India-France Defence Ties

মেয়াদ ফুরোচ্ছে মার্কিন এম২৭০-এর! ভারতীয় ‘মাল্টি ব্যারেল রকেট লঞ্চার’ পিনাকায় নজর ইউরোপীয় মহাশক্তির

পিনাকা প্রথম ব্যবহার করা হয়েছিল কার্গিলের যুদ্ধে। গোড়ায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর ব্যবহারের জন্যই ডিআরডিও তৈরি করেছিল এই মাল্টিব্যারেল রকেট লঞ্চার। নাম দেওয়া হয়েছিল ‘শিবের ধনুক’ পিনাকের নামে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬:৪১
France keen to buy indigenously developed Pinaka multi-barrel rocket launcher

পিনাকা ‘মাল্টি ব্যারেল রকেট লঞ্চার’। —ফাইল চিত্র।

আন্তর্জাতিক অস্ত্র বাজারে ক্রমশই চাহিদা বাড়ছে ভারতে তৈরি ‘পিনাকা’র। মধ্য এশিয়ার দেশ আর্মেনিয়ার পরে এ বার পশ্চিম ইউরোপের দেশ ফ্রান্স দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই ‘মাল্টি ব্যারেল রকেট লঞ্চার’ কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সূত্র উদ্ধৃত করে প্রকাশিত কয়েকটি প্রতিবেদনে দাবি। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি মুম্বইয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁর বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনার সময় এমন প্রস্তাব এসেছে। ওই বৈঠকেই ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য আরও ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমানের বরাত দিয়েছে নয়াদিল্লি।

Advertisement

দেশের আর পাঁচটি ক্ষেত্রের মতো প্রতিরক্ষা শিল্পেও ক্রমশ ‘আত্মনির্ভর’ হয়ে উঠছে ভারত। এক সময় বিশ্বের উন্নত দেশগুলির অস্ত্রের জন্য মুখাপেক্ষী থাকা ভারত বর্তমানে বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশকে অস্ত্র বিক্রি করছে। আন্তর্জাতিক বাজারে সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে ভারত-রাশিয়া যৌথ উদ্যোগে নির্মিত ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রের। ধীরে ধীরে ‘পিনাকা’র বাজারও ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ভারতীয় প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা (‘ডিফেন্স রিসার্চ ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজ়েশন’ বা ডিআরডিও)-র নকশায় আর্মেনিয়ার জন্য পিনাকা তৈরি করেছে মহারাষ্ট্রের নাগপুরের ‘সোলার ডিফেন্স অ্যান্ড অ্যারোস্পেস লিমিটেড’। ডিআরডিও-র প্রযুক্তিগত সহায়তায় ভারতীয় সেনার জন্য দু’ধরনের ‘পিনাকা’ বানাচ্ছে ইকোনমিক এক্সপ্লোসিভ লিমিটেড (ইইএল) এবং মিউনিশন্‌স ইন্ডিয়া লিমিটেড (এমআইএল)।

নব্বইয়ের দশকের গোড়ায় রাশিয়ার গ্র্যাড বিএম-২১ রকেট লঞ্চারের পরিবর্ত হিসাবে ‘পিনাকা’-র আবির্ভাব। ১৯৯৯ সালে কার্গিল যুদ্ধের সময় এই ‘মাল্টি ব্যারেল রকেট লঞ্চার’কে সফল ভাবে কাজে লাগানো হয়েছিল। পাহাড়ের উপর পাকিস্তানি সেনাদের বাঙ্কার গুঁড়িয়ে দিতে এর প্রথম ব্যবহার করেছিল ভারত। গত দেড় দশকে ধাপে ধাপে এই সিস্টেমকে আরও আধুনিক করা হয়েছে। বেড়েছে পাল্লা এবং নিখুঁত নিশানার দক্ষতা। পিনাকায় দু’টি প্যাড রয়েছে। যার প্রতিটিতে ৬টি করে রকেট রয়েছে। ৪৫ সেকেন্ডের মধ্যে ১২টি রকেট ছুড়তে পারে এই লঞ্চার। পিনাকা-র আগের পাল্লা ছিল ৪০-৪৫ কিলোমিটার। বর্তমানে সেটি বেড়ে হয়েছে ৯০-১৩০ কিলোমিটার। ট্রাকে চাপিয়ে সহজেই এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া যায়। বর্তমানে ফরাসি সেনার হাতে আমেরিকার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে তৈরি হয়ে এম২৭০ ‘মাল্ট লঞ্চ রকেট সিস্টেম’ রয়েছে। কিন্তু সেগুলির মেয়াদ ২০২৭ সালের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে। এ বার তাই ভারতের ‘শিবের ধনুক’ (‘পিনাক’, যার অনুপ্রেরণায় ‘পিনাকা’ নামকরণ)-এ নজর দিয়েছে প্যারিস।

Advertisement
আরও পড়ুন