কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের ডিএ বৃদ্ধি পেল। —ফাইল চিত্র।
কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) আরও বাড়ল। দুই শতাংশ ডিএ বৃদ্ধি অনুমোদন করল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। এত দিন কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী এবং পেনশনভোগীরা ৫৮ শতাংশ হারে ডিএ পেতেন। দুই শতাংশ বেড়ে তা পৌঁছে গেল ৬০ শতাংশে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকে এই বর্ধিত হার কার্যকর হওয়ার কথা।
পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা এখন ২২ শতাংশ হারে ডিএ পান। চলতি বছর অন্তর্বর্তী বাজেটে চার শতাংশ হারে ডিএ বৃদ্ধির কথা ঘোষণা করে রাজ্য সরকার। কেন্দ্রের সঙ্গে তখন ডিএ-র ফারাক ছিল ৩৬ শতাংশ। এ বার সেই ফারাক বেড়ে হল ৩৮ শতাংশ।
কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীরা অষ্টম পে কমিশনের দাবি জানাচ্ছেন। তাতে বেতনের পরিকাঠামোয় পরিবর্তন হতে পারে। ন্যাশনাল কাউন্সিল-জয়েন্ট কনসালটেটিভ মেশিনারির তরফে কেন্দ্রকে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। সেখানে বেতন পরিকাঠামোয় পরিবর্তন দাবি করা হয়েছে। তা যদি গৃহীত হয়, কর্মীদের প্রাথমিক বেতন ১৮ হাজার থেকে বেড়ে ৬৯ হাজার টাকা হতে পারে। এ বিষয়ে আলোচনার মাঝেই এ বার ডিএ দুই শতাংশ বাড়ল।
পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে ডিএ নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে। বহু দিন ধরে কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন এ রাজ্যের কর্মীরা। মামলা গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। কিন্তু রাজ্য সরকার বার বার দাবি করেছে, ডিএ বাধ্যতামূলক নয়। রাজ্যের হাতে কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দেওয়ার মতো অর্থ নেই বলে জানিয়েছে সরকার। অনেক কর্মীর ডিএ বকেয়া রয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, পুরনো বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ অবিলম্বে মেটাতে হবে রাজ্যকে। বাকি অংশের জন্য একটি কমিটি গড়ে দেওয়া হয়েছিল। সেই কমিটির সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা, বকেয়া বাকি ডিএ কী ভাবে দেওয়া হবে। রাজ্যে ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা হওয়ার ঠিক আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বকেয়া ডিএ-র সেই ২৫ শতাংশ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। তবে কেন্দ্রীয় হারে ডিএ না মেলায় রাজ্যের কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।