Congress-DMK Alliance

স্ট্যালিনের শর্তেই রফা করল রাহুলের দল, রাজ্যসভার একটি আসন ছাড়ল ডিএমকে, বিধানসভা ভোটে ২৮টি

আগামী ১৬ মার্চ পশ্চিমবঙ্গ-সহ ১০টি রাজ্যের ৩৭টি রাজ্যসভা আসনে ভোট। তামিলনাড়ুর ছ’টি রাজ্যসভা আসনে এই পর্বে ভোট হবে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৪ মার্চ ২০২৬ ২২:৫৮
এমকে স্ট্যালিনের সঙ্গে রাহুল গান্ধী।

এমকে স্ট্যালিনের সঙ্গে রাহুল গান্ধী। ফাইল চিত্র।

তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী তথা ডিএমকে প্রধান এমকে স্ট্যালিন শুক্রবার পর্যন্ত চূড়ান্ত সময়সীমা দিয়েছিলেন। কিন্তু বুধবারই তাঁর শর্ত মেনে নিল সহযোগী দল কংগ্রেস। স্ট্যালিনের উপস্থিতিতে আগামী ১৬ মার্চের রাজ্যসভা ভোট এবং এপ্রিল-মে মাসের বিধানসভা ভোটের আসন রফা চূড়ান্ত হল চেন্নাইয়ে।

Advertisement

স্ট্যালিনের সঙ্গে বৈঠকের পরে তামিলনাড়ু প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি কে সেলভাপেরুন্তাগাই জানিয়েছেন রাজ্যসভা ভোটে একটি এবং বিধানসভা ভোটে ২৮টি আসনে লড়বে কংগ্রেস। ভোটের পরে ডিএমকে জোট জিতলে স্ট্যালিনের মন্ত্রিসভায় কংগ্রেসে ঠাঁই হবে কি না, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনও ঘোষণা হয়নি বুধবার। এর ফলে চিত্রতারকা ‘থলপতি’ বিজয়ের নতুন দল তামিলাগা ভেটরি কাজ়াগম (টিভিকে)-এর সঙ্গে কংগ্রেসের সমঝোতার সম্ভাবনায় ইতি হয়ে গেলে বলে মনে করা হচ্ছে।

আগামী ১৬ মার্চ পশ্চিমবঙ্গ-সহ ১০টি রাজ্যের ৩৭টি রাজ্যসভা আসনে ভোট। তামিলনাড়ুর ছ’টি রাজ্যসভা আসনে এই পর্বে ভোট হবে। পরিষদীয় পাটিগণিতের হিসাবে তার মধ্যে অন্তত চারটিতে ‘ইন্ডিয়া’র জেতার সম্ভাবনা। কিন্তু সহযোগী ডিএমকের সাহায্য ছাড়া ১৭ বিধায়কের দল কংগ্রেস একক ভাবে কোনও আসনে জিততে পারবে না। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়েই স্ট্যালিন চাপ বাড়িয়েছিলেন রাহুল গান্ধী-মল্লিকার্জুন খড়্গের দলের উপর। দক্ষিণ ভারতের ওই রাজ্যে ‘ইন্ডিয়া’র দুই সহযোগী দল ডিএমকে এবং কংগ্রেসের মধ্যে আসন্ন বিধানসভা ভোটে (পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গেই তামিলনাড়ুতেও এপ্রিল-মে মাসে বিধানসভা ভোট হওয়ার কথা) আসনরফা নিয়ে টানাপড়েনের আঁচ মিলছিল বেশ কিছু দিন থেকেই। এমনকি, দু’দশকের পুরনো সমঝোতা ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছিল।

প্রকাশিত কয়েকটি খবরে দাবি ছিল, ২৩৪ আসনের তামিলনাড়ু বিধানসভায় কংগ্রেস এ বার ৪০টি দাবি করেছিল। পাশাপাশি, ভোট পরবর্তী ক্ষমতা ভাগাভাগির (নতুন মন্ত্রিসভায় কংগ্রেস বিধায়কদের অন্তর্ভুক্তি) দাবিও তুলেছিল তারা। স্ট্যালিন শর্ত না মানলে তামিলনাড়ুর কংগ্রেস নেতাদের বড় অংশই ডিএমকে-র সঙ্গ ছেড়ে ‘থলপতি’ বিজয়ের টিভিকে-র সঙ্গে জোট গড়ার পক্ষপাতী ছিলেন। সম্প্রতি রাহুল ‘থলপতি’র শেষ ছবি ‘জন নায়গন’-এর মুক্তি আটকানোর চেষ্টাকে তামিল সংস্কৃতির উপরে আক্রমণ বলে অভিযোগ তোলায় সেই জল্পনা আরও বেড়েছিল। টানাপড়েনের ওই আবহে ‘রাহুল-ঘনিষ্ঠ’ বলে পরিচিত কংগ্রেসের ডেটা অ্যানালিটিক্স গোষ্ঠীর প্রধান প্রবীণ চক্রবর্তী সম্প্রতি বিজয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন।

ওই বৈঠকের পরেই টিভিকের তরফে রাহুলের রাজনীতির তারিফ করে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘‘রাহুল গান্ধী এবং থলপতি বিজয় পরস্পরের বন্ধু। তাঁরাই জোটের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।’’ এই পরিস্থিতিতে রাজ্যসভা ভোটকে ‘হাতিয়ার’ করে স্ট্যালিন চাপের রাজনীতির কৌশল নিয়েছিলেন। পরিণতি বলছে, তাঁর চাপের রাজনীতি সফল হয়েছে। প্রসঙ্গত, স্ট্যালিনের পিতা তথা তামিলনাড়ুর প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এম করুণানিধি ২০১১-র বিধানসভা ভোটে কংগ্রেসকে ৬৩ আসন ছেড়েছিলেন। তার পর থেকে ধারাবাহিক ভাবে রাহুল গান্ধীর দলের বরাদ্দ আসনে কোপ পড়েছে। ২০১৬ সালে ‘হাত’ প্রতীকের জন্য করুণানিধি বরাদ্দ করেছিলেন ৪১টি আসন। স্ট্যালিন দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০২১-এ ছেড়েছিলেন ২৫টি। এ বার তা তিনটি বাড়ল।

Advertisement
আরও পড়ুন