মাকড়সার পায়ের মতো আঁখিপল্লবের দিকে বাড়ছে আকর্ষণ। ছবি: সংগৃহীত।
এক সময় চোখের পলকের সাজ মানেই ছিল নিখুঁত ভাবে প্রত্যেকটি চোখের পাতা আলাদা আলাদা ভাবে সাজিয়ে রাখা। একটি পাতাও যেন অন্যটির সঙ্গে লেগে না থাকে। কিন্তু সেই নিয়মে এ বার বড়সড় ভাঙন। আবার ফিরে এসেছে দলা পাকানো মাস্কারার সাজ। যেখানে চোখের পাতার সামান্য অগোছালো ভাবই হয়ে উঠছে ‘স্টাইল স্টেটমেন্ট’।
এই সাজ একেবারেই নতুন নয়। প্রায় এক দশক আগে, ‘গ্রাঞ্জ মেকআপ’-এর দাপটে এই লুকই ছিল সকলের পছন্দ। এখন সেই পুরোনো ঢং নতুন করে নিয়ে ফিরছে। যেখানে ‘সুন্দর’, ‘সাজানো’, ‘পরিপাটি’র আর জায়গা নেই।
কী ভাবে এই লুক পাওয়া সম্ভব?
অতিরিক্ত নিখুঁত সাজ এখন অনেকের কাছেই একঘেয়ে। তাই চোখের পলকের সাজে ফিরছে ব্যক্তিত্ব আর স্বাধীনতা। দলা পাকানো মাস্কারা সেই স্বাধীনতারই প্রতীক। এখানে ‘ভুল সাজ’ বলে কিছু নেই। পলক যত বেশি আঠালো, দলা পাকানো হবে, তত বেশি ভাল।
এই লুকে মাস্কারাই মুখ্য ভূমিকায়। সেটি পরার সময়ে নানা রকমের কায়দা করা যায়। পরতে হবে একাধিক স্তরে। পলকগুলিকে আলাদা করার বদলে ইচ্ছে করেই যেন জোড়া লাগানো হয়। ফলে চোখের পাতা ঘন দেখায়, দৃষ্টিতে আসে নাটকীয় ভাব। প্রথমে মাস্কারা ব্রাশে ভাল করে মাস্কারা নিন এবং চোখের পলকের গোড়া থেকে উপরের দিকে টানুন। খেয়াল রাখবেন, প্রতিটি পাতা যেন আলাদা না হয়। প্রথম কোট দেওয়ার পর মাস্কারা পুরো শুকোতে দেবেন না, ভেজা থাকতে থাকতেই আবার একই ভাবে ব্রাশ চালান। এবার ব্রাশের মাথা দিয়ে বা ট্যুইজার দিয়ে চোখের পলকের কয়েকটি পাতা একসঙ্গে আলতো করে চেপে ধরুন৷ এতে পাতাগুলি জুড়ে গিয়ে দলা পাকিয়ে যাবে। কোথাও দলা কম হলে সেখানে আবার সামান্য মাস্কারা দিন, কিন্তু আঁখিপল্লবের চিরুনি ব্যবহার করবেন না। এই ভাবে মাস্কারা পরলে মনে হবে যেন, মাকড়সার পা। আর তেমন চেহারা আনাই লক্ষ্য এখানে।
এই সাজ খুব পরিমার্জিত নয়, বরং খানিকটা রুক্ষ, খানিকটা এলোমেলো। এই মাস্কারা লুকের সঙ্গে জড়িয়ে আছে গ্রাঞ্জ মেকআপের স্মৃতি। চোখের সাজে এ বার আর নিখুঁত হওয়ার নিয়ম মানতে হবে না। একটু দলা পাকানো, একটু বিশৃঙ্খলাই এখন নতুন ট্রেন্ড।