মহসিন নকভি। —ফাইল চিত্র।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত-ম্যাচ বয়কট করেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার (আইসিসি) শাস্তি এড়ানোর উপায় খুঁজছেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) কর্তারা। অতীতের একটি ঘটনাকে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করতে চাইছেন মহসিন নকভিরা।
২০১৮ সালে নেওয়া আইসিসির ডিসপুট রেজোলিউশন কমিটির (ডিআরসি) একটি সিদ্ধান্তকে কাজে লাগাতে চাইছেন পিসিবি কর্তারা। এমনই বলা হয়েছে পাক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ডন’-এর প্রতিবেদনে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) দ্বিপাক্ষিক সিরিজ় খেলতে অস্বীকার করায় ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিল পিসিবি। ২০১৮ সালের নভেম্বরে সিরিজ় না হওয়ার ক্ষতিপূরণ বাবদ বিসিসিআইয়ের কাছ থেকে ৬৩ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৫৬৮ কোটি টাকা) ক্ষতিপূরণ দাবি করে পিসিবি। ২০১৪ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত সাতটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ় হওয়ার কথা ছিল ভারত এবং পাকিস্তানের। দু’টি সিরিজ় হওয়ার কথা ছিল পাকিস্তানে। সেই না হওয়া দু’টি সিরিজ়ের ক্ষতিপূরণ বাবদ ওই টাকা দাবি করেছিল পিসিবি। বিসিসিআই সিরিজ় না হওয়ার কারণ হিসাবে কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশ এবং তাদের অপারগতার কথা বলেছিল। আইসিসির ডিআরসি দু’পক্ষের বক্তব্য শোনার পর পাকিস্তানের সেই দাবি খারিজ করে দেয়।
ডিআরসির সেই সিদ্ধান্তকেই এ বার হাতিয়ার করতে চাইছেন পিসিবি কর্তারা। এ বার পাকিস্তান সরকার নির্দেশ দিয়েছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভারত-ম্যাচ বয়কটের। ২০১৮ সালে বিসিসিআইয়ের দেওয়া যু্ক্তি এবং ডিআরসির সিদ্ধান্তের উদাহরণ দিয়ে শাস্তি এড়াতে চাইছেন পাক কর্তারা। এ বার নিজেদের অপারগতার কথা তাঁরা আইসিসিকে জানাবেন। প্রায় একই কারণে ভারতকে ছাড় দেওয়া হলে কেন তাদের শাস্তি পেতে হবে সেই প্রশ্নও তুলবেন পিসিবি কর্তারা। প্রয়োজনে আইসিসির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতের দ্বারস্থ হতে চান নকভিরা।
ভারতের ক্ষেত্রে বিষয়টি ছিল দ্বিপাক্ষিক সিরিজ়। বহুদলীয় প্রতিযোগিতাগুলিতে নিরপেক্ষ দেশে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে না কথার কথা কখনও বলেনি বিসিসিআই। কিন্তু পাকিস্তান কোনও দ্বিপাক্ষিক সিরিজ় বয়কটের সিদ্ধান্ত নেয়নি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তা-ও তাদের আগের দাবি মেনে নিরপেক্ষ দেশে ম্যাচের আয়োজন করেছিল আইসিসি। তা ছাড়া ভারত-ম্যাচ বয়কটের কারণও পিসিবি সরকারি ভাবে জানায়নি আইসিসিকে।