SIR Work in West Bengal

দুপুরে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, বিকেলে তথ্যগত অসঙ্গতির তালিকা নিয়ে দিল্লিতে বৈঠক করলেন পশ্চিমবঙ্গের সিইও

সূত্রের খবর, দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দফতরে বৈঠকে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে কবে ওই তালিকা প্রকাশ করা হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ ২৩:০৪
West Bengal CEO Manoj Agarwal held a meeting with the election commission in the afternoon to discuss the list of logical discrepancies following the Supreme Court\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\'s order

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

সোমবার দুপুরেই তথ্যগত অসঙ্গতির (লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি) তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আর তার ঠিক কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের সদর দফতরে পশ্চিমবঙ্গের ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ নিয়ে জরুরি বৈঠক করলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজকুমার আগরওয়াল।

Advertisement

কমিশন সূত্রে আগেই জানা গিয়েছিল, তথ্যগত অসঙ্গতির কারণে ১.৩৬ কোটি ভোটারকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাঁদের শুনানির জন্য তলব করা হবে। পরে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছিল ৯৪ লক্ষে। সেই তালিকা ধরেই ভোটারদের শুনানির নোটিস পাঠানো হচ্ছে। রাজ্যের এই ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’র তালিকা নিয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সোমবার আলোচনার কথাই ছিল মনোজের। সেই বৈঠকের জন্য সোমবার সকালেই দিল্লি গিয়েছিলেন তিনি। বিকেলে বৈঠকের আগেই সুপ্রিম কোর্ট তথ্যগত অসঙ্গতির তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দেয়।

কমিশন সূত্রে খবর, দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দফতরে বৈঠকে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে কবে ওই তালিকা প্রকাশ করা হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তথ্যগত অসঙ্গতির তালিকা প্রকাশের দাবি অনেক দিন ধরেই তুলছে পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল তৃণমূল। খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এ নিয়ে সরব হয়েছেন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে লেখা চিঠিতেও তিনি বিষয়টির উল্লেখ করেছিলেন। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বার বার তথ্যগত অসঙ্গতির তালিকা প্রকাশের চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন কমিশনকে। দিল্লিতে জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে বৈঠকেও বিষয়টি উত্থাপিত করেছিলেন। সেই নিয়ে শোরগোলের মধ্যেই সুপ্রিম কোর্ট ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’র তালিকা প্রকাশ করতে বলল।

সোমবারের নির্দেশে দেশের শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করে জানিয়েছে, রাজ্যের সমস্ত গ্রাম পঞ্চায়েত দফতর, ব্লক অফিস এবং ওয়ার্ড অফিসে তথ্যগত অসঙ্গতির তালিকা টাঙাতে হবে কমিশনকে। প্রতিটি ব্লক অফিসে আলাদা কাউন্টার খুলতে হবে। সেখানেই সাধারণ মানুষ নথি জমা দিতে এবং তালিকা সংক্রান্ত আপত্তি জানাতে পারবেন। এই সমস্ত দফতরের শুনানিতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নথি জমা নিলে তার জন্য আলাদা রসিদ দিতে হবে ভোটারকে। নথির প্রাপ্তিস্বীকার করতে হবে লিখিত ভাবে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে ‘জয়’ হিসাবে দেখছে তৃণমূল।

অন্য দিকে, ভোটারদের আবেদন এবং আপত্তি জানানোর সময়সীমা শেষ হয়েছে সোমবার। রবিবার পর্যন্ত নতুন করে ভোটার তালিকায় নাম তোলা বা কারও নাম বাদ দেওয়ার আবেদন বা অভিযোগ জমা পড়ার পরিসংখ্যান আগেই জানিয়েছিল আনন্দবাজার ডট কম। সোমবারের পরিসংখ্যান বলছে, খসড়া তালিকা প্রকাশের আগে পর্যন্ত নতুন ভাবে ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য আবেদন জমা পড়েছিল ৩ লক্ষ ৩১ হাজার ৭৫ জনের। আর গত এক মাসে অর্থাৎ, খসড়া তালিকা প্রকাশের পর নতুন ভাবে নাম তোলার জন্য আবেদন জমা পড়েছে ৫ লক্ষ ৮৫ হাজার ৯৫১ জনের। রবিবার পর্যন্ত ভোটার তালিকা থেকে নাম দেওয়ার আবেদন জমা পড়েছিল প্রায় এক লক্ষ। সোমবার সেই সংখ্যা বেড়েছে মাত্র ১১৪টি। কমিশন সূত্রে এ-ও খবর, নামের বানানে ন্যূনতম বা সামান্য ভুল থাকলে আর শুনানিতে ডাকা হবে না।

গত ১৬ ডিসেম্বর খসড়া তালিকা প্রকাশ হয়। ১৭ ডিসেম্বর থেকে কমিশন বিভিন্ন অভিযোগ এবং আবেদন জমা নেয়। তথ্যগত ভুল বা অন্য নানা কারণে সংশ্লিষ্ট ভোটারদের শুনানিতে ডাকা হচ্ছে। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে শুনানি পর্ব। সোমবার কমিশন জানিয়েছে, ৭১ লক্ষ ৯৮ হাজার ৩০৬ জনকে এসআইআর শুনানির নোটিস পাঠানো হয়েছে। শুনানি সম্পন্ন হয়েছে ১৮ লক্ষ ৯৯ হাজার ৪৯২ জনের। শুধু সোমবারই শুনানি হয়েছে ১ লক্ষ ৫০ হাজার ৬০৪ জনের। কমিশন সূত্রে খবর, এই পরিসংখ্যানে হেরফের হতে পারে।

Advertisement
আরও পড়ুন