রাহুল গান্ধী। মঙ্গলবার লোকসভায়। ছবি: পিটিআই।
লোকসভায় চিন প্রসঙ্গ তুলে বক্তৃতায় ফের ‘বাধা’ পেলেন রাহুল গান্ধী। সোমবারের পর মঙ্গলবারও প্রাক্তন সেনাপ্রধান মনোজ মুকুন্দ নরবণের ‘অপ্রকাশিত’ বই ‘ফোর স্টারস অফ ডেস্টিনি’ থেকে চিন প্রসঙ্গ উত্থাপন করার চেষ্টা করেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল। কিন্তু স্পিকার ওম বিড়লা তাঁকে থামিয়ে সোমবারের নির্দেশের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। প্রসঙ্গত, সোমবার রাহুল ওই বইয়ের একাংশ পড়া শুরু করার পর রাহুলের উদ্দেশে স্পিকার বলেছিলেন, “নিয়ম অনুযায়ী সংবাদপত্রের প্রতিবেদন, বই বা এমন কিছু জিনিস যা প্রমাণিত নয়, তা সংসদে পাঠ করা যায় না।”
রাহুলের বক্তৃতা থামানোর প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন কংগ্রেস সাংসদেরা। শুরু হয় শোরগোল। সংসদে ‘খারাপ আচরণের’ জন্য গোটা বাজেট অধিবেশনের জন্য সাসপেন্ড করা হয় মানিকম টেগোর, অমরিন্দর সিংহ রাজা ওয়ারিং-সহ মোট আট জন কংগ্রেস সাংসদকে। আগামী ২ এপ্রিল সংসদের বাজেট অধিবেশন শেষ হওয়ার কথা। তত দিন পর্যন্ত অধিবেশনে যোগ দিতে পারবেন না এই সাংসদেরা। সেই সময় স্পিকারের আসনে ছিলেন অসমের বিজেপি সাংসদ দিলীপ শইকীয়া। তিনিই ওই সাংসদদের সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেন।
দুপুরে সাসপেন্ড হওয়া আট সাংসদকে সংসদ বাইরে বিক্ষোভ দেখান রাহুল। তিনি বলেন, “এই প্রথম বিরোধী দলনেতাকে রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর বক্তৃতা করতে দেওয়া হল না।” ভারত-মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি নিয়েও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিশানা করেন রাহুল। তিনি বলেন, “ভারত-মার্কিন) বাণিজ্যচুক্তি গত কয়েক মাস ধরে আটকে ছিল। গত রাতে নরেন্দ্র মোদী তাতে স্বাক্ষর করেছেন। ওঁর উপর প্রচুর চাপ ছিল।” একই সঙ্গে রাহুলের সংযোজন, “মূল বিষয় হল আমাদের প্রধানমন্ত্রী আপস করেছেন। নরেন্দ্র মোদীজি এই বাণিজ্যচুক্তিতে আপনার কঠোর পরিশ্রমকে বিক্রি করে দিয়েছেন। উনি দেশকে বিক্রি করছেন।”