নাগপুরে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ। ছবি: পিটিআই।
‘অপারেশন সিঁদুর’ পর্বে খোলাখুলি পাকিস্তানকে সমর্থন করা আজ়ারবাইজানের শত্রুরাষ্ট্র আর্মেনিয়াকে ধারাবাহিক ভাবে সামরিক সাহায্য দিচ্ছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। এ বার সেই তালিকায় সংযোজিত হল দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ‘মাল্টিব্যারেল রকেট লঞ্চার পিনাকা’। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংহ স্বয়ং পতাকা নাড়িয়ে পিনাকার আর্মেনিয়া যাত্রাj সূচনা করেছেন।
ভারতীয় প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা (‘ডিফেন্স রিসার্চ ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজ়েশন’ বা ডিআরডিও)-র নকশায় আর্মেনিয়ার জন্য পিনাকা তৈরি করেছে মহারাষ্ট্রের নাগপুরের ‘সোলার ডিফেন্স অ্যান্ড অ্যারোস্পেস লিমিটেড’। রবিবার সেখানেই হাজির ছিলেন রাজনাথ। ২০২২ সালের অক্টোবরে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ ওই দেশ থেকে পিনাকার তিনটি উন্নততর সংস্করণের বরাত এসেছিল ভারতে। রবিবার রওনা দিল প্রথম পিনাকা মাল্টিব্যারেল রকেট লঞ্চার সিস্টেমটি। পিনাকা ব্যবহার করা হয়েছিল কার্গিলের যুদ্ধে। বস্তুত ভারতীয় সেনাবাহিনীর ব্যবহারের জন্যই ডিআরডিও তৈরি করেছিল এই রকেট লঞ্চার। নাম দেওয়া হয়েছিল ‘শিবের ধনুক’ পিনাকের নামে। পিনাকা রকেট লঞ্চারের নতুন সংস্করণ আগের গুলির থেকে অনেক বেশি শক্তিশালী হয়েছে। পিনাকা ১০ বছর পর্যন্ত ব্যবহার করা যেত। এখন তা বেড়ে ১৫ বছর হয়েছে। বেড়েছে আরও বেশি দূরে আঘাত করার ক্ষমতাও। ৪০ কিলোমিটার থেকে বেড়ে ৭০ কিলোমিটার হয়েছে পিনাকার পাল্লা।
২০২১ সালে মাল্টি ব্যারেল রকেট লঞ্চার বা একসঙ্গে অনেকগুলির রকেট উৎক্ষেপণ যন্ত্র পিনাকার সফল পরীক্ষা হয়। প্রসঙ্গত, গত কয়েক বছরের ধারাবাহিক সীমান্ত সংঘর্ষপর্বে মুসলিম রাষ্ট্র আজ়ারবাইজান দরাজ সামরিক সাহায্য পাচ্ছে তুরস্ক ও পাকিস্তানের থেকে। খ্রিস্টানপ্রধান আর্মেনিয়ার সঙ্গে সীমান্ত সংঘর্ষে তাই তারা ‘সুবিধাজনক পরিস্থিতিতে’ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারত গত এক বছরে বিভিন্ন অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে আর্মেনিয়াকে। সম্প্রতি পাকিস্তান থেকে চিনা প্রযুক্তিতে নির্মিত জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান কিনেছে। তার ‘জবাব’ দিতে আর্মেনিয়া সরকার ‘তেসজ এমকে-২’ কেনার জন্য নয়াদিল্লির সঙ্গে আলোচনাও শুরু করেছিল। কিন্তু গত নভেম্বরে দুবাইয়ে ‘এয়ার শো’ চলাকালীন তেজসের ভেঙে পড়ার ঘটনার জেরে সাময়িক ভাবে সেই আলোচনা স্থগিত রয়েছে।