Ajit Pawar Plane Crash

অজিতের বিমান দুর্ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পর উদ্ধার হল ব্ল্যাকবক্স! ভেঙে পড়ার ঠিক আগের মুহূর্তে কী ঘটেছিল ককপিটে?

দুর্ঘটনার সময়ে মাঝারি মাপের ওই চার্টার্ড বিমানটিতে এনসিপি নেতা অজিত-সহ পাঁচ জন ছিলেন। তাঁদের মধ্যে দু’জন ছিলেন উপমুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তারক্ষী এবং দু’জন ছিলেন বিমানকর্মী। দুর্ঘটনায় পাঁচ জনেরই মৃত্যু হয়েছে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:৩৪
ভেঙে পড়া সেই বিমান।

ভেঙে পড়া সেই বিমান। ছবি: পিটিআই।

দুর্ঘটনায় মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ারের মৃত্যুর ২৪ ঘণ্টা পর উদ্ধার হল ভেঙে পড়া বিমানের ব্ল্যাকবক্স। যে কোনও বিমানের ব্ল্যাকবক্সেই বিমানের গতিবিধি সংক্রান্ত সমস্ত খুঁটিনাটি এবং ককপিটের ভিতরের কথোপকথনের রেকর্ড থাকে। ফলে ব্ল্যাকবক্সের তথ্য খতিয়ে দেখে জানা যাবে, অজিতের বিমান ভেঙে পড়ার আগে ঠিক কী ঘটেছিল ককপিটে।

Advertisement

বুধবার সকালের ওই দুর্ঘটনার পর সন্ধ্যায় বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত ব্যুরো (এএআইবি)-র একটি বিশেষ দল দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। শুরু হয়েছে ফরেনসিক তদন্ত। সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার সকালে ভেঙে পড়া লিয়ারজেট-৪৫ মডেলের বিমানটির ব্ল্যাকবক্স উদ্ধার করেছেন তদন্তকারীরা। সেটির মধ্যে থাকা তথ্য বিশ্লেষণের জন্য পাঠানো হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট এলেই জানা যাবে, দুর্ঘটনার আগের মুহূর্তে ঠিক কী ঘটেছিল ককপিটের অভ্যন্তরে। তবে বিমান নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ-র এক ঊর্ধ্বতন কর্তা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার আগের মুহূর্তে দুই বিমানকর্মী (এক জন পাইলট, অপর জন ফার্স্ট অফিসার)-র মধ্যে কোনও এক জন চিৎকার করে বলে উঠেছিলেন, ‘‘ওহ্ শিট!’’ সাধারণত কোনও কাজে বড় ভুল হলে, বা কেউ কোনও কিছুতে হতাশ হলে এই আপাত অশোভন ইংরেজি শব্দদ্বয় ব্যবহার করা হয়। তার পর ওই বিমান থেকে আর কোনও সাড়াশব্দ পাওয়া যায়নি। শেষমেশ বুধবার সকাল ৮টা ৪৩ মিনিট নাগাদ ভেঙে পড়ে বিমানটি।

নাম ব্ল্যাকবক্স হলেও ককপিটে থাকা এই যন্ত্রের রং আদৌ কালো নয়। বরং বাক্সটি সাধারণত কমলা রঙের হয়। বিমানের ধ্বংসাবশেষের ভিতরেও যাতে সহজেই খুঁজে পাওয়া যায়, সে জন্যই যন্ত্রটিতে এ রকম উজ্জ্বল রং করা হয়। ব্ল্যাক বক্সে দু’টি যন্ত্র থাকে— ককপিট ভয়েস রেকর্ডার (সিভিআর) এবং ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার (এফডিআর)। ককপিট ভয়েস রেকর্ডার পাইলটের কণ্ঠস্বর এবং ইঞ্জিনের শব্দের মতো শব্দ রেকর্ড করে রাখে। পরে সেই তথ্য খতিয়ে দেখে ইঞ্জিনের গতি, যান্ত্রিক ত্রুটি, বিমানচালক এবং ক্রুদের মধ্যে কথোপকথন কিংবা এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোল (এটিসি)-এর সঙ্গে পাইলটদের কথোপকথনের তথ্য জানতে পারেন তদন্তকারীরা। অন্য দিকে, ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার বিমানের উচ্চতা, বায়ুর গতিবেগ ইত্যাদি পর্যবেক্ষণ করে। এই সব তথ্য পুনরুদ্ধার করে তা বিশ্লেষণ করতে সাধারণত সপ্তাহখানেক সময় লাগে। তার পরেই জানা যায়, ঠিক কী ভাবে ঘটেছিল দুর্ঘটনা।

প্রাথমিক ভাবে অজিতের বিমানের উড়ানে কোনও যান্ত্রিক গোলযোগ পাওয়া যায়নি। তবে সবটা জানতে বিস্তারিত তদন্ত প্রয়োজন। জানা গিয়েছে, ওড়ার ১০ মিনিটের মাথায় অজিতের বিমান সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ছয় কিলোমিটার উচ্চতায় পৌঁছে যায়। তখন তার গতি ছিল ১০৩৬ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা। ভেঙে পড়ার ঠিক আগের মুহূর্তে বিমানটি ১০১৬ মিটার উচ্চতায় নেমে আসে। কেন্দ্রের অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক জানিয়েছে, ভেঙে পড়ার আগের মুহূর্তে এটিসি-র সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন পাইলট। জানিয়েছিলেন, রানওয়ে তিনি দেখতে পাচ্ছেন না। বাতাসের গতিবিধি এবং দৃশ্যমানতা সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন পাইলট। উত্তরে তাঁকে জানানো হয়েছিল, দৃশ্যমানতা প্রায় ৩,০০০ মিটার। এর পর বিমানটিকে একবার চক্কর খাইয়ে পুনরায় অবতরণ করানোর চেষ্টা করেন পাইলট। এই সময় পাইলট জানিয়েছিলেন তিনি রানওয়ে দেখতে পাচ্ছেন। এটিসি থেকে ঠিক সকাল ৮টা ৪৩ মিনিটে বিমান অবতরণের অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু অপর প্রান্ত থেকে আর কোনও উত্তর মেলেনি। এর পরেই ৮টা ৪৪ মিনিট নাগাদ দাউদাউ করে আগুন জ্বলতে দেখা যায় রানওয়েতে। দুর্ঘটনার সময়ে মাঝারি মাপের ওই চার্টার্ড বিমানটিতে এনসিপি নেতা অজিত-সহ পাঁচ জন ছিলেন। তাঁদের মধ্যে দু’জন ছিলেন উপমুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তারক্ষী এবং দু’জন ছিলেন বিমানকর্মী। দুর্ঘটনায় পাঁচ জনেরই মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলায় সেই বারামতীতেই পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে অজিতের। উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, কেন্দ্রীয় পরিবহণমন্ত্রী নিতিন গডকড়ী, অজিতের কাকা তথা তথা এনসিপি (এসপি)-র প্রধান শরদ পওয়ার প্রমুখ।

Advertisement
আরও পড়ুন