Pakistan's India Boycott In T20 World Cup

পাকিস্তানের ভারত-ম্যাচ বয়কটের সঙ্গে বাংলাদেশের নির্বাচনের যোগ! নকভিকে নিয়ে ক্ষোভ পিসিবিতেই, শুধুই রাজনীতি বোর্ড প্রধানের?

ক্রিকেটের স্বার্থ দেখছেন না পিসিবি চেয়ারম্যান। এই মুহূর্তে তাঁর কাছে প্রাধান্য পাচ্ছে উপমহাদেশের রাজধানী। ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের নির্বাচন হয়ে গেলেও ভারত-ম্যাচ নিয়ে সুর বদল করতে পারে পাকিস্তান।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২০:৩৫
picture of cricket

(বাঁ দিকে) মহসিন নকভি এবং মুহাম্মদ ইউনূস (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

বাংলাদেশের নির্বাচন মিটলেও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভারত-ম্যাচ নিয়ে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে যেতে পারেন মহসিন নকভি। ভারত-ম্যাচ বয়কটের নেপথ্যে পাকিস্তান ক্রিকেটের স্বার্থের থেকে বেশি রয়েছে বাংলাদেশ সরকারকে পাশে থাকার বার্তা দেওয়ার কৌশল। এমনই দাবি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) এক কর্তার।

Advertisement

ভারত-ম্যাচ বয়কট নিয়ে পিসিবির একাংশ ক্ষুব্ধ। এই সিদ্ধান্ত বুঝে শুনে পাক ক্রিকেটকে বিপদে ফেলে দেওয়ার মতো। সিদ্ধান্তের পিছনে রয়েছে উপমহাদেশের রাজনৈতিক সমীকরণ। বাংলাদেশের নির্বাচন মিটে গেলেও পিসিবি চেয়ারম্যান মত বদলে ফেলতে পারেন বলে আশঙ্কা পিসিবি কর্তাদের একাংশের।

পাক ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত এবং বর্তমান হাল হকিকত সম্পর্কে ওয়াকিবহাল এক ব্যক্তির আশঙ্কা অন্য। তিনি সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে বলেছেন, ‘‘নকভি যতটা ক্রিকেট প্রশাসক তার চেয়েও বেশি রাজনীতিবিদ। পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ক মন্ত্রী (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী)। উপমহাদেশের রাজনীতিতে পাকিস্তানের ভূমিকা নির্ধারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। পাকিস্তানের জাতীয় দলের উন্নতি নিয়ে উনি খুব একটা আন্তরিক নন। বরং বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে বেশি আগ্রহী। নির্বাচনের আগে পাকিস্তান মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের পাশে থাকতে চাইছে। এই সুযোগে নকভি নিজের নম্বর বাড়িয়ে নিতে চান। বাংলাদেশের নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারি। ভারত-পাক ম্যাচ ১৫ ফেব্রুয়ারি। মাঝে দু’দিন থাকবে। তার মধ্যে নকভি ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে যেতে পারেন। না খেললে পাকিস্তানকে আইসিসি বহিষ্কার করতে পারে। সেই ঝুঁকি না-ও নিতে পারেন তিনি।’’ তাৎপর্যপূর্ণ হচ্ছে, ভারত-ম্যাচ বয়কটের কথা আইসিসিকে সরকারি ভাবে না জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নকভিরা।

অন্য দিকে, পিসিবির এক কর্তা পিটিআইকে বলেছেন, ‘‘ভারতের বিরুদ্ধে না খেললে জরিমানার কথা বলা হচ্ছে। বিশ্বকাপের সম্প্রচারকারী সংস্থাকে দিয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হচ্ছে। এ সবের বিরুদ্ধে ডিআরসিতে গেলেও লাভ হবে না বলেও জানানো হয়েছে।’’ তিনি আরও বলেছেন, ‘‘আমাদের বার্তা দেওয়া হয়েছে, পিসিবির দাবি মেনে নিরপেক্ষ দেশে ম্যাচের আয়োজন করা হয়েছে। ভারতের মাটিতে খেলতে না চাওয়ার দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে। তার পরও সরকারের নির্দেশে ভারত-ম্যাচ না খেললে চুক্তিভঙ্গ হবে। আইসিসির বিপুল আর্থিক ক্ষতির দায় পাকিস্তানকেই নিতে হবে।’’

পাক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিশ্বকাপ নিয়ে বৈঠক করার আগে ক্রিকেটারদের সঙ্গেও আলোচনা করেননি নকভি। যা নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে সলমন আলি আঘাদের মধ্যেও। গত রবিবার সমাজমাধ্যমে পাক সরকারের ঘোষণায় ক্রিকেটারেরা বিস্মিত হলেও তাঁরা কোনও মন্তব্য করেননি। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজ়ের পর সলমন শুধু বলেছিলেন, তাঁরা সরকার এবং বোর্ডের নির্দেশ মেনে বিশ্বকাপ খেলবেন। বাকি আর কিছুই তাঁদের হাতে নেই।

Advertisement
আরও পড়ুন