—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
মণিপুরের ট্রাংলাওবিতে হওয়া রকেট হামলায় দুই শিশুর মৃত্যু ও পরে প্রতিবাদীদের উপরে সিআরপির গুলিচালনায় ৩ জনের মৃত্যুর জেরে এলাকা এখনও শান্ত হয়নি। তার মধ্যেই একটি গাড়িতে কুকিরা অস্ত্র নিয়ে যাচ্ছে বলে খবর ছড়ানো ও তাকে কেন্দ্র করে রাস্তা অবরোধকারী ও নিরাপত্তাবাহিনীর সংঘর্ষে কুড়ি জনের বেশি জখম হলেন মণিপুরের বিষ্ণুপুর জেলায়। ফলে জেলায় আজ থেকে অনির্দিষ্ট কালের কার্ফু জারি করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও ভুয়ো তথ্য ছড়ানোর আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে মণিপুর সরকার পূর্ব ও পশ্চিম ইম্ফল, থৌবাল, কাকচিং ও বিষ্ণুপুর জেলায় মোবাইল ইন্টারনেট ও ডেটা পরিষেবা ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞা আরও দু’দিনের জন্য বাড়িয়েছে।
পুলিশ জানায়, এক মাদক পাচারকারীর কাছে ব্রাউন সুগার উদ্ধার হওয়ার পরে সে কোয়াকতা এলাকায় অস্ত্র মজুত রাখা একটি জায়গার কথা জানিয়েছিল। সেই অস্ত্র উদ্ধারেই যাচ্ছিল যৌথ বাহিনীর কনভয়। কিন্তু কনভয়ে অস্ত্র-সহ কুকিদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছে খবর ছড়ায়। তার জেরে বিষ্ণুপুরে একটি যাত্রিবাহী গাড়িতে আক্রমণ চালানো হয়। যাত্রীদের নামিয়ে আগুন ধরানো হয় গাড়িতে। খবর পেয়ে নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলে যেতে গেলে রাস্তা অবরোধ করা হয়। কাঁদানে গ্যাস, গুলি চালিয়ে রাস্তা বানায় যৌথ বাহিনী। তাদের গাড়িতে চলে আক্রমণ। পরে ওই গাড়ির ৬ যাত্রীকে জখম অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয় র্যাফ। থিনুনগেই, নিংথৌখং এলাকার সংঘর্ষ মিলিয়ে ৫ মহিলা-সহ ২০ জন জখম হয়েছেন। বিষ্ণুপুর জেলার বড় বাজারগুলো প্রায় এক সপ্তাহ ধরে বন্ধ। আংশিক ভাবে পরিবহণ পরিষেবা শুরু হয়েছে, তবুও বিভিন্ন স্থানে রাস্তা অবরোধ ও বিক্ষোভ চলছে। কার্ফু গত দুই দিন শিথিল থাকলেও আজকের ঘটনার পরে পুরোপুরি কার্ফু বলবৎ করা হল।
মণিপুরে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গোবিন্দাস কন্থৌজাম গত কাল নয়াদিল্লি গিয়ে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক করে রাজ্যের পরিস্থিতি সম্পর্কে বিশদে জানান। তিনি রাজ্যবাসীকে ধৈর্য ধরতে ও শান্তি বজায় রাখতে অনুরোধ করেছেন। এ দিকে বিধায়ক রাজকুমার ইমো সিংহ অমিত শাহকে চিঠি লিখে রকেট-বোমা হামলার ঘটনা নিয়ে এনআইএ-কে দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত সত্য সামনে আনার অনুরোধ জানিয়েছেন। চিঠিতে তিনি আরও বলেছেন, রাজ্যে এখনও প্রচুর মানুষ বাস্তুচ্যুত। এই অবস্থায় জনগণনা স্থগিত রাখা উচিত। এনআরসির কাজ সম্পন্ন করে ভোটার তালিকা থেকে অনুপ্রবেশকারীদের বাদ দেওয়ার পরেই জনগণনা করা উচিত।