই প্রতিশ্রুতি না-পাওয়ায় সিদ্ধান্ত বদল করেননি বলে জানান ভূপেন। তাঁর কথায়, ‘‘কংগ্রেস অসমিয়া সম্প্রদায়ের অনুভূতিতে আঘাত করেছে। আমি ৩২ বছর ধরে আদর্শ, বিবেক এবং দেশপ্রেম নিয়ে কংগ্রেসের সেবা করেছি। কিন্তু আমি আহত হয়েছি।’’ হিমন্ত জানান, বিজেপিতে ভূপেনের এক নতুন জীবন শুরু হচ্ছে। বিজেপি পরিবার তাঁর যত্ন নেবে। ভালবাসা এবং শ্রদ্ধা জানাবে।