Arvind Kejriwal

কেজরী: বিরোধী নিশানায় বিজেপি, ব্যতিক্রম কংগ্রেস

রায়ের পরে বিজেপি নেতৃত্বকে কাঠগড়ায় তুলেছেন ডিএমকে নেতা তথা তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন। তিনি বলেন, ‘‘ক্ষুদ্র স্বার্থের জন্য কেন্দ্রীয় এজেন্সির বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করা উচিত নয় কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের।’’

নিজস্ব সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:১৬
অরবিন্দ কেজরীওয়াল।

অরবিন্দ কেজরীওয়াল। — ফাইল চিত্র।

আদালতের নির্দেশে আম আদমি পার্টি (আপ)-এর নেতা অরবিন্দ কেজরীওয়াল আজ মুক্তি পেতেই বিরোধী দলগুলি সরব হল সিবিআই, ইডি-র মতো কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির রাজনীতিকরণ নিয়ে। তাদের বক্তব্য, ভোটের মুখে বিরোধী নেতৃত্বকে দুর্বল করতেই যে পরিকল্পিত ভাবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে কেন্দ্রের শাসক দল, তা আজ ফের আদালতের রায়ে প্রমাণিত হল। যদিও এই একই বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে কংগ্রেস। তাদের বক্তব্য, পরিকল্পিত ভাবেই কেজরীওয়ালকে ছাড়া হয়েছে। যাতে আসন্ন পঞ্জাব, গুজরাত নির্বাচনে কংগ্রেসের ভোট কাটতে পারে আপ।

এই মামলায় আজ আদালত সিবিআইয়ের ভূমিকার সমালোচনা করে জানিয়েছে, গোটা ঘটনাটি পূর্ব পরিকল্পনা মতো তৈরি করা। আজকের এই রায়ের পরে বিজেপি নেতৃত্বকে কাঠগড়ায় তুলেছেন ডিএমকে নেতা তথা তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন। তিনি বলেন, ‘‘ক্ষুদ্র স্বার্থের জন্য কেন্দ্রীয় এজেন্সির বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করা উচিত নয় কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের।’’ আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব বলেন, ‘‘ভোটে ফায়দা কুড়োতে বিজেপি যে ইডি-সিবিআইকে ব্যবহার করে চলেছে, তা আদালতের রায়ে ফের স্পষ্ট হল। কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলি বিরোধী দলগুলির বিরুদ্ধে ভুয়ো অভিযোগ দাখিল করে বিরোধী নেতাদের মানহানি করতে চাইছে।’’

আজ যে ভাবে ভুয়ো মামলা আদালতে খারিজ হয়ে গিয়েছে, তেমনই আগামী দিনে নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহ সরকারকে জনগণ বাতিল করতে চলেছে বলে দাবি করেছেন তৃণমূলের রাজ্যসভা সাংসদ সাকেত গোখলে। তিনি বলেন, ‘‘বিজেপির দায়ের করা ভুয়ো অভিযোগের ভিত্তিতে ওই নেতাদের গ্রেফতার করা হয়েছিল। সিবিআই ও ইডি-কে তাদের রাজনৈতিক অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছিল। ভুয়ো মামলাগুলির মতো মোদী-শাহ সরকারেরও শীঘ্র পতন ঘটতে চলেছে।’’ সিপিএমও একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, সিবিআই ও ইডির মতো সংস্থাগুলি কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিশোধ নেওয়ার রাজনৈতিক অস্ত্রে পরিণত হয়েছে, যা সকলেই বুঝতে পারছেন।

ইন্ডিয়া মঞ্চের অন্য বিরোধীরা যখন কেজেরীওয়ালের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তখন একেবারে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছেন কংগ্রেস নেতৃত্ব। আপ-কে বিজেপির মিত্র দল হিসাবে কটাক্ষ করে কংগ্রেস মুখপাত্র পবন খেরা বলেন, ‘‘কংগ্রেসকে হারাতে যে কোনও শক্তির সঙ্গে হাত মেলাতে পারে বিজেপি।’’ খেরার দাবি, সামনেই পঞ্জাব ও গুজরাত নির্বাচন। তার আগে কংগ্রেসকে দুর্বল করার লক্ষ্যেই কেজরীওয়ালকে অভিযোগ-মুক্ত করা হয়েছে। যাতে ওই দুই রাজ্যে বিরোধী ভোট ভাগ হয়। যা সুবিধা করে দেবে বিজেপিকেই। খেরার কথায়, ‘‘গত বারো বছর বিজেপি নেতৃত্ব লাগাতার ভাবে তৃণমূলকে আক্রমণ করে গিয়েছেন। আর এখন নরেন্দ্র মোদী নিজে তৃণমূলের প্রশংসা করছেন। লক্ষ্য একটাই। তা হল কংগ্রেসকে দুর্বল করা।’’ পাল্টা জবাবে কেজরীওয়াল বলেন, ‘‘রবার্ট বঢরা কি জেলে গিয়েছেন? মণীশ সিসোদিয়া গিয়েছেন। সনিয়া গান্ধী কি জেলে গিয়েছেন? আপ নেতা সঞ্জয় সিংহ গিয়েছেন। তার পরে কংগ্রেসের ওই বক্তব্য শুনে বোঝা যাচ্ছে, কংগ্রেস আসলে বোধবুদ্ধি হারিয়েছে।

আরও পড়ুন