পাক-আফগান যুদ্ধের আবহে পাহারায় তালিবানি সেনা। আফগানিস্তানের নানগড়হর প্রদেশে। শনিবার। ছবি: রয়টার্স।
পাকিস্তানের সঙ্গে শান্তি-আলোচনায় বসতে চায় আফগানিস্তানের তালিবান সরকার। গত কাল কাবুল-সহ আফগানিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলিতে কমপক্ষে ২২টি জায়গায় বড়সড় হামলা চালিয়েছে ইসলামাবাদ। ২৭৪ জন তালিবান আধিকারিক ও সেনা নিহত। এর পরেই সমঝোতার কথা বলা শুরু করেছে তালিবান। তবে পাকিস্তান আজ বলে দিয়েছে, তারা কোনও আলোচনা চায় না। পাক বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র মোশারফ জ়াইদি বলেন, ‘‘কথা বলার কিছু নেই। কোনও সমঝোতার প্রশ্ন নেই। আফগানিস্তানকে সন্ত্রাস বন্ধ করতে হবে।’’ পাকিস্তানের পদক্ষেপে খুশি আমেরিকা। তারা জানিয়েছে, তারা পাকিস্তানের পাশে রয়েছে। একটি বিবৃতি দিয়ে আমেরিকার বিদেশ দফতর জানিয়েছে— ‘‘তালিবানের হামলা থেকে নিজেদের রক্ষা করার অধিকার পাকিস্তানের রয়েছে। আমেরিকা ওদের সমর্থন জানায়।’’
আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাকিস্তানের সামরিক পদক্ষেপের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন। আজ সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের প্রশংসা করে বলেন, ‘‘আমি হস্তক্ষেপ করতাম, কিন্তু ওদের দারুণ ভাল প্রধানমন্ত্রী রয়েছেন, দারুণ ভাল জেনারেল রয়েছেন, দারুণ ভাল নেতা রয়েছেন। ওই দু’জন মানুষকে আমি খুব শ্রদ্ধা করি। আমার মনে হয় পাকিস্তান মারাত্মক ভাল কাজ করছে।’’ আমেরিকার বিদেশ দফতরের রাজনীতি বিষয়ক উপ-সচিব অ্যালিসন এম হুকার জানান, তিনি পাক বিদেশসচিব আমনা বালোচের সঙ্গে কথা বলেছেন। যুদ্ধে নিহতদের পরিবারের জন্য শোকপ্রকাশ করেছেন অ্যালিসন। হুকার বলেন, ‘‘আমরা পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছি। তালিবানের হামলা থেকে পাকিস্তানের নিজেদের রক্ষা করার অধিকারকে আমরা সমর্থন জানাচ্ছি।’’
তালিবান এখন আলোচনায় বসতে চায়। তালিবান সরকারের মুখপাত্র জ়বিউল্লা মুজাহিদ জানিয়েছেন, হিংসা থামাতে তাঁরা আলোচনায় বসতে ইচ্ছুক। তিনি বলেন, ‘‘ইসলামিক এমিরেট অব আফগানিস্তান সব সময়ই আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানে রাজি। এটাও আমরা কথা বলেই সমাধানকরতে চাইছি।’’