Abhishek Banerjee Manoj Agarwal

অভিষেকের কমিশন অভিযান! দিল্লির পরে কলকাতা, সিইও মনোজের সাক্ষাতের সময় চেয়ে ইমেল তৃণমূলের ‘সেনাপতি’র

ক্যামাক স্ট্রিট সূত্রে খবর, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশর আগেই মনোজের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চেয়ে ইমেল পাঠিয়েছিলেন অভিষেক। তবে সময়ের কারণে বিষয়টি দুইয়ে-দুইয়ে চার হয়ে গিয়েছে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ ২১:৫৯
Abhishek Banerjee sent email seeking appointment of CEO Manoj Aggarwal

(বাঁ দিকে) অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং পশ্চিমবঙ্গের সিইও মনোজ আগরওয়াল (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।

দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে দেখা করতে গত ৩১ ডিসেম্বর ১০ জনের প্রতিনিধিদল নিয়ে দিল্লি গিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আড়াই ঘণ্টার সেই বৈঠক নিছক সাক্ষাৎ থাকেনি। ‘অভিযানে’ পর্যবসিত হয়েছিল। এ বার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চেয়ে ইমেল পাঠালেন অভিষেক।

Advertisement

আগামী ২৭ জানুয়ারি ১০ জনের প্রতিনিধি দল নিয়ে মনোজের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চেয়েছেন অভিষেক। ক্যামাক স্ট্রিট সূত্রে খবর, সক্ষাতের সময় দেওয়া হবে ধরে নিয়েই অভিষেকের কর্মসূচি তৈরি রাখা হচ্ছে।

নির্বাচন সদনে জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে অভিষেকের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়েছিল। অভিষেক নির্বাচন সদন থেকে বেরিয়ে দাবি করেছিলেন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার তাঁর দিকে আঙুল তুলে কথা বলেছিলেন। তিনি পাল্টা বলেছিলেন, ‘‘আঙুল নামিয়ে কথা বলুন। আপনি মনোনীত, আমি মানুষের দ্বারা নির্বাচিত। আপনি দায়বদ্ধ আপনার প্রভুদের কাছে। আমি দায়বদ্ধ মানুষের কাছে।’’

সে দিন দিল্লিতে তৃণমূলের অন্যতম দাবি ছিল, এসআইআরের শুনানিতে বিএলএদের প্রবেশাধিকার দিতে হবে। না-দিলে তা আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানাতে হবে। তৃণমূল সেনাপতির এ-ও দাবি ছিল, ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’তে চিহ্নিত করা ১ কোটি ৩৬ লক্ষ ভোটারের তালিকা প্রকাশ করতে হবে। সেই পর্বে কমিশন তৃণমূলের কোনও দাবিকেই মান্যতা দেয়নি। কিন্তু তৃণমূল সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছিল। সেই মামলায় সোমবারই রায় দিয়েছে শীর্ষ আদালত। সেখানে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট বলেছে, ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’তে চিহ্নিত করা ১ কোটি ৩৬ লক্ষ ভোটারের তালিকা প্রকাশ করতে হবে কমিশনকে। বিএলএদের শুনানিতে প্রবেশের ক্ষেত্রেও অনুমতি দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

শীর্ষ আদালতের ওই নির্দেশের পরে যারপরনাই উল্লসিত শাসকদল। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের সভা থেকে সোমবার দুপুরে অভিষেক বলেছেন, ‘‘যারা বাংলার মানুষের মৌলিক অধিকার, ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চেয়েছে, তাদের দু’গালে দুটো কষিয়ে থাপ্পড় মেরেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত!” অভিষেক এ-ও বলেছেন, ‘‘বিজেপির এসআইআর-এর খেলা শেষ।” তৃণমূলের হয়ে সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করেন কপিল সিব্বল, দলের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান। রায়ের পরে কল্যাণকে ফোন করা হলে তিনি ধরেই বলেন, ‘‘পাগলা খাবি কী! ঝাঁঝেই মরে যাবি।’’ তৃণমূলের তরফে সাংবাদিক বৈঠক করে রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘অভিষেকের দিকে আঙুল তুলে কথা বলেছিলেন জ্ঞানেশ কুমার। সুপ্রিম কোর্ট আজ সেই আঙুল নামিয়ে দিয়েছে।’’

যদিও ক্যামাক স্ট্রিট সূত্রে খবর, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের আগেই মনোজের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চেয়ে ইমেল পাঠিয়েছিলেন অভিষেক। তবে সময়ের কারণে বিষয়টি দুইয়ে-দুইয়ে চার হয়ে গিয়েছে। আইনি পরিসরে জয়কে সাংগঠনিক ভাবে বুথ স্তরে প্রতিফলিত করতে চাইছে তৃণমূল। এই লক্ষ্যেই এসআইআর প্রক্রিয়ায় আগামী কয়েক সপ্তাহ দলের কর্মী, বিএলএদের কী কাজ হবে সেই মর্মে আগামী ২২ তারিখ ফের ভার্চুয়াল বৈঠক করবেন অভিষেক। যেখানে ১ লক্ষ সংগঠকের যোগ দেওয়ার কথা।

Advertisement
আরও পড়ুন