স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ। ফাইল চিত্র।
রাজ্যসভার কার্যবিবরণীতে নথিবদ্ধ থাকলেও, দিনের শেষে পেশ হল না সিএপিএফ বিল। কেন নিয়মবিরুদ্ধে ভাবে বিলটি আনার চেষ্টা সরকার করছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বেলা বারোটার সময়ে রাজ্যসভা থেকে ওয়াক আউট করেন ডেরেক ও’ব্রায়েন-সহ তৃণমূলের সাংসদেরা। পরে আজ বিকেলে রাজ্যসভার বিষয় উপদেষ্টা কমিটিতে স্থির হয়, আগামিকাল বিলটি রাজ্যসভায় পেশ করবেন অমিত শাহ। বিলটি নিয়ে আলোচনার জন্য আট ঘণ্টা ধার্য করা হয়েছে। বিরোধীরা অবশ্য বিলটি সিলেক্ট কমিটিতে পাঠানোর দাবি করেছেন।
সরকার প্রথমে ঠিক করেছিল আজ রাজ্যসভায় বেলা বারোটা নাগাদ সিএপিএফ বিলটি নিয়ে আসা হবে। সেই সময়ে বলতে উঠে ডেরেক প্রশ্ন তোলেন, কেন কোনও আলোচনা ছাড়াও এ ভাবে বিলটি আনা হল। তিনি বলেন, বিলটি পেশের আগে সাংসদদের কোনও নোটিস দেওয়া হয়নি। যা নিয়মবিরুদ্ধ। এরপরে ভোটমুখী পশ্চিমবঙ্গে নরেন্দ্র মোদী সরকার অঘোষিত রাষ্ট্রপতি শাসন চালাচ্ছে, এই অভিযোগ জানিয়ে কক্ষত্যাগ করেন ডেরেক-সহ তৃণমূলের সাংসদেরা। পরে সরকারের পক্ষ থেকে বিলটি আগামিকাল রাজ্যসভায় পেশ করা হবে বলে বিরোধীদের জানানো হয়। ডেরেক জানতে চান, ‘‘দু’ঘণ্টার মধ্যে এমন কী হয়ে গেল যে সরকার বিল আনা পিছিয়ে দিল?’’
সূত্রের মতে, কোনও বিল আনতে গেলে তা বিষয় উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে উল্লেখ করতে হয় সরকারকে। সেই মতো সংশ্লিষ্ট বিলটি নিয়ে কত ঘণ্টা আলোচনা হবে তা স্থির করে সরকার। কিন্তু এ ক্ষেত্রে ওই কমিটিতে কোনও আলোচনা হয়নি। বিরোধীদের মতে, তাই আজ বিলটি আনার ঝুঁকি নেয়নি সরকার। পরিবর্তে আজ বিষয় উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে বিলটির উল্লেখ করে সরকার জানায়, ওই বিলটি আনা হচ্ছে।
বিরোধীদের একাংশের অবশ্য ভিন্ন মত। তাঁদের মতে, আজ প্রধানমন্ত্রী পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত নিয়ে লোকসভায় বিবৃতি বার্তা দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে সিএপিএফ বিল নিয়ে আলোচনা হলে তাতে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য চাপা পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল।