Bihar Govt Employees Social Media Use

সরকারি কর্মীদের সমাজমাধ্যম ব্যবহারে রাশ টানল নীতীশের সরকার! অ্যাকাউন্ট খুলতে নিতে হবে সংশ্লিষ্ট দফতরের অনুমতি

সরকারি কর্মীদের সমাজমাধ্যম ব্যবহারে কেন রাশ টানা হয়েছে, তার ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়েছে। ফেসবুক, এক্স, ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো সমাজমাধ্যম ব্যবহারে কী কী নিয়ম মানতে হবে কর্মীদের, তা-ও উল্লেখ করা হয়েছে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ ১৭:২৬
কর্মীদের সমাজমাধ্যম ব্যবহারে নতুন নিয়ম আনলেন নীতীশ কুমার। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

কর্মীদের সমাজমাধ্যম ব্যবহারে নতুন নিয়ম আনলেন নীতীশ কুমার। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

সরকারি কর্মীদের সমাজমাধ্যম ব্যবহারে রাশ টানল বিহার সরকার। এ প্রসঙ্গে নির্দেশিকাও জারি করা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, কেন সরকারি কর্মীদের সমাজমাধ্যম ব্যবহারে রাশ টানা হয়েছে, তার ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়েছে। ফেসবুক, এক্স, ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো সমাজমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে কী কী নিয়ম মেনে চলতে হবে কর্মীদের, তা-ও উল্লেখ করা হয়েছে।

Advertisement

সমাজমাধ্যম ব্যবহারের নিয়ম নিয়ে মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিয়েছে। এখন শুধু কার্যকর করার অপেক্ষা। এই নিয়ম যেমন নিচু স্তরের কর্মীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, তেমনই ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদেরও এই নিয়ম অনুসরণ করতে হবে বলে জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, কোনও সমাজমাধ্যম অ্যাকাউন্ট খুলতে গেলে সংশ্লিষ্ট দফতরের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে কর্মীদের। কোনও ভুয়ো অ্যাকাউন্ট বা বেনামে অ্যাকাউন্ট খোলা যাবে না।

নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, ব্যক্তিগত কোনও পোস্ট করার সময় কর্মীরা তাঁদের পদমর্যাদা অর্থাৎ তিনি কোন পদে কর্মরত, তা উল্লেখ করতে পারবেন না। এ ছাড়াও সরকারের লোগো অথবা সেই সংক্রান্ত কোনও প্রতীক ব্যবহার করতে পারবেন না। কর্মীদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, সমাজমাধ্যমে ব্যক্তিগত কোনও পোস্ট করার সময় তাঁরা যেন অফিসিয়াল ইমেল আইডি এবং সরকারি কোনও ফোন নম্বর সেখানে উল্লেখ না করেন। এ প্রসঙ্গে সরকারের যুক্তি, কেউ ব্যক্তিগত ভাবে কোনও কিছু পোস্ট করতেই পারেন সমাজমাধ্যমে, সেটা তাঁর নিজস্ব মতামত। ওই ব্যক্তির নিজস্ব মতামত এবং এক জন সরকারি কর্মী হিসাবে তাঁর মতামত— এই দুইয়ের মধ্যে ফারাক রাখতেই এই সিদ্ধান্ত।

কী ধরনের পোস্ট করতে পারবেন সরকারি কর্মীরা, সে কথাও স্পষ্ট ভাবে উল্লেখ করা হয়েছে নির্দেশিকায়। কোনও অশ্লীল, উস্কানিমূলক, আপত্তিজনক বা সমাজে অস্থির পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে, শান্তি বিঘ্নিত হতে পারে, এমন কোনও লেখা বা ছবি পোস্ট করা যাবে না। কোনও জাত, ধর্ম এবং সম্প্রদায় নিয়ে পোস্ট করা যাবে না। সরকারি কোনও বৈঠক বা অনুষ্ঠানের ছবি বা ভিডিয়ো বিশেষ করে সংবেদনশীল এবং গোপন কোনও তথ্য শেয়ার করা যাবে না। এ ছাড়াও সরকারের কোনও বিষয় সমাজমাধ্যমে পোস্ট করা হলে, সেখানে কোনও ‘কমেন্ট’ করা যাবে না। শুধু তা-ই নয়, সরকারের অভ্যন্তরীণ কোনও বিষয় পোস্ট করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

সরকারি কোনও নীতির সমালোচনা করা যাবে না। কোনও ঊর্ধ্বতনের সমালোচনা করে পোস্ট করা যাবে না। কোনও ব্যক্তির ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ্যে আনা যাবে না। যৌন হেনস্থা হয়েছে, এমন ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করা যাবে না। কেউ যদি এই সব নিয়ম কোনও ভাবে লঙ্ঘন করেন, তা হলে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিভাগীয় তদন্ত হবে।

সরকারের যুক্তি, সমাজমাধ্যম ব্যবহার বন্ধ করা তাদের লক্ষ্য নয়। বরং, এই নিয়মের মাধ্যমে সমাজমাধ্যম ব্যবহারে কর্মীদের অনুশাসন, দায়িত্ব এবং আত্মমর্যাদাকে সুনিশ্চিত করাই লক্ষ্য।

Advertisement
আরও পড়ুন