SIR

নিবিড় সংশোধনে অসমের বহু নাগরিক ‘মৃত’ ও ‘স্থানান্তরিত’, ফর্ম-৭ অপব্যবহার নিয়ে সতর্ক করল কমিশন

কয়েক হাজার মানুষের নাম বাদ যাওয়ার প্রস্তাব আসছে। নেপথ্যে ফর্ম-৭। এত বিভ্রান্তিতে আতঙ্কিত অসমের বহু মানুষ। এই পরিস্থিতিতে ফর্মের অপব্যবহার নিয়ে সতর্ক করল কমিশন।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ ০৪:০৩

— এআই সহায়তায় প্রণীত।

অসমের মরিগাঁও জেলার বাসিন্দা ফরিদুদ ইউনূস। তাঁর পরিবারের ছয় জন সদস্য বাড়িতেই থাকেন। তবুও নির্বাচন কমিশনের তালিকা অনুসারে ওই বাড়ির তিন জন সদস্য ‘স্থানান্তরিত’। সম্প্রতি একটি শুনানিতে অংশ নিয়ে তাঁরা প্রমাণ করেন মরিগাঁও বিধানসভারই বাসিন্দা প্রত্যেকে। সংবাদ সংস্থা পিটিআই-এর তথ্য অনুযায়ী, কার অভিযোগে এই বিভ্রান্তি জানতে চেয়েছিলেন ইউনূস। ইআরও তখন তা জানাতে অস্বীকার করেন। নাম জানার জন্য আরটিআই করার পরামর্শ দেন তিনি। সেই অনুযায়ী আরটিআই করেছেন ইউনূস। অনেক আবার নিজেদের ‘মৃত’ জানতে পেরে সশরীরে উপস্থিত হয়েছেন শুনানির সময়ে। এই রকমই কয়েক হাজার মানুষের নাম বাদ যাওয়ার প্রস্তাব আসছে। নেপথ্যে ফর্ম-৭। এত বিভ্রান্তিতে আতঙ্কিত অসমের বহু মানুষ। এই পরিস্থিতিতে ফর্মের অপব্যবহার নিয়ে সতর্ক করল কমিশন।

Advertisement

প্রসঙ্গত, ফর্ম-৭ ব্যবহার করে উপযুক্ত কারণ দেখিয়ে তালিকা থেকে নিজের বা অন্যের নাম বাদের জন্য প্রস্তাব দেওয়া যায়। কমিশনের পক্ষ থেকে অবশ্য জানানো হয়েছে, ফর্ম পূরণ করলেই নাম বাদ যায় না। যাঁর নাম বাদ দেওয়ার প্রস্তাব তাঁর বা তাঁর পরিবারের কাছে নোটিস পাঠিয়ে কমিশন উপযুক্ত কারণ দেখাতে বলে। সেই সুযোগ প্রত্যেকে পাবেন। তাই কমিশনের আশ্বাস, বৃহস্পতিবার ফর্ম-৭ আবেদনের শেষ দিন হলেও এর ভিত্তিতে শুনানি চলবে আগামী ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি। প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত খসড়া তালিকায় নাম ছিল ২ কোটি ৫২ লক্ষ ১ হাজার ৬২৪ জনের। যা ওই বছরের জানুয়ারির তালিকায় থাকা নামের তুলনায় ১.৩৫ শতাংশ বেশি।

অভিযোগ, ফর্ম-৭ কে অসৎ উদ্দেশে হাতিয়ার করা হচ্ছে। কমিশন সূত্রে খবর, এক জন অভিযোগকারী অনেকের নাম বাদ দেওয়ার আবেদন জানাচ্ছেন। এই ধরনের অভিযোগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা ফর্ম-৭ পূরণের দাবি অস্বীকার করে দাবি করছেন তাঁদের নাম ভাঁড়ানো হয়েছে। জানা গিয়েছে, করণ রায় নামের এক ব্যক্তি নয় জনের নাম বাদ দেওয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন। পরে তিনি-সহ নয় জন নির্দিষ্ট কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে জানান, এমন কোনও আবেদনই জানানো হয়নি।

অসমে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে মরিগাঁও, ধুবড়ি, গোয়ালপাড়ায় কমিশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকেরা বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন। যাতে উল্লেখ রয়েছে, অযৌক্তিক আবেদন জমা দিলে শাস্তিযোগ্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Advertisement
আরও পড়ুন