প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। — ফাইল চিত্র।
বেঙ্গালুরুতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাস্থলের তিন কিলোমিটারের মধ্যে বিস্ফোরক উদ্ধারকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়াল। রবিবার বেঙ্গালুরু কাগালিপুরার নিকটবর্তী একটি আশ্রমের কাছে বিস্ফোরকগুলি পাওয়া গিয়েছে বলে খবর। এক সন্দেহভাজনকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
রবিবার বেঙ্গালুরুতে একাধিক কর্মসূচি রয়েছে মোদীর। পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মোদী যে পথে কোনও অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছোন, সেই পথ আগে পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। রবিবার সকালে নিয়মিত পরীক্ষার সময় ফুটপাতের পাশ থেকে দু’টি জিলেটিন স্টিক পাওয়া যায়। সঙ্গে সঙ্গে ওই এলাকা-সহ সভাস্থলের নিরাপত্তা বাড়িয়ে দেওয়া হয় কয়েক গুণ। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় বম্ব স্কোয়াড এবং ফরেনসিক দল।
পুলিশ এই ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে। গ্রেফতার করা হয়েছে এক জনকে। তবে এর নেপথ্যে কেউ বা কোনও চক্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে সন্দেহভাজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তদন্তকারীরা। এক সূত্রকে উদ্ধৃত করে নিউজ় ১৮ জানিয়েছে, রবিবার সকালে ধৃতই থানায় ফোন করেছিলেন। ফোন করে তিনি জানিয়েছিলেন, হ্যাল বিমানবন্দর এবং আর্ট অফ লিভিং সেন্টারের কাছে বিস্ফোরক রয়েছে। ওই আর্ট অফ লিভিংয়েই মোদীর সভা ছিল। খবর পাওয়ামাত্রই ওই দুই জায়গায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।
তল্লাশির সময় হ্যাল বিমানবন্দর চত্বরে কোনও সন্দেহজনক বস্তু পাওয়া যায়নি। তবে মোদীর সভাস্থল থেকে কিছুটা দূরে বিস্ফোরক উদ্ধার হয়। তার পরেই যিনি ফোনে পুলিশকে খবর দিয়েছিলেন, কোরামাঙ্গালার এলাকায় তাঁর বাড়ি থেকে প্রথমে তাঁকে আটক করে পুলিশ। পরে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। কী ভাবে ওই বিস্ফোরকগুলি ঘটনাস্থলে পৌঁছোল, কারা নিয়ে গিয়েছিলেন, কার নির্দেশে এই কাজ হয়েছে— তা বিস্তারিত খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তদন্তের স্বার্থে ধৃত সন্দেহভাজনের বাবা-মাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তাঁরা। তদন্তকারীরা জানিয়েছে, ওই ব্যক্তি অতীতেও বেঙ্গালুরুতে ভিআইপিদের সফরের সময় এ ধরনের হুমকি দিয়ে ফোন করেছিলেন। সেই সব ঘটনার সূত্র ধরে তাঁকে আটকও করা হয়েছিল। তবে পরে জানা যায়, ওই ব্যক্তি মানসিক ভাবে সুস্থ নন। তাই তাঁকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। তবে এ বার প্রধানমন্ত্রীর সফরকালে এ ধরনের ঘটনা আবার তাঁকে তদন্তকারীদের আতশকাচের তলায় নিয়ে এসে ফেলল।