Manipur Chaos

মণিপুরে স্থায়ী শান্তির দাবিতে বিক্ষোভ! মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের উদ্দেশে মিছিলে উত্তেজনা, ফাটল কাঁদানে গ্যাসের শেল

মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে ইম্ফল পূর্ব জেলার খুরাই লামলং এলাকায় পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে এগোনোর চেষ্টা করেন বিক্ষোভকারীরা। তাতে পরিস্থিতি তপ্ত হয়ে ওঠে। আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে বেশ কয়েক রাউন্ড কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটায় পুলিশ।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ২২:৪২
মণিপুরের রাস্তায় নিরাপত্তাবাহিনীর টহল।

মণিপুরের রাস্তায় নিরাপত্তাবাহিনীর টহল। ছবি: পিটিআই।

বিক্ষিপ্ত অশান্তির ঘটনা ঘটেই চলেছে মণিপুরে। তার প্রতিবাদে এবং স্থায়ী শান্তি পরিস্থিতির দাবিতে শনিবার মণিপুরের রাজধানী ইম্ফলে পথে নামেন হাজার হাজার মানুষ। মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ইয়ুমনাম খেমচাঁদ সিংহের বাসভবনের উদ্দেশে মিছিল শুরু করেন বিক্ষোভকারীরা। সেই মিছিল ঘিরেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। পুলিশ মিছিলে বাধা দিতেই বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বেধে যায়। পরিস্থিতি সামলাতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটায় পুলিশ। যদিও পরে বিক্ষোভকারীদের একটি প্রতিনিধিদলকে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়। তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেন।

Advertisement

মেইতেই জনগোষ্ঠীর সংগঠন ‘কোঅর্ডিনেটিং কমিটি অফ মণিপুর ইন্টিগ্রিটি’ (সিওসিওএমআই)-এর তরফে শনিবার এই প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছিল। ইম্ফলের চার প্রান্ত থেকে মোট চারটি মিছিল শুরু হয় এই সংগঠনের ব্যানারে। তবে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের থেকে কিছুটা দূরেই পুলিশ আটকে দেয় মিছিলগুলিকে। মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে যাওয়ার জন্য চারটি প্রধান সড়ক রয়েছে। প্রতিটি রাস্তাতেই অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। বসানো হয়েছিল ব্যারিকেড।

পিটিআই জানাচ্ছে, মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে ইম্ফল পূর্ব জেলার খুরাই লামলং এলাকায় পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে এগোনোর চেষ্টা করেন বিক্ষোভকারীরা। তাতে পরিস্থিতি তপ্ত হয়ে ওঠে। আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে বেশ কয়েক রাউন্ড কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটায় পুলিশ।

চলতি মাসের শুরুর দিকে, গত ৭ এপ্রিল মণিপুরের বিষ্ণুপুর জেলার ত্রংলাওবিতে বোমা হামলায় দুই শিশুর মৃত্যু হয়। ওই ঘটনার প্রতিবাদে এবং আরও বেশ কিছু দাবি নিয়ে শনিবার রাস্তায় নামে মেইতেই জনগোষ্ঠীর সংগঠন। দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় ন্যায়বিচারের দাবিতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে মিছিল করেন আন্দোলনকারীরা। একই সঙ্গে জাতিগত সংঘাতের ফলে যাঁরা ঘরছাড়া হয়েছেন, তাঁদেরও পুনর্বাসনের দাবি তোলেন তাঁরা। মু্খ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার পরে সংগঠনের আহ্বায়ক ওয়াই কে ধীরেন অভিযোগ করেন, ২০২৩ সালের ৩ মে থেকে মণিপুরে যে সঙ্কটময় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার কোনও সুনির্দিষ্ট সমাধান এখনও মেলেনি। এর জন্য সরকার পক্ষের ‘সদিচ্ছার অভাব’-কেই দায়ী করেন তিনি।

Advertisement
আরও পড়ুন