Fitness Consistency

২ দিন জিমে যেতে না যেতেই শরীরচর্চার উৎসাহে ভাটা! হাল না ছাড়তে চাইলে মানুন ৩ কৌশল

শরীরচর্চা শুরু করার জন্য যত উৎসাহ থাকে, তা বন্ধ হতেও দেরি হয় না। হাল না ছেড়ে শরীরচর্চাকে কী ভাবে অভ্যাসে পরিণত করা যায়, জেনে নিন ৩ কৌশল।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২০:১৯
3 Essential Tricks to Maintain Your Fitness Habits

শরীরচর্চা করার উৎসাহ কমছে দিনে দিনে? কোন উপায়ে তা ধরে রাখবেন? ছবি: সংগৃহীত।

ছিপছিপে হয়ে উঠতেই হবে, পণ করেছেন স্রোতস্বিনী। জিমে ভর্তি হওয়ার উৎসাহ ছিল দেখার মতো। কিন্তু গুনে গুনে ঠিক সাত দিন গিয়েই উৎসাহে ভাটা পড়েছে। স্রোতস্বিনীর মতো অনেকেই আছেন, যাঁদের কেউ ভুঁড়ি কমাতে, কেউ সামগ্রিক ওজন কমাতে কেউ আবার আকর্ষক চেহারা পেতে জিমে ভর্তি হন। কেউ কেউ বাড়িতেও শরীরচর্চা শুরু করেন। তবে, শুরুতে যে উৎসাহ থাকে, তা শেষ পর্যন্ত থাকে না। কারও ব্যায়ামের মেয়াদ হয় ৭ দিন, কারও ১০ দিন, কারও আবার টেনেটুনে ২-৩ মাস।

Advertisement

কিন্তু ফল পেতে চাইলে যে কোনও কাজেই লেগে থাকা জরুরি। কী ভাবে শরীরচর্চার আগ্রহ জিইয়ে রেখে তা অভ্যাসে পরিণত করবেন? ফিটনেস প্রশিক্ষকেরা বলছেন, সাধারণ তিন কৌশল সঠিক ভাবে অনুসরণ করলেই শরীরচর্চা জীবনের অঙ্গ হয়ে উঠবে। আর একবার এই অভ্যাস তৈরি হলে, বাড়তি আগ্রহ ছাড়াই তা দৈনন্দিন যাপনের সঙ্গে জুড়ে যাবে।

শুরুটা হোক সংক্ষিপ্ত: অনেকেই মনে করেন শুরুর দিন থেকে এমন শরীরচর্চা করবেন, এক মাসেই ৪-৫ কেজি ওজম কমবে। কিন্তু ফিটনেস প্রশিক্ষকরা বলছেন, শুরুটা হওয়া দরকার সহজ এবং সংক্ষিপ্ত। যিনি প্রথম দিন শরীরচর্চা করবেন, তাঁর কখনওই ঘড়ি ধরে ১ ঘণ্টা ব্যায়াম করা ঠিক নয়। বরং শুরুতে জগিং, স্ট্রেচিং, ফ্রি-হ্যান্ড এক্সারসাইজ় করা দরকার। কতটা নিখুঁত হচ্ছে সেদিকে মন না দিয়ে নিয়ম করে তা অভ্যাস করতে হবে। প্রথম ২ দিন ১৫ মিনিট শরীরচর্চা করলে, তৃতীয় দিন তা বেড়ে ২০ মিনিট হবে। এক সপ্তাহ পরে তা ৩০ মিনিট হবে। এই ভাবে শরীরচর্চার সময় বাড়ানো দরকার। ধীরে ধীপে পেশির আড় ভাঙলে পরবর্তী ধাপের ব্যায়াম করা সহজ হবে। শুরুতেই লম্বা সময় ধরে নানা রকম শরীরচর্চা করলে শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়বে। এমন গায়ে ব্যথা হবে যে উৎসাহ এক সপ্তাহেই কমবে।

নিয়ম করে অভ্যাস: প্রথম শরীরচর্চা করলে গায়ে ব্যথা হবে। দু’দিন করার পর যেতে ইচ্ছা হচ্ছে না এমনও হবে। কিন্তু ফিটনেস প্রশিক্ষকেরা বলছেন, এই ইচ্ছাকে আমল দিলেই সব শেষ। তা হলেই আলস্য আসবে, উৎসাহ কমবে। বরং যত ব্যস্ততা বা গুরুত্বপূর্ণ কাজই থাক না কেন, স্বল্প সময়ের জন্য হলেও শরীরচর্চা করতেই হবে। অভ্যাস তৈরির জন্য এই ধাপ খুব জরুরি। একটানা শরীরচর্চা করা সম্ভব না হলে, দিনের মধ্যে বিভিন্ন সময় ভাগ করে নিন, কিন্তু সেই সময়ে সেই কাজটি করতে হবে।

বৈচিত্র্য: যে কোনও কাজের মতোই শরীরচর্চাতেও একঘেয়েমি আসতে পারে। নিয়ম করে একই ব্যায়াম রোজ করলে এমনটা হতে পারে। সে কারণে, শরীরচর্চাও বৈচিত্র দরকার। সপ্তাহ ২ দিন বরাদ্দ করুন ওজন নিয়ে শরীরচর্চার জন্য। একদিন জুম্বা করতে পারেন (সুরের ছন্দে শরীরচর্চা)। আবার একঘেয়ে রাখলে এক দিন জিম বন্ধ করে খোলা হাওয়ায় সাইকেল চালাতে পারেন। হাঁটা, সাঁতার, সাইকেল চালানো, প্রাণায়াম, যোগাসন— নানা ধরনের শরীরচর্চা পাল্টে পাল্টে করলে একঘেয়েমি কাটবে।

Advertisement
আরও পড়ুন