(বাঁ দিকে) গলওয়ান সংঘর্ষের দৃশ্য এবং অপ্রকাশিত সেই বই (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।
প্রাক্তন সেনাপ্রধান মনোজ নরবণের অপ্রকাশিত বই ঘিরে উত্তাল হয়েছিল লোকসভা। প্রশ্ন ওঠে, নরবণের অপ্রকাশিত বই সম্পর্কে ম্যাগাজ়িনে কী ভাবে নিবন্ধ লেখা হল? ঘটনাচক্রে, ওই নিবন্ধের অংশই সংসদে পাঠ করেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। শুধু তা-ই নয়, সমাজমাধ্যমেও এই বইয়ের প্রচার হয়। সেই বিষয় নিয়ে শোরগোল পড়তে এ বার আসরে নামল দিল্লি পুলিশ। সমাজমাধ্যমে প্রাক্তন সেনাপ্রধানের অপ্রকাশিত বইয়ের প্রচারের অভিযোগে এফআইআর দায়ের করল।
দিল্লি পুলিশের তরফে বিবৃতি দিয়ে এফআইআরের বিষয়টি জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘সমাজমাধ্যম এবং অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত তথ্যের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র ছাড়াই অপ্রকাশিত বই ‘ফোর স্টারস অফ ডেস্টিনি’র প্রচার করা হচ্ছে।’’
পুলিশ জানিয়েছে, ওই একই শিরোনামের বইয়ের একটি পিডিএফ কপি কিছু ওয়েবসাইটে পাওয়া যাচ্ছে। কিছু অনলাইন কেনাকাটার সাইটে প্রচ্ছদ-সহ বইটিকে এমন ভাবে দেখানো হচ্ছে, যা দেখে অনেকেই মনে করছেন বইটি বাজারে চলে এসেছে। দিল্লি পুলিশ এই গোটা বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে খতিয়ে দেখছে। একটি অপ্রকাশিত বই কী ভাবে ফাঁস হল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে ২০২২ সালের এপ্রিল পর্যন্ত দেশের সেনাপ্রধান ছিলেন নরবণে। তাঁর ওই বইয়ের অংশ সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে একটি ম্যাগাজ়িনে। ৪৪৮ পাতার ওই বইয়ে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে ডোকলামে ভারত এবং চিনের সেনা যখন মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়ে, তখন বেজিঙের সাঁজোয়া গাড়ি ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকে পড়েছিল। গত সপ্তাহে সংসদে সেই বিষয়টি দিয়ে বক্তৃতা শুরু করতে রাহুলকে থামানো হয়। প্রথমে ‘বাধা’ দেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ। তিনি যুক্তি দেন যে, অপ্রকাশিত বই সংসদে উদ্ধৃত করতে পারেন না রাহুল। রাহুল অপ্রকাশিত বইয়ের অংশ কেন পড়ছেন, সেই প্রশ্ন তোলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-ও। সেই নিয়ে সংসদে হইচই শুরু হতেই সংসদের নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ আনেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। রাহুলকে ‘বাধা’, নরবণের অপ্রকাশিত বইয়ের অংশ পড়তে না-দেওয়া নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়েছে বিরোধীরা। এ বার সেই বইয়ের প্রচার নিয়ে এফআইআর করল দিল্লি পুলিশ।