Manikarnika Ghat Renovation

বারাণসীর মণিকর্ণিকা ঘাটের সংস্কার ঘিরে বিতর্ক, রয়েছে ‘বং কানেকশনও’! ‘ভুয়ো তথ্য’ ছড়ানোয় দায়ের একগুচ্ছ মামলা

বারাণসীর কাশী বিশ্বনাথ মন্দির চত্বরে বেশ কয়েক বছর ধরেই সংস্কারের কাজ চলছে। সম্প্রতি মন্দিরের নিকটবর্তী মণিকর্ণিকা ঘাটে সৌন্দর্যায়নের কাজ শুরু হয়। অভিযোগ উঠেছে, এই কাজের সময় প্রাচীন মন্দির এবং দেবদেবীর মূর্তি ভেঙে ফেলা হয়েছে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১৯:৫৪
মণিকর্ণিকা ঘাট চত্বরে চলছে সংস্কারের কাজ।

মণিকর্ণিকা ঘাট চত্বরে চলছে সংস্কারের কাজ। ছবি: সমাজমাধ্যম।

বারাণসীর ঐতিহ্যবাহী মণিকর্ণিকা ঘাটের সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতর অব্যাহত। উত্তরপ্রদেশের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, মণিকর্ণিকা ঘাটের সংস্কারের নামে সেখানে বুলডোজ়ার চালিয়ে পুরনো স্থাপত্য ভাঙা হয়েছে। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই দাবি এবং ছবিকে ‘ভুয়ো’ বলে আখ্যায়িত করেছে যোগী আদিত্যনাথের সরকার। ভুয়ো তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে রবিবার আপ সাংসদ সঞ্জয় সিংহ, বিহারের নির্দল সাংসদ পাপ্পু যাদব-সহ আট জনের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা করেছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ।

Advertisement

বারাণসীর কাশী বিশ্বনাথ মন্দির চত্বরে বেশ কয়েক বছর ধরেই সংস্কারের কাজ চলছে। সম্প্রতি মন্দিরের নিকটবর্তী মণিকর্ণিকা ঘাটে সৌন্দর্যায়নের কাজ শুরু হয়। অভিযোগ উঠেছে, এই কাজের সময় প্রাচীন মন্দির এবং দেবদেবীর মূর্তি ভেঙে ফেলা হয়েছে। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে প্রাচীন মন্দিরের ধ্বংসাবশেষের মধ্যে পড়ে রয়েছে দেবীমূর্তির ভাঙা অংশ। (যদিও এই ভিডিয়োগুলির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)

বারাণসী স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর লোকসভা কেন্দ্র হওয়ায় এই বিতর্ক অন্য মাত্রা পেয়েছে। মণিকর্ণিকা বারাণসীর ৮৪টি ঘাটের মধ্যে অন্যতম। এটিই বারাণসীর সবচেয়ে প্রাচীন ঘাট। স্থানীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, সবচেয়ে পবিত্রও বটে। প্রায় প্রতি দিন ১০০টি দেহের সৎকার হয় এই ঘাটে। স্থানীয় প্রশাসনের বক্তব্য, ঐতিহ্যবাহী এই ঘাটে পর্যাপ্ত ছাউনি না-থাকায় ঝড়-জল-রোদে অসুবিধার মুখে পড়তেন মৃতের পরিবার-পরিজনেরা। তা ছাড়া স্থানীয়দের দীর্ঘ দিনের অভিযোগ, ধোঁয়া নির্গমনের যথাযথ ব্যবস্থা না থাকায় দেহ সৎকারের সময় আশপাশে দূষণের সৃষ্টি হয়। কালো ছাইয়ে ঢেকে যায় গোটা এলাকা। তাই এই ঘাটকে কেন্দ্র করে ৯০ হাজার স্কোয়ার ফুট এলাকা জুড়ে সৌন্দর্যায়নের কাজ করতে চায় সরকার।

এই কাজে খরচ হবে ২০ কোটি টাকা। সামাজিক দায়বদ্ধতা প্রকল্পে (সিএসআর) এই অর্থ খরচ করছে পশ্চিমবঙ্গের সংস্থা রূপা ফাউন্ডেশন। মণিকর্ণিকা ঘাটে সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছিল ২০২৩ সালে। গঙ্গার জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে মাঝে কাজ থমকে যায়। সেই কাজ পুনরায় শুরু করা হয়েছে। সেপ্টেম্বরে কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।

মণিকর্ণিকা ঘাটে থাকা রানি অহল্যাবাই হোলকারের মূর্তিও ভেঙে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কিংবদন্তি অনুসারে, ঊনবিংশ শতকে কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরকে নতুন করে সাজিয়ে তুলেছিলেন অহল্যাবাই। তাই স্থানীয়রা তাঁকে দেবী হিসাবে স্মরণ করে থাকেন। সেই অহল্যাবাইয়ের মূর্তি ভাঙার অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা এসপি প্রধান অখিলেশ সিংহ যাদবের দাবি, বারণসীর সনাতনী সংস্কৃতিকে নষ্ট করা হচ্ছে। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে এই প্রসঙ্গে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী (নরেন্দ্র মোদী) বুলডোজ়ার চালিয়ে ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা করছেন আর সেই জায়গায় নিজের নামের ফলক লাগাতে চাইছেন।”

বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক শুরু হতেই শনিবার কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরে পুজো দিতে যান আদিত্যনাথ। তিনি বলেন, “উন্নয়নমূলক কাজে বাধা দিতে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।” জনগণের সামনে প্রকৃত সত্যটা তুলে ধরার জন্যই তাঁর এই বারাণসী সফর বলে জানান উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী। বারাণসীর জেলা প্রশাসনও মূর্তি বা প্রাচীন স্থাপত্য ধ্বংস হওয়ার অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে। বারাণসীর অতিরিক্ত জেলাশাসক অলক কুমার ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-কে জানিয়েছেন, সৌন্দর্যায়নের কাজ চলার সময় কেবল একটি উঁচু ঢিপির দেওয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাকি স্থাপত্য উত্তরপ্রদেশের সংস্কৃতি দফতর সংরক্ষণ করে রেখেছে বলে জানান তিনি। তিনি এ-ও জানান যে, সৌন্দর্যায়নের কাজ শেষ হওয়ার পর যাবতীয় স্থাপত্য, শিল্পকর্ম পুরনো জায়গায় পুনর্বহাল করা হবে।

Advertisement
আরও পড়ুন